আপনার একরত্তি খুদে সন্তান বাড়িতে এক মুহূর্তও চুপ থাকে না। সারাদিনে কী ঘটেছে, বাড়ির পোষ্য কী কাণ্ড ঘটিয়েছে, কেন সে টিফিন শেষ করেনি— সবকিছুই আপনাকে বিশদে বলতে থাকে। কার্টুনের এপিসোডও হয়তো ডায়লগ-সহ অভিনয় করে দেখায়! কিন্তু স্কুলের পেরেন্টস-টিচার্স মিটিংয়ে গিয়ে শোনেন, আপনার একরত্তি সারাদিনে মাত্র দু-একটি কথা বলেছে, কারও সঙ্গে মেশেনি, টিফিন খেয়েছে এক কোণে বসেই। তখন অবাক হবেন না? (Parenting Tips) আপনার মনে প্রশ্ন জাগবেই— একই শিশু বাড়িতে এত কথা বলে, অথচ স্কুলে এত চুপ কেন?

আরও পড়ুন:
হয়তো আপনি ভাবছেন, শিশুটি লাজুক। আদতে তা সত্যি নয়। নিভৃতে স্বচ্ছন্দে কথা বলা কিন্তু স্কুলে বা নির্দিষ্ট সামাজিক পরিবেশে সম্পূর্ণ চুপ থাকার এই আচরণের ক্লিনিক্যাল নাম ‘সিলেক্টিভ মিউটিজম’। এটি উদ্বেগ বা অ্যাংজাইটির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সমস্যা।
এই ধরনের শিশু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে, এমনকী অত্যন্ত প্রাণবন্তভাবেও কথা বলতে পারে। কিন্তু স্কুল, অপরিচিত মানুষ বা নির্দিষ্ট সামাজিক পরিস্থিতিতে কথা বলা তাদের কাছে অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শিশু ইচ্ছা করে কথা বলা বন্ধ করে রাখে না। বাইরে কথা বলতে না পারা অনেক সময় উদ্বেগের কারণে তৈরি হওয়া এক ধরনের ‘ফ্রিজ রেসপন্স’ (freeze response)।
কেন সমস্যাটি সহজে ধরা পড়ে না?
‘সিলেক্টিভ মিউটিজম’-র বড় সমস্যা হল, এই শিশুরা কোনও ধরনের ঝামেলা তৈরি করে না। তারা শান্ত, ভদ্র এবং নিয়ম মেনে চলে। ফলে তাদের নীরবতাকে অনেক সময় স্বাভাবিক অন্তর্মুখিতা ভেবে নেওয়া হয়। কিন্তু এই নীরবতা কখনও কখনও শিশুর দৈনন্দিন জীবনেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। শিক্ষকের কাছে সাহায্য চাইতে না পারা, নিজের প্রয়োজন জানাতে না পারা বা টয়লেট যাওয়ার অনুমতি চাইতে না পারার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

তবে এই সমস্যা জটিল নয়। উপযুক্ত সময়ে ক্লিনিক্যাল সহায়তা ও চিকিৎসায় একেবারে স্বাভাবিক হয়ে উঠবে শিশুটি। তাই আপনার সন্তান বাড়িতে অত্যন্ত স্বচ্ছন্দে কথা বললেও স্কুলে সারাক্ষণ চুপ করে থাকে যদি, তবে বিষয়টি উপেক্ষা করবেন না। তাকে জোর করে কথা বলানোর চেষ্টা না করে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা ভালো। কারণ এটি শিশুর ব্যক্তিত্বের সমস্যা নয়—এটি এমন একটি উদ্বেগজনিত সমস্যা, যার ক্ষেত্রে সঠিক সহায়তা ও চিকিৎসা কার্যকর হতে পারে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
দুর্ঘটনার কবলে পড়েও মেলেনি ক্ষতিপূরণ, টিকিট নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই রেলকে ভর্ৎসনা হাই কোর্টের
-
‘তোমার কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ শুভ…’, শুভশ্রীকে মন কেমনের চিঠি ‘ডিরেক্টর’ দেবের
-
রান্নাঘর ভর্তি আরশোলা, ক্রিকেটারদের আমিষ চা! মুম্বই ক্রিকেট সংস্থার রেস্তরাঁ দেখে অগ্নিশর্মা তুকারাম
-
পাহাড় ডাকছে? পিঠে ব্যাগ তোলার আগে শরীরের এই পরীক্ষাগুলি করিয়ে নিন
-
ব্রহ্মপুত্রে ‘টাইমবোমা’ চিনের, নেপাল বিপর্যয়ে বিপদঘণ্টা ভারতের! কী করবে দিল্লি?