বাংলার বিধায়কদের বেতন কত? কী কী সুবিধা পান? ফলপ্রকাশের আগেই জেনে নিন বিশদে
২০২৩ সালে অনেকটা বাড়ে রাজ্যের বিধায়ক-মন্ত্রীদের বেতন। তবে নিজের বেতন বাড়াননি মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
কিন্তু এই 'জনসেবা'য় পারিশ্রমিকও নিতান্ত কম নয়। ভাতা, বেতন, ফোনের বিল, যাতায়াতের খরচ মিলিয়ে মাস গেলে বেশ মোটা টাকাই হাতে যায় বিধায়কদের। সাধারণত, এক জন বিধায়কের মূল বেতন এবং ভাতা মিলিয়ে যে টাকা হয়, তার পুরোটাই ওই বিধায়কের মাসিক বেতন হিসাবে ধরা হয়। ফোন এবং যাতায়াতের জন্যও কিছু নির্দিষ্ট ভাতা পেয়ে থাকেন বিধায়কেরা।
এক জন বিধায়ক নির্বাচনী কেন্দ্র এবং তার বাইরে যাতায়াতের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ভাতা পেয়ে থাকেন। ব্যক্তিগত সচিব এবং বাড়ি ভাড়া-বাবদ ভাতা পান বিধায়করা। তবে প্রাথমিক ভাবে বিধায়কদের নিজেদেরই এই টাকা দিতে হয়। পরে এই টাকা তাঁদের বিধানসভা সচিবালয় থেকে দেওয়া হয়। এর বাইরে নিজের ও পরিবারের চিকিৎসার খরচও পান বিধায়করা।
সব মিলিয়ে বাংলার বিধায়করা কত বেতন ও ভাতা পান? ২০২৩ সালের আগে পর্যন্ত বাংলার বিধায়কদের বেতন ছিল মাত্র ১০ হাজার টাকা। প্রতিমন্ত্রীরা ১০ হাজার ৯০০ টাকা পেতেন। পূর্ণমন্ত্রীদের বেতন ছিল ১১ হাজার। এর বাইরে বেশ কিছু ভাতা ছিল। এছাড়া দৈনিক বিধানসভায় যোগ দেওয়া এবং বিভিন্ন কমিটির বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য আলাদা ভাতা পেতেন বিধায়করা। তবে সব মিলিয়ে অঙ্কটা অন্য রাজ্যের চেয়ে অনেকটাই কম ছিল।
আরও পড়ুন:
২০২৩ সালে একযোগে বিধায়ক-মন্ত্রীদের বেতন ৪০ হাজার টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বর্তমান রাজ্য সরকার। প্রতি মাসে এতদিন ১০ হাজার টাকা বেতন পেতেন বিধায়করা, তা বেড়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়। প্রতিমন্ত্রীরা ১০ হাজার ৯০০ টাকা পেতেন, তা হল ৫০ হাজার ৯০০। পূর্ণমন্ত্রীদের বেতন ১১ হাজার থেকে বেড়ে হল ৫১ হাজার টাকা।
২০২৩ সালে বেতন বাড়ানোর বিল পাশ হওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "স্পিকারকে সম্মান জানিয়েই বলছি, সাত বারের সাংসদ আমি। ১ লক্ষ টাকার বেশি পেনশন প্রাপ্য। কিন্তু একটি পয়সাও নিই না। বিধায়ক এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও এক পয়সা নিইনি কখনও।" মুখ্যমন্ত্রী গান ও বই লেখেন। সেগুলি থেকে প্রাপ্য রয়্যালিটিতেই চলে তাঁর সংসার।
তবে মুখ্যমন্ত্রী পেনশন না নিলেও অন্য বিধায়ক এবং মন্ত্রীরা জনপ্রতিনিধি হিসাবে পেনশন পান। সেই সঙ্গে নিজেদের এলাকা উন্নয়ন খাতেও বছরে ৬০ লক্ষ টাকার কিছু বেশি পান। যদিও সেই টাকা বিধায়কদের হাতে যায় না। বিধায়করা এলাকা উন্নয়নের জন্য প্রকল্প তৈরি করে জেলাশাসকের কাছে জমা করাতে হয় তাদের। জেলাশাসক ছাড়পত্র দিলে তবেই সেই টাকার কাজ হয়।