সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পড়ছে না তো শাসন। খাচ্ছে না তো বকাঝকা। দুষ্টুমি বন্ধ করতে মারধর। বহু অভিভাবক মনে করেন, সুসন্তান তৈরি করতে চাইলে যেন শাসনই ব্রহ্মাস্ত্র। যদিও মনোবিদদের মতে, মোটেও এই ধ্যানধারণা ঠিক নয়। আধুনিক প্যারেন্টিংয়ে এই চিন্তাভাবনা বদলাতে হবে। সন্তান ছোট মানে, তার মতামত দেওয়ার অধিকার নেই। তা নয়। তাই শুধু শাসন নয়। প্রথমে সন্তানের বন্ধু হোন। তাতেই দেখবেন সন্তান সত্যি মানুষের মতো মানুষ হবে। সন্তানের বন্ধু হতে চাইল কী করবেন, রইল সে টিপস।
* বাচ্চার সুবিধা-অসুবিধার দিকে গুরুত্ব দিন। সে আপনাকে কিছু বলতে চাইলে মন দিয়ে শুনুন। সবেতে নিজের মতামত চাপিয়ে দেবেন না। পরিবর্তে সন্তানকে বোঝান। মনে রাখবেন, আপনাকে দেখে সন্তান শেখে। বড় হয়ে ওঠে। আপনি খুদের অনুপ্রেরণা। তাই আপনি যা করবেন, সে তা-ই শিখবে। আজ যে খুদের ঘাড়ে আপনি নিজের মতামত চাপিয়ে দিচ্ছেন। কাল যখন সে বড় হবে আপনাকে নিজের মতো করে পরিচালনার চেষ্টা করবে।

* খুদেদের আবেগকে সামলানোর ক্ষমতা নেই বললেই চলে। তাই তারা কোনও ঘটনা ঘটামাত্রই প্রতিক্রিয়া দেয়। আনন্দ, কান্না, রাগের বহিঃপ্রকাশ তুলনামূলক অনেক বেশি তাদের। তা বলে আপনার মেজাজ হারালে চলবে না। সন্তান খুব রেগে গেলে প্রথমে শান্ত করুন। প্রয়োজনে বুকে জড়িয়ে ধরুন। আদর করুন। কান্নাকাটি করলে আগে কান্না থামানোর চেষ্টা করুন। তাতে খুদে বুঝবে আপনি সবসময় ওর পাশে আছে। আপনার ও সন্তানের সম্পর্কের বাঁধন আরও শক্ত হবে।

* বকাঝকা করবেন না। তাকে বোঝান সবসময় সমান প্রতিক্রিয়া দেওয়া যায় না। তাই বুঝেশুনে চলতে হবে। আজ হয়তো সে বুঝবে না। দু’দিন পর দেখবেন নিশ্চয়ই বুঝবে। সেদিন আর এমন কোনও আচরণ করবে না, যার জন্য আপনি অপ্রস্তুত বোধ করেন।
* কিশোর সন্তানের গতিবিধি, বন্ধুবান্ধবদের দিকে নজর রাখুন। তা বলে তার ব্যক্তিগত পরিসরে সবসময় নাক গলাবেন না। তাতে সে বিরক্ত হবে। আপনার কাছ থেকে সব কিছু গোপন করার প্রবণতা তৈরি হবে। পরিবর্তে তাকে বোঝান যে এমন কিছু কোরো না, যাতে তোমার ক্ষতি হবে। কিংবা পারিবারিক সম্মানহানি হবে।

* কোনও বাচ্চা বেশি চালাক। কেউ একটু বোকা। কেউ পড়াশোনায় খুব ভালো তো আবার কেউ আঁকায়। কেউ গান গান। কারও গান নাপসন্দ। তাই কারও সঙ্গে নিজের সন্তানের তুলনা করবেন না। মনে রাখবেন, প্রত্যেক শিশুর কিছু না কিছু বিশেষ গুণ রয়েছে। তুলনা করলে অন্য শিশুর গুণ সে পাবে না বরং তার মনোবল কমবে। একসময় সে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে।
* সন্তান ও আপনার সম্পর্ককে বন্ধুত্বের রূপ দিতে চাইলে একটি রুটিন তৈরি করুন। সেই রুটিন খুদে যেমন মানবে, মানতে হবে আপনাকেও। তাতে আপনাদের দু’জনের সম্পর্কের বাঁধন শক্ত হবে। সে আপনাকে আলাদা ভাবতে ভুলে যাবে। মনে করবে, আপনি ওর প্রকৃত বন্ধু।

সর্বশেষ খবর
-
দুর্ঘটনার কবলে পড়েও মেলেনি ক্ষতিপূরণ, টিকিট নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই রেলকে ভর্ৎসনা হাই কোর্টের
-
‘তোমার কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ শুভ…’, শুভশ্রীকে মন কেমনের চিঠি ‘ডিরেক্টর’ দেবের
-
রান্নাঘর ভর্তি আরশোলা, ক্রিকেটারদের আমিষ চা! মুম্বই ক্রিকেট সংস্থার রেস্তরাঁ দেখে অগ্নিশর্মা তুকারাম
-
পাহাড় ডাকছে? পিঠে ব্যাগ তোলার আগে শরীরের এই পরীক্ষাগুলি করিয়ে নিন
-
ব্রহ্মপুত্রে ‘টাইমবোমা’ চিনের, নেপাল বিপর্যয়ে বিপদঘণ্টা ভারতের! কী করবে দিল্লি?