জীবনের প্রতি পদক্ষেপেই বাবা-মাকে প্রয়োজন হয় সন্তানের। বাবা-মায়েরাই সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়, দুঃসময়ে অভয় দেয়, ভালো খারাপ বিচারের ক্ষমতা তৈরি করে। যে সন্তান বাবা-মায়ের পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে, সে আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভোগে না। আর এই সাহচর্য শুরু হয় একেবারে ছোটবেলাতেই। প্রতিটি দিনেই রয়েছে এমন ৫ সময়, যখন সন্তান সবথেকে বেশি খোঁজে তার অভিভাবককে (Child needs parent)। না পেলে, একাকীত্ব অনুভব করে। হীনমন্যতা তৈরি হয় তার মধ্যে।

আরও পড়ুন:
১. ঘুম থেকে ওঠার সময়
সাধারণত সন্তানের আগেই ঘুম থেকে উঠে পড়ে বাবা-মা। কিন্তু দিনে প্রথম চোখ খুলে কাউকে দেখতে না পেলে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে একরত্তি। তাই অধিকাংশ শিশুই ঘুম থেকে উঠে কেঁদে ফেলে, বা বড়দের ডাক দেয়। মনোবিদরা বলছেন, এ সময় ব্যস্ততা থাকলেও বাবা-মায়ের উচিত সে সব ছেড়ে অন্তত মিনিট ৬-৭ সন্তানের কাছে কাটানো। তাকে জড়িয়ে ধরা, ঘুম ভালো হয়েছে কি না প্রশ্ন করা এবং তারপর তাকে বোঝানো যে সারাদিনের কাজ করার সময় হয়েছে। অভিভাবক দু’জনের মধ্যে একজন ব্যস্ত থাকলে অন্যজনের অবশ্য কর্তব্য সন্তানের কাছে হাজির হওয়া।
২. স্কুলে যাওয়ার সময়
স্কুলে যাওয়া শিশুর জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। সেখানে তাকে নতুন মানুষ, নতুন পরিবেশ এবং নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে বাবা-মায়ের উৎসাহ শিশুর মনে সাহস তৈরি করে। তার মনে বিশ্বাস জন্মায় যে, বাইরে যা কিছুই ঘটুক না কেন, পরিবারের সদস্যরা তার যত্ন নেওয়ার জন্য রয়েছে।
৩. স্কুল থেকে ফিরে আসার পর
সারাদিনে শিশুর মনে অনেক অভিজ্ঞতা জমে— আনন্দ, কষ্ট, হতাশা। এ সময় বাবা-মা যদি খানিকটা সময় তার সঙ্গে কাটায়, উৎসাহভরে তার সারাদিনের অভিজ্ঞতা শোনে, তবে শিশুটি সাহস পায়। তার দ্বারা অন্যায় কিছু ঘটে থাকলেও নির্দ্বিধায় অভিভাবকের সঙ্গে তা ভাগ করতে পারে।
৪. মনখারাপের সময়
শিশুর ট্যান্ট্রাম বা ঘ্যানঘ্যানে ভাব অনেক সময়ই কোনও অপূর্ণ চাহিদা, কষ্ট বা হতাশার বহিঃপ্রকাশ। এই সময় রেগে গিয়ে শিশুকে শাস্তি দেওয়ার বদলে তার অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করা উচিত। জীবনের যে কোনও সমস্যাকে শিশুটি কীভাবে গ্রহণ করছে, তার সমস্তটাই নির্ভর করে বাবা-মায়ের অ্যাটিটিউডের ওপর।

৫. ঘুমানোর আগে
বেশি কিছু নয়— পাশে বসা, মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া, কপালে আলতো চুমো— বাবা-মায়ের থেকে সন্তানের চাহিদা আদতে বড়ই সামান্য। তা যদি বাবা-মা পূরণ করতে পারে, তবে শিশুটি বদমেজাজি হয় না। অন্যের দুঃখে সমব্যথী হওয়ার ক্ষমতা তৈরি হয় তার মধ্যে। মনে রাখবেন, একজন শিশুর কাছে নিরাপত্তার চাইতে জরুরি কোনও অনুভূতি নেই এ জগতে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বিজেপি ও তৃণমূল নেতা ‘মাসতুতো ভাই’, সুকান্তকে নিশানা করে শোকজ গঙ্গারামপুরের বিধায়ক
-
বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএমসিপির ‘জঙ্গিপনা’, পড়ুয়াদের হস্টেল ছাড়ার নির্দেশ উপাচার্যের
-
সুযোগ পেয়েও এশিয়াডে খেলতে পারবেন না ভারতের সব অ্যাথলিট-সাপোর্ট স্টাফ! জাপানের সিদ্ধান্তে প্রশ্ন
-
বাস পিছু প্রতিদিন ৩০০ টাকা তোলাবাজি ‘বিএমএসের’, ‘কাউকে রেয়াত নয়’, কড়া বার্তা শুভেন্দুর মন্ত্রীর
-
রংপুরে খুন হিন্দু পরিবারের ৪ সদস্য, বাংলাদেশে ছয় মাসে ১৮ ‘মাস কিলিং’, উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা