‘মেয়েদের একটু মানিয়ে চলতেই হয়’, ‘মেয়েদের উচিত নিজের কথা ভাবার আগে বাড়ির অন্যদের কথা ভাবা’— বহু নারীকেই ছোট থেকে এমন কথা শুনে বড় হতে হয়। আর এমন কথার প্রভাব সরাসরি পড়ে তার মানসিকতায়। কেবল আগেকার দিনে নয়, অনেক বাড়িতেই আজও কন্যা সন্তানদের এমন নানা বাধানিষেধ শুনতে হয়, যা হয়তো ছোট ছেলেদের তেমন একটা শুনতে হয় না। কিন্তু এই অতিরিক্ত মানিয়ে চলার অভ্যেসই জীবনভর ক্ষতির মুখে ফেলে মেয়েটিকে (Women Raised to ‘Adjust’ Develop Coping Patterns)।

আরও পড়ুন:
১. নিজের অনুভূতি ও চাহিদা চেপে রাখা
মনোবিজ্ঞানী ডানা ক্রাউলি জ্যাকের গবেষণা অনুযায়ী, এ ধরনের নারীরা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে নিজের মতামত, চাহিদা বা রাগ প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করেন। এই প্রবণতাকে ‘সেলফ-সাইলেন্সিং’ বলা হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি আত্মসম্মান কমিয়ে দেয় এবং মানুষটিকে অবসাদের দিকে ঠেলে দেয়।
২. সব সময় অন্যের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া
অনেক নারী ছোটবেলা থেকেই পরিবারের দায়িত্ব বহন করতে শেখেন। মনোবিজ্ঞানে একে ‘পেরেন্টিফিকেশন’ বলা হয়। অর্থাৎ পরিবারের অভিভাবকের ভূমিকাটি তারই হয়ে যায়। এর ফলে বড় হওয়ার পরও তারা সঙ্গী, পরিবার বা বন্ধুদের সমস্যার দায় নিজের ওপর নিয়ে ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রবণতা সম্পর্কে অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও বার্নআউটের কারণ হতে পারে। এই মানুষেরা সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ভালো থাকার ইচ্ছে হারিয়ে যায়।
৩. সবার মন জিততে গিয়ে নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা
যাদের ছোটবেলায় সব সময় অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করার চাপ থাকে, তারা সামান্য ভুলকেও নিজের ব্যর্থতা বলে মনে করে, যা উদ্বেগ ও আত্মসমালোচনা বাড়ায়। এরা নিজেরাই নিজেদের গুটিয়ে নেয় এক অদৃশ্য খোলসের মধ্যে।
৪. নিজের মূল্য অন্যের স্বীকৃতির ওপর নির্ভর করা
যদি নিজের ভালো লাগা বা আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি অন্যের প্রশংসা বা গ্রহণযোগ্যতার ওপর নির্ভর করে, তবে সেটি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। যাদের আত্মসম্মান অন্যের মতামতের ওপর নির্ভরশীল, তারা সমালোচনা বা প্রত্যাখ্যানকে তীব্রভাবে অনুভব করেন এবং সারাক্ষণ উদ্বেগে ডুবে থাকেন।

অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া অবশ্যই একটি ইতিবাচক গুণ। তবে নিজের অনুভূতি, চাহিদা এবং সীমারেখাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। তাই কন্যা সন্তানটিকে অবশ্যই সহানুভূতিশীল হতে শেখান, তবে তা মানসিক শান্তি ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপোষ করে নয়। ধীরে ধীরে নিজের প্রয়োজনগুলোকেও গুরুত্ব দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার। অন্যকে ভালোবাসার পথ প্রশস্ত হোক নিজেকে ভালোবাসতে শেখার মধ্যে দিয়েই।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ব্রাজিল ম্যাচের আগেই পানামার বিরুদ্ধে নামবে ভারত, দিনক্ষণ জানিয়ে দিল ফেডারেশন
-
ঠিকভাবে উল্লেখ নেই রাস্তার নাম! কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড বিন্যাস নিয়ে ৭ দফা আপত্তি সিপিএমের
-
হাসপাতালে থাকতে নারাজ বিমান বসু, ফিরতে চাইছেন কলকাতায়! কবে ছুটি?
-
দার্জিলিঙে রোপওয়ে, সুন্দরবনে প্রমোদতরী! পর্যটনকে ঢেলে সাজাতে মাস্টার প্ল্যান রাজ্যের
-
আচমকা মস্কোয় অবতরণ করল মার্কিন সেনার বিমান! ঘনাচ্ছে রহস্য, কী বলল ক্রেমলিন?