নিদাঘের তপ্ত মাটি চুইয়ে আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টি। চরাচরে শুরু হয় এক আদিম উৎসব। সনাতন বিশ্বাস মতে, এই সময়েই মা ধরিত্রী ঋতুমতী হন। বর্ষার জলকণায় গর্ভধারণের প্রস্তুতি নেয় পৃথিবী। দেবীর এই রজস্বলা দশাকে কেন্দ্র করেই উদযাপিত হয় ‘অম্বুবাচী’। কামাখ্যাপীঠের আঙিনা ছাড়িয়ে এই বিশ্বাসের স্রোত বয়ে গিয়েছে বাংলার ঘরে ঘরে। অম্বুবাচী শুরুর পর তিন ধিরে চলে এই উৎসব। চলতি বছরে অম্বুবাচী শুরু হচ্ছে ২২ জুন (৭ আষাঢ়) রাত্রি ৭.৩৮ মিনিটে। সম্পাতি ২৬ জুন (১১ আষাঢ়) রাত্রি ১০.৫৭ মিনিটে। তবে ভক্তি আর নিয়মের এই অরণ্যে পা রাখার অধিকার কিন্তু সবার নেই।

আরও পড়ুন:
কারা পাবেন ব্রতের অধিকার?
লৌকিক আচারে অম্বুবাচী পালনের ক্ষেত্রে রয়েছে কড়া বিধিনিষেধ। চাইলেই যে কেউ এই ব্রত পালন করতে পারেন না। সাধারণত বিধবা নারী, তন্ত্রসাধক, ব্রহ্মচারী এবং সাধু-সন্ন্যাসীরাই এই তিথি পালন করে থাকেন। সনাতন ধর্মে সধবা নারীদের জন্য এই ব্রত পালনের নিয়ম নেই। তাঁরা ইচ্ছা করলেও এই আচার থেকে বিরত থাকেন।
ধরিত্রীর ‘অশুচি’ দশা, নিয়ম কী?
- অম্বুবাচীর তিন দিন মা ধরিত্রীকে ‘অশুচি’ বলে গণ্য করা হয়। তাই এই সময়ে উনুনে আগুন জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষেধ। মাটির বুকেই আগুন জ্বলে। তাই ধরিত্রীকে কষ্ট না দিতেই এই প্রাচীন প্রথা। ব্রতকারীরা এই তিন দিন সম্পূর্ণ অন্নহীন থাকেন। আগুনে রান্না করা কোনও খাবার তাঁরা স্পর্শ করেন না। ফলমূল, ভেজানো সাবু আর ফলাহারেই কাটে তাঁদের দিন।
- নিয়মের কড়াকড়ি রয়েছে প্রাত্যহিক জীবনেও। এই সময়ে ব্যবহৃত পোশাক বা বিছানার চাদর অন্য কোনও শুদ্ধ বস্ত্রের সঙ্গে ছোঁয়ানো যায় না। শরীরী শুদ্ধির ক্ষেত্রেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। তিন দিন ধরে তেল, সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহার করা বারণ।
- এই বিশেষ তিন দিন বাড়ির দেবদেবীরাও থাকেন নিভৃতে। ঘরের সমস্ত দেবীর মুখ লাল কাপড়ে ঢেকে রাখা হয়। দেবীর রূপ দর্শন এই সময়ে নিষিদ্ধ। তিন দিন পর, অম্বুবাচীর তিথি কাটলে শুরু হয় শুদ্ধিকরণ। সবার আগে ধুয়ে ফেলা হয় ঘরের জামাকাপড় ও বিছানার চাদর। তারপর ব্রতকারীরা সাবান-শ্যাম্পু মেখে স্নান করে শুদ্ধ হন।
- শেষে আসে দেবীদের শুচিতার পালা। লাল কাপড় সরিয়ে দেবতাদের স্নান করানো হয়। পরানো হয় নতুন বস্ত্র। সারা ঘরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে তবেই ভাঙা হয় অম্বুবাচীর ব্রত। প্রকৃতির এই পুনর্জন্মের উৎসব এভাবেই মিলেমিশে রয়েছে সনাতন ভক্তি ও লোকাচারে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ভিডিও ভাইরাল হতেই উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার ‘হিন্দু বীর’ স্বতন্ত্র, এসসি-এসটি ধারায় মামলা
-
‘জ্ঞান না দিয়ে…’ সিপিএমের একমাত্র বিধায়কের নিশানায় দলেরই ‘ফেসবুক বিপ্লবী’রা
-
প্রথম স্বামীকে ছেড়ে দ্বিতীয় বিয়ে, ঘরের বাইরে বধূর গলাকাটা দেহ! চাঞ্চল্য দুর্গাপুরে
-
‘বৈভবের জন্য আমার স্ত্রীও দলীপ ট্রফি দেখছে’, ভবিষ্যতের ‘রাজা’কে নিয়ে মুগ্ধ বিশ্বজয়ী তারকা
-
ডেঙ্গি রুখতে ‘অ্যাকশনে’ অগ্নিমিত্রা, আসানসোলের সব বরোতে নজরদারি চালাবে ‘সিটি ওয়াচ কার’