দিনভর রোগের কথা ভাবেন? এই বিশেষ মানসিক অসুখে ভুগছেন না তো? সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ
অস্বস্তি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে বেরিয়ে যায়, তবে অবশ্যই মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিয়মিত ব্যায়াম করুন সকালে উঠে। ধ্যান অভ্যাস করুন।
মনোবিদরা বলছেন, এই মানসিক অসুখে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ‘হাইপোকন্ড্রিয়াক’ বলা হয়। তাঁরা সবসময়েই মনে করেন, তাঁরা কোনও এক রকমের কাল্পনিক অসুখে আক্রান্ত। ফলে সারাক্ষণ উদ্বেগে ভোগেন। যে কোনও ছোটখাটো ঘটনাকেও রোগের লক্ষণ বলে ভুল করেন। ফলে এক সময় নিজেকে আলাদা করে ফেলেন বাকিদের থেকে। আপনিও কি একজন ‘হাইপোকন্ড্রিয়াক’? সময় থাকতে জেনে নিন বোঝার উপায়।
আরও পড়ুন:
রোজের জীবনে খুঁটিনাটি শারীরিক সমস্যা লেগেই থাকে। যেমন দীর্ঘ সময় বসে থাকলে কোমর আড়ষ্ট হয়ে যায়। অনেকক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখ জ্বালা করে। সচেতন হয়ে জীবনধারা বদলানো অবশ্যই উচিত। তবে যারা হাইপোকন্ড্রিয়াক, তাঁরা এমন সামান্য সমস্যায় আতঙ্কিত হয়ে ডাক্তারের কাছে ছুটে যান। নিজেরাই আগ বাড়িয়ে জানতে চান কী কী ওষুধ খেতে হবে, অথবা কোনও টেস্ট করানোর দরকার রয়েছে কি-না।
চিকিৎসক যদি জানিয়ে দেন যে কোনও রোগ হয়নি, তারপরেও এই মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা শান্তি পান না। তাঁদের মনে হয়, রোগ নির্ধারণে হয়তো চিকিৎসকের কোনও বিচ্যুতি রয়ে গিয়েছে। তাঁরা বারবার চিকিৎসককে কল করেন, নানা ধরনের প্রশ্ন করে বিরক্ত করে তোলেন। এমনকী একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাঝেই তা থামিয়ে দিয়ে, ছুটে যান অন্য একজনের কাছে।
এক সময় এই মানুষেরা চিকিৎসকদের প্রতি এতটাই ভরসা হারিয়ে ফেলেন যে যাওয়াই ছেড়ে দেন! বদলে নিজেরাই রোগ নির্ধারণে বসে যান। হয়তো সেইমতো ওষুধ খেতেও শুরু করেন। কেউ আবার তাঁর রোগের লক্ষণ ইন্টারনেটে ঘেঁটে বোঝার চেষ্টা করেন রোগটি কী। স্বাভাবিকভাবেই, নানা ধরনের রেজাল্ট আসবে তাতে। সেইমতো ওষুধ খেলে লাভের বদলে ক্ষতির পরিমাণই বাড়ে।
আরও পড়ুন:
অস্বস্তি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে বেরিয়ে যায়, তবে অবশ্যই মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিয়মিত ব্যায়াম করুন সকালে উঠে। ধ্যান অভ্যাস করুন। কখন কখন নিজের শারীরিক সমস্যা নিয়ে এমন অত্যাধিক ভয় জন্মাচ্ছে, তা বোঝার চেষ্টা করুন। দরকারে একটা ডায়রিতে নোট করা শুরু করুন। এতে মনোবিদের সাহায্য নেওয়াও সহজতর হবে। তবে মনে রাখবেন, রোগ নিয়ে চিন্তা করা মানেই কিন্তু ‘হাইপোকন্ড্রিয়াক’ হয়ে যাওয়া নয়।