প্রেমের প্রথম দিনগুলোয় আকাশটা বড্ড বেশি নীল মনে হয়। ডানা মেলে ওড়ে অজস্র রঙিন প্রজাপতি। মৃদু বাতাসে থরথর কাঁপে গাছের পাতা। কিন্তু সময় বহমান। সেই মোহময়ী দিনগুলো গড়িয়ে যায় চেনা অভ্যাসের বৃত্তে। আর ঠিক তখনই, অজান্তেই সম্পর্কের দেওয়ালে জমতে শুরু করে চুনকাম খসে পড়ার দাগ। আমরা ভাবি, এ তো খুব স্বাভাবিক! সম্পর্কে এমনটা হামেশাই ঘটে বইকি! অথচ মনোবিদরা বলছেন অন্য কথা। তাঁদের মতে, এমন কিছু সূক্ষ্ম ভুলে আমরা অভ্যস্ত, যেগুলিকে ‘স্বাভাবিক’ বলে ধরে নিই। অথচ সেগুলিই তিলে তিলে শেষ করে দেয় ভালোবাসার গোপন উষ্ণতা।

আরও পড়ুন:
অভিমান সবারই হয়। কিন্তু ঝগড়ার পর ‘দোষ তো ওর, ও আগে মেসেজ করুক’— এই ভেবে বসে থাকাটাই প্রথম মস্ত ভুল। অহমিকার এই চোরা লড়াইতে জেতার কেউ থাকে না, শুধু দূরত্ব বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লড়াইটা সঙ্গীর বিরুদ্ধে নয়, লড়ুন নিজেদের সমস্যার বিরুদ্ধে। তাই নিজেদের মাঝে দেওয়াল না তুলে বরং নিজেই প্রথম হাত বাড়ান। মনে রাখবেন, একটি সাধারণ কুশলসংবাদও বরফ গলাতে পারে নিমেষে।
দ্বিতীয়ত, তর্কের সময় গলার আওয়াজ চড়ানো বা কটু কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। অনেকেই ভাবেন, রেগে গেলে মানুষ তো এমন বলেই ফেলে! পরে দুঃখপ্রকাশ করলেই সব ঠিক। কিন্তু মুখের কথার ক্ষতচিহ্ন রয়ে যায় মনের গভীরে। ঝগড়া মানেই তখনই সমাধান করতে হবে, এমন কোনও নিয়ম নেই। প্রয়োজনে সাময়িক বিরতি নিন, নিজেকে শান্ত করুন। সঙ্গীর আত্মসম্মানকে আঘাত করে কোনও তর্কে জেতার চেষ্টা করবেন না।
তৃতীয় মারাত্মক ভুলটি হল টেক্সট মেসেজে ঝগড়া করা। দীর্ঘ, রাগত বার্তার মাধ্যমে মনের ভাব বোঝাতে গেলে হিতে বিপরীত হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ, স্ক্রিনের অক্ষরে মানুষের আবেগ কখনওই ধরা পড়ে না। ফলে ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে। ক্ষোভ উগরে দেওয়ার আগে ফোন করুন। কিংবা মুখোমুখি বসুন। স্পর্শ এবং গলার স্বর যা মেটাতে পারে, তা হাজার শব্দের টেক্সট মেসেজও পারে না।

চতুর্থত, নতুন কোনও অশান্তি হলেই পুরনো কঙ্কাল টেনে বের করবেন না। ‘তুমিও তো আগের বার এমন করেছিলে’— এই এক লাইনেই বর্তমানের সমস্যাটি নিজের সঙ্গে আরও ডজন সমস্যা ডেকে নিয়ে হাজির হয়। পুরনো খাতা খুলে বসলে ক্ষোভের পাহাড় ক্রমশ বাড়বে। তাই, আজকের সমস্যা আজই মিটিয়ে ফেলুন। অতীতকে অতীতেই হারিয়ে যেতে দিন।
সবশেষে আসে এক অদ্ভুত প্রত্যাশা— ‘ও যদি আমাকে ভালোবাসে, তবে না বললেও আমার মন বুঝবে’। মনে রাখবেন, সঙ্গী কোনও জাদুকর নন। মনের কথা মুখে না বললে ভুল বোঝাবুঝি অনিবার্য। নীরবতার চাদরে নিজেকে না ঢেকে স্পষ্ট করে বলুন আপনার ভালো লাগা, মন্দ লাগা। সুস্থ সম্পর্কের বুনিয়াদ লুকিয়ে আছে এই সহজ, সরল ও খোলামেলা কথোপকথনেই।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘ভারতে হিন্দুরাই সংখ্যালঘু’, বিস্ফোরক দাবি মৌলবীর, দিলেন হিসাবও
-
অ্যাকসেঞ্চারের ঘোষণায় শেয়ার বাজারে পতন, আইটি স্টক খাদে, মুহূর্তে উধাও ২ লক্ষ কোটি টাকা!
-
ভেঙে ঝুলছে মিডফিল্ডারের হাঁটু, দেখে অঝোরে কান্না কোচের, কানাডা-কাতারের সংঘর্ষে সরগরম বিশ্বকাপ!
-
কাঁচরাপাড়া স্কুলে টাকার খনি! দেড় কোটিরও বেশি উদ্ধারের পরেও মিলল ‘গুপ্তধন’
-
বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা হরমনদের, ছিটকে গেলেন তারকা স্পিনার, ‘আনকোরা’ পরিবর্তে ভরসা