সোনমের বাবার অনশন ভাঙান ইন্দিরা গান্ধী, কংগ্রেসি বাড়ির ছেলের সঙ্গে আদৌ মিল আছে পর্দার র্যাঞ্চোর?
বাবা কংগ্রেস আমলে মন্ত্রী ছিলেন, সোনম অবশ্য সক্রিয় রাজনীতির পথে হাঁটেননি।
মৃত্যুকে সাক্ষাৎ দেখতে পেয়েও নিজের অবস্থানে অনড় সমাজকর্মী ও পরিবেশবিদ। শুরুর দিকে সোনমের আন্দোলনে সেভাবে সাড়া না পড়লেও দিন দিন সমর্থন বাড়ছে। বিরোধী দলগুলিও তাঁর পাশে। আগামী ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টি সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছে। সেই অভিযানে সোনম যেতে চান। পরিবেশবিদ তথা বিজ্ঞানীর মরণপণ লড়াই নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত জনমানস। কেউ কেউ তাঁর পাশে। কারও ধারণা তিনি সরকার বিরোধীদের এজেন্ট।
আরও পড়ুন:
এই প্রথম নয়। সোনম ওয়াংচুক এর আগেও একাধিকবার অনশন করেছেন। বারবার নিজের দাবি আদায়ের জন্য তিনি মহাত্মা গান্ধী, ভগৎ সিংদের দেখানো পথে অনশন কর্মসূচিকেই বেছে নেন। এর আগে ২০২৪ সালেও তিনি লাদাখকে ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে ২১ দিনের অনশন করেছিলেন। সেবার তাঁকে যুবসমাজকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। এমনকী দেশদ্রোহিতার ধারায় মামলা করা হয়।
অবশ্য সোনমকে অনশনের এই রাস্তা দেখিয়েছেন তাঁর বাবা সোনম ওয়াংগল। সেই ১৯৮৪ সালে লাদাখের সাংবিধানিক অধিকার। লাদাখের বাসিন্দাদের তফসিল জনজাতির মর্যাদার দাবিতে তিনি অনশন করেন। ঘটনাচক্রে পাঁচদিনের অনশনের পরই সেবার সাড়া দেয় সরকার। খোদ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সোনম ওয়াংয়ালের অনশন ভাঙাতে লেহ উড়ে গিয়েছিলেন। ইন্দিরা নিজে তাঁর দাবি পূরণের আশ্বাস দেন এবং জুস খাইয়ে তাঁর অনশন ভাঙেন।
তবে ওয়াংচুকের বাবা সোনম ওয়াংগল সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি প্রথম ওমর আবদুল্লাহদের দল ন্যাশনাল কনফারেন্সে যোগ দেন। পরে কংগ্রেসের টিকিটে বিধায়ক হন। এমনকী ১৯৭৫ সালে কাশ্মীরে কংগ্রেস সরকার থাকাকালীন মন্ত্রীও ছিলেন। যদিও বাবার মতো ওয়াংচুক সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেননি। তিনি মূলত পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী।
আরও পড়ুন:
আমির খান-রাজকুমার হিরানীর ছবি 'থ্রি ইডিয়টস' তাঁর জীবন অবলম্বনে তৈরি হলেও পর্দার র্যাঞ্চোর সঙ্গে ওয়াংচুকের জীবনের অনেক পার্থক্য। সিনেমায় দেখানো হয়েছে র্যাঞ্চোর ছোটবেলায় আর্থিক অনটন, অন্যের নামে স্কুল-কলেজে পড়াশোনার কাহিনী। বাস্তব তেমন কিছু নয়। জীবনের প্রথম ৯ বছর সত্যিই গ্রামে স্কুল না থাকায় তিনি প্রথাগত শিক্ষা পাননি। তবে মায়ের কাছে পড়াশোনার পাঠ নেন। পরে তিনি শ্রীনগরে পড়াশোনা শুরু করেন।
শ্রীনগরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে একাধিক বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করার পর, ফ্রান্সের গ্রেনোবলের ক্রাতের স্কুল অব আর্কিটেকচার-এ পড়াশোনা করেন তিনি। এরপর গবেষণা। সত্যিই তিনি বিশ্ববরেণ্য গবেষক। তবে সিনেমায় যেমন দেখানো ছিল তাঁর নামে ৪০০টি পেটেন্ট রয়েছে তেমন কিছু নয়। বাস্তবে তাঁর নামে কোনও পেটেন্ট নেই। আসলে 'র্যাঞ্চো' পেটেন্টের জন্য আবেদন করেননি। তিনি চান, তাঁর আবিষ্কার সবার জন্য মুক্ত থাকুক।
সোনম বরাবর প্রথাগত শিক্ষার বাইরে হাতেকলমে শিক্ষার পক্ষে। সেটা সিনেমাতেও দেখানো হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই তিনি স্টুডেন্টস এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল মুভমেন্ট অব লাদাখ নামের সংস্থা তৈরি করেন। এই সংস্থাটি অঞ্চলের শিক্ষার মান এবং ধরনের উন্নতিতে কাজ করে। বহু পড়ুয়াকে সাহায্য করে এই সংস্থা। ২০১৮ সালে পরিবেশ ও শিক্ষায় অবদানের জন্য তিনি রামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পান।