ঠিক আর ৪৫ দিন। তারপরেই আকাশে ভাসবে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ। বেজে উঠবে ভৈরবি। ‘আশ্বিনের শারদপ্রাতে..’। জানান দেবে দেবীপক্ষের আগমন। বাঙালির সর্বকালের আবেগ, সেরা উৎসব দুর্গাপুজো। তবে, পুজো মানে কেবল মন্ত্রোচ্চারণ বা আরতি নয়, ভুরিভোজের পরম উৎসবও বটে! বিশেষ করে সাবেক বনেদি বাড়ির পুজোর (Bonedi Barir Durga Puja) জাঁকজমক ও দেবীর থালায় নিবেদিত রকমারি ভোগের রসনা-বিলাস যেন বহমান এক ইতিহাস। প্রথা, ঐতিহ্য ও আচারের সঙ্গে মিলেমিশে সেখানে একাকার হয়ে যায় রন্ধনশিল্প। প্রসাদী থালায় মণ্ডামিঠাইয়ের এই মিষ্টান্ন-পুরাণ আজও অক্ষুণ্ণ। এমন ৩টি মিষ্টির প্রণালী রইল। কীভাবে বানাবেন দেখে নিন।

আরও পড়ুন:
ক্ষীরমোহন
পুজোয় অন্নভোগ ও বলিদানের পাশাপাশি মিষ্টান্ন হিসেবে ক্ষীরমোহনের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে বাড়ির পুজোর ভোগের থালায় অন্যান্য পদের সঙ্গে ক্ষীরমোহন থাকবেই থাকবে। কীভাবে রাঁধবেন?
উপকরণ: দুধ ৩ লিটার, ছানার জল ৩ কাপ, ছোট এলাচ ৪-৫টি, চিনি ১ কাপ, ময়দা ১০০ গ্রাম, সুজি ৫০ গ্রাম।
প্রণালী: প্রথমে চিনি ও জল দিয়ে হালকা শিরা তৈরি করুন। দুধ ফুটিয়ে ছানার জল দিয়ে ছানা কাটিয়ে ছাঁকনিতে জল ঝরিয়ে নিন। থালায় ছানা, এলাচ গুঁড়ো, ময়দা, সামান্য চিনি ও সুজি একসাথে খুব ভালো করে ঠেসে মণ্ড তৈরি করুন। ছোট ছোট গোল্লা বানিয়ে চিনির শিরায় ফুটিয়ে রস চিপে তুলে রাখুন। অন্য পাত্রে দুধ ঘন করে ক্ষীর বানিয়ে নিন। সেই ঘন ক্ষীরে রসগোল্লাগুলি ডুবিয়ে রাখলেই তৈরি ক্ষীরমোহন।

আটার নাড়ু
বহু পুরনো বাড়ির পুজোতেই মায়ের বিশেষ নৈবেদ্য হিসেবে স্থান পায় এক ধরনের বিশেষ নাড়ু। এই নাড়ু সাধারণত আটা দিয়ে তৈরি হয়। বাড়ির মেয়েরা যুগের পর যুগ ধরে এই মিষ্টান্ন তৈরি করে আসছেন।
উপকরণ: নারকেল কোরা ৪ কাপ, আটা ১/২ কাপ, আখের গুড় ২ কাপ, ভেলি গুড় ১/২ কাপ, থেঁতো করা বড় এলাচ ৫-৬টি এবং ঘি ৫-৬ টেবিল চামচ।
প্রণালী: ভারী পাত্রে নারকেল, ঘি ও আখের গুড় দিয়ে আঁচ দিন। পাক এলে ভেলি গুড়, এলাচ ও আটা মেশান। মিশ্রণটি থকথকে হলে নামিয়ে ইষদুষ্ণ অবস্থায় হাতে ঘি মেখে গোল গোল নাড়ু গড়ে নিন।

তক্তি
কোনও কোনও বনেদি বাড়ির প্রসাদী চমক হল ‘নারকেলের তক্তি’। এই মিষ্টির আকারে অবাক হতে হয়। আগেকার দিনে সাধারণত ফুল, পাতার ছাঁচ ফেলে তক্তি তৈরি হত। তবে, পুজোর ভোগের জন্য তা বিশেষ ভাবে গড়ে তোলা হয়। জানা যায়, পরাধীন ভারতে স্বদেশি আন্দোলনের সময়ে এই তক্তি গড়ার জন্য কারিগরেরা ‘বন্দে মাতরম’ বা ‘চরকা’ খোদাই করা বিশেষ নকশার কাঠের ছাঁচ তৈরি করেছিলেন। পরাধীন ভারতে তক্তির চল ছিল দারুণ। কীভাবে বানাতে হয়?
উপকরণ: নারকেল কোরা ২ কাপ, ক্ষীর ১/২ কাপ, গুড় ১ কাপ, সাদা তিল ১/২ কাপ এবং নকশাদার ছাঁচ।
প্রণালী: শুকনো কড়াইতে তিল ভেজে গুঁড়ো করে রাখুন। কড়াইতে নারকেল কোরা, গুড় ও ক্ষীর একসাথে দিয়ে ভালো করে পাক দিন। নামানোর আগে তিলগুঁড়ো মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি মিহি করে বেটে কাঠের ছাঁচে ফেলে চেপে নিলেই তৈরি স্বদেশি আমেজ মাখা তক্তি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, ছড়াল টলিউড অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি! ধৃত ‘প্রাক্তন’ প্রেমিক
-
কলকাতা-হাওড়া পুরভোটে রণকৌশল কী হবে? বৈঠকে তৃণমূলের ঋতব্রত শিবির
-
চিংড়ি-পাস্তা নয়, তিহারে ওটস খেয়েই কাটছে দিন! দেশে ফিরতে আমেরিকার দ্বারস্থ মার্কিন ‘ভাড়াটে’ সৈনিক
-
বেহালা বিমানবন্দর ফের চালু করতে উদ্যোগী রাজ্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে চিঠি শুভেন্দুর
-
গুরুতর অসুস্থ আন্না হাজারে, ভর্তি করানো হল মুম্বইয়ের হাসপাতালে