সন্তানপালন এককালীন কাজ নয়, সারাজীবনের দায়িত্ব। একটা বয়সে যখন বেশিরভাগ শিশুই বদমেজাজি বা দুরন্ত হয়ে ওঠে, তখন তাদের সামলানো বাবা-মায়ের কাছে নিতান্তই ঝক্কির হয়ে যায় বটে। এমন বয়সে বকুনি দিলে তাতে শুধরানোর বদলে বাবা-মাকেই যেন শত্রু ঠাউরে বসে সে।

আরও পড়ুন:
মনোবিদরা বলেন ৫:১ পেরেন্টিং রুলের কথা (The 5:1 Parenting Rule)।
ছোটরা আশপাশের পরিবেশ থেকেই শিক্ষা নেয়। ভালো জিনিস শেখার পাশাপাশি খারাপ অভ্যাসও তৈরি হয় তাই। শাসন না করে স্রেফ ভালোবাসায় সন্তানকে সুশিক্ষা দেওয়া সম্ভব হয় না। তার ভালো ভবিষ্যতের কথা ভেবেই অভিভাবকদের বকাবকি করতেই হয়। কিন্তু বাবা-মায়েরা যখনই বকেন, তা যতই ভালোর জন্য হোক না কেন, সন্তানের কাছে সাধারণত গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয় না। হোমওয়ার্ক শেষ করা, ভাইবোনদের সঙ্গে মারপিট না করা, মোবাইল না ঘাঁটা— এই সবেতেই যে শিশুটির মঙ্গল, তা বোঝার বয়স হতে এখনও ঢের দেরি। তাই বারণ শুনেই প্রাথমিকভাবে শিশুর মনের ভিতর পুঞ্জিভূত হয় অভিভাবকের প্রতি রাগ, ভয় অথবা বিরক্তি। এমন অনুভূতি শিশুটির সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার পরিপন্থী।
আলোচ্য পেরেন্টিং রুল বলে, বাবা-মায়ের তরফ থেকে শিশুকে বলা ইতিবাচক ও নেতিবাচক কথার অনুপাত হতে হবে ৫:১। অর্থাৎ, যদি শিশুটিকে একটি তিরস্কারমূলক কথা বলা হয়, তবে খেয়াল রাখতে হবে তাকে যেন ৫টি পজিটিভ কথাও বলা হয়। এতে তার মনে রাগের বদলে, বাবা-মায়ের কথা বুঝতে চাওয়ার ইচ্ছে তৈরি হবে। সে অনুভব করবে যে, বাবা-মায়ের কাছে সে মূল্যবান। তার ভালো কাজের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে বড়দের কাছে। আপনা থেকেই তার মধ্যে প্রশংসা লাভের ইচ্ছে বাড়বে। ফলে বাবা-মায়ের বারণও সে মনে রাখবে। চেষ্টা করবে ভালো কাজের সংখ্যা বাড়ানোর, যাতে আগামীতে আরও প্রশংসা জোটে।

সত্যিই এমনটা রোজের জীবনে সব সময় হয়ে ওঠে না। সারাদিন শাসন করার মতো যত ঘটনা ঘটে, প্রশংসা করার মতো কি আর তত ঘটে? না, কিন্তু মনোবিদরা বলছেন, এমন ক্ষেত্রে প্রশংসার বস্তু খুঁজে নিতে হবে অভিভাবককেই। শিশুটি যদি নিজের জিনিস গুছিয়ে রাখে, অপছন্দের সবজিও সোনামুখ করে খেয়ে নেয়, ফোন স্ক্রোল না করে পড়াশুনায় মন দেয়, তবে তাকে তারিফ করুন। মাথায় হাত বুলিয়ে দিন, অথবা পছন্দের খাবার রান্না করে খাওয়ান। আরও বড় কোনও ভালো কাজ করলে, সপ্তাহান্তে ঘুরতে নিয়ে যান।
সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলতে গিয়ে কখন যেন প্রশংসাসূচক কথা বলতে ভুলেই যান বেশিরভাগ অভিভাবক। অথচ এই সামান্য ইতিবাচক কথাতেই বদলে যেতে পারে সন্তানের ভাবনাচিন্তার ধরন, জীবনের মান।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
তারকেশ্বর, আগরপাড়ায় সিপিএম কার্যালয়ে ভাঙচুর-আগুন, মধ্যরাতে হামলার নেপথ্যে কারা?
-
২০৩৬ অলিম্পিকের লক্ষ্যে ‘খেলো ইন্ডিয়া’য় জোর মোদির, উলুবেড়িয়া কলেজে বিশেষ কর্মসূচি
-
কংগ্রেস নেতা ও ছেলে খুনে বড় মোড়! ভিনরাজ্যে নাকাশিপাড়া পুলিশের জালে ২ সুপারি কিলার
-
ফুটপাতবাসীদের পুনর্বাসন, মানবিক কর্তব্য
-
ঋতব্রত-মমতার দ্বন্দ্বে নেই! ‘আমরাই আসল তৃণমূল’, জোরাল দাবি ভিনরাজ্যের নেতার