বিয়ে মানেই আজীবনের একাকীত্বের অবসান, এমনটা মনে করা হয়। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না (Married Couples Feel Emotionally Lonely)। একই বাড়িতে, একই ঘরে, এমনকী এক বিছানায় থেকেও বহু মানুষ মানসিকভাবে নিজেকে একা অনুভব করেন। এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভারতের বিবাহিত দম্পতিদের মধ্যে প্রায় ৪৬.৪ শতাংশই একাকীত্বের শিকার। অর্থাৎ, কেবল একসঙ্গে থাকা মানেই আবেগের সংযোগ তৈরি হওয়া নয়।

আরও পড়ুন:
কেন সঙ্গীকে পাশে পেয়েও একাকীত্ব?
১. সম্পর্কে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হল অর্থপূর্ণ কথোপকথনের অভাব। সংসারের কাজ, চাকরি, সন্তান বা অর্থনৈতিক চাপে অনেক দম্পতিই নিজেদের অনুভূতি নিয়ে আর কথা বলেন না। একই ছাদের নিচে থেকেও মানসিক দূরত্ব বাড়তে থাকে।
২. অনেকেই বিয়ের পর নিজের শখ, বন্ধুবান্ধব, ব্যক্তিগত আগ্রহ বা স্বতন্ত্র পরিচয় হারিয়ে ফেলেন। তৈরি হয় হতাশা ও আত্মপরিচয়ের সংকট।
৩. মনোবিজ্ঞানীরা ‘এনমেশমেন্ট’ শব্দটি ব্যবহার করেন এমন সম্পর্ক বোঝাতে, যেখানে দু’জন মানুষের ব্যক্তিগত সীমারেখা প্রায় মুছে যায়। এতে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে না; বরং দীর্ঘমেয়াদে ক্ষোভ, বিরক্তি এবং মানসিক ক্লান্তি জন্ম নিতে পারে।
৪. ভারতীয় সমাজ এখনও স্বামী ও স্ত্রীকে পৃথক ব্যক্তিমানুষ মনে করে না। কেউ যদি একা ঘুরতে যেতে চান, আলাদা হবি রাখতে চান বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে চান, তবে তাকে স্বার্থপর বলে মনে করা হয়। এই চাপ নারীদের ক্ষেত্রে আরও বেশি। স্বামীর বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোকে তবুও স্বাভাবিক, কিন্তু স্ত্রীর ব্যক্তিগত সময় কাটানোর ইচ্ছাকে ‘সংসারবিমুখতা’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন মানুষ যদি নিজের পছন্দের কাজ করতে পারেন, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন, নতুন কিছু শিখতে পারেন বা একা কিছুটা সময় কাটাতে পারেন, তবে তিনি বিয়ের সম্পর্কটিকেও ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে পারেন। এমন সম্পর্কে দু’জনই স্বাধীন ব্যক্তি হিসেবে নিজেদের পরিচয় বজায় রাখেন, আবার প্রয়োজনে একে অপরের পাশে থাকেন।

সম্পর্ক শুধরোবেন কীভাবে?
• প্রতিদিন অন্তত ২০–৩০ মিনিট একে অপরের সঙ্গে কথা বলুন, দূরে সরিয়ে রাখুন মোবাইল বা টেলিভিশনের দেখার ইচ্ছে।
• নিজের শখ ও আগ্রহ বজায় রাখুন। বই পড়া, ভ্রমণ, গান, খেলাধুলাতে সময় দিন। পাশাপাশি, সঙ্গীর একা সময় কাটানোর ইচ্ছাকেও নেতিবাচকভাবে দেখবেন না।
• মনঃকষ্ট জমিয়ে রাখবেন না। ছোটখাটো সমস্যা নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করুন।
• পরস্পরের সাফল্যকে উদ্যাপন করুন। প্রতিযোগী নয়, একে অপরের সমর্থক হয়ে উঠুন।
• প্রয়োজনে কাউন্সেলিং নিন। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া দুর্বলতার নয়, সচেতনতার লক্ষণ।
মনে রাখবেন, প্রকৃত ভালোবাসা কখনও স্বাধীনতা কেড়ে নেয় না; বরং দুজনেই একই স্বাধীনতার স্বাদ চাখতে পারে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
অনুরোধ-উপরোধ নয়, কাজ হাসিল করতে পঞ্চায়েত অফিসে ঢুকে তাণ্ডব মদ্যপ গ্রামবাসীর!
-
‘মহারাজ এ কী সাজে’! সোবার্স মৃত, চিরজীবিত থাকবে তাঁর ক্রিকেট গরিমা
-
মোবাইলে আর্জেন্টিনার খেলা দেখায় বুঁদ, খালে পড়ে মৃত্যু বাংলাদেশের যুবকের
-
বন্ধ ন্যাপকিন কারখানায় উদ্ধার কন্ডোম, চলত মধুচক্র! খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ মালিকের
-
স্কুল-পড়ুয়াদের মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, কাদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়? জারি নির্দেশিকা