সংবাদপত্রের পাতা খুললেই চোখ আটকে যায় সাম্প্রতিক নানা খবরে। কোথাও উচ্চপদে কর্মরত স্ত্রীর থেকে আয় কম হওয়ায় অবসাদে ভুগে চরম সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন স্বামী। আবার কোথাও বা দাম্পত্য কলহ পৌঁছচ্ছে আদালতের দোরগোড়া পর্যন্ত। আধুনিক সমাজ নারী-পুরুষের সমানাধিকারের কথা বললেও, বাস্তব জীবন কিন্তু অন্য এক মানসিক টানাপোড়েনের গল্প বলছে। স্ত্রীর পকেটের টানটান ভাব কি নিঃশব্দে ভাঙন ধরাচ্ছে পুরুষের আত্মবিশ্বাসে? ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এ প্রকাশিত ১৭ বছরের দীর্ঘ পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে সমাজতাত্ত্বিকদের গবেষণা অন্তত তেমনই চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আরও পড়ুন:
সমীক্ষা বলছে, অর্থ উপার্জনে নারী এগিয়ে গেলেও পরিবারের মনস্তাত্ত্বিক সমীকরণ একটুও বদলায়নি। যেখানে স্ত্রী পরিবারের সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৭০ শতাংশ বা তার বেশি আয়ের দায়ভার সামলান, সেখানে স্বামীদের ‘সিরিয়াস সাইকোলজিক্যাল ডিস্ট্রেস’ বা তীব্র মানসিক উদ্বেগে ভোগার ঝুঁকি প্রায় আড়াই গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এমনকী লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একই ছবি। পুরুষদের বিষণ্ণতার হার প্রায় দেড় গুণ বেশি দেখা যাচ্ছে। পুরুষালি সামাজিক ইগো এবং এতদিন ধরে চলে আসা প্রথাগত মানসিকতাই কি এই অবদমিত যন্ত্রণার মূল কারণ?
‘ডাবল বার্ডেন’ ও সম্পর্কের তিক্ততা
চাপ কিন্তু শুধু পুরুষের একার নয়। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, মূল উপার্জনকারী হওয়া সত্ত্বেও নারীদের সম্পর্কের প্রতি অসন্তোষ কম নয়। কর্মক্ষেত্রে সফল হলেও সংসারের যাবতীয় দায়দায়িত্বের সিংহভাগ এখনও নারীদের কাঁধেই এসে পড়ে। এই জোড়া চাপের ফলেই সম্পর্কে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। শিকাগো ও ফরাসি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যেসব পরিবারে স্ত্রীর অবদান ৭৫ শতাংশের কাছাকাছি, সেখানে বিচ্ছেদের ঝুঁকিও সাধারণ দম্পতির চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। অবচেতনভাবেই সমাজ এখনও স্ত্রীর আয় স্বামীর চেয়ে কম দেখতে অভ্যস্ত।

বদলাচ্ছে মন, তবুও বাকি অনেকটা পথ
যদিও সমীক্ষা জানাচ্ছে যে আন্তর্জাতিক স্তরে মানসিকতার পরিবর্তন ঘটছে। বর্তমানে সিংহভাগ মানুষই স্ত্রীর বেশি উপার্জনকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে শিখছেন। তবুও মনস্তাত্ত্বিকদের মতে, সামাজিক সংস্কারের শিকড় এতই গভীরে যে, ব্যক্তিগত জীবনের বাস্তবতায় এর প্রয়োগ এখনও বেশ কঠিন বইকি!
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আরও নজরদারি! প্রতিটি ডিভিশনে ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো করছে লালবাজার
-
১৯৫৫ সালে রাজনৈতিক জীবন শুরু! ৯৩ বছরেও রোজ পঞ্চায়েতে যান অনিলকুমার
-
জেন জির হঠকারী যৌন জীবন! বঙ্গে বাড়ছে এডস
-
দেড় দশকের রুগ্ন পুরুলিয়ার লাক্ষা শিল্পে জোয়ার, জিআই স্বীকৃতির পরই খুলছে আন্তর্জাতিক বাজার
-
অগ্রিম ৫ লক্ষ টাকা দিয়েও মেলেনি ফ্ল্যাট! জনতার দরবারে লেকটাউনের মহিলা