ডে কেয়ারে নির্মম শিশু নির্যাতন, সন্তানকে ক্রেশে রাখার আগে এই বিষয়গুলি অবশ্যই দেখে নিন
ডে কেয়ার সেন্টারে খুদেকে নির্মম নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও ভাইরাল। যা দেখে গায়ে কাঁটা দিচ্ছে বাবা-মায়ের। সত্যি কি ডে কেয়ার সেন্টারে নিরাপদে আছে প্রাণের চেয়ে প্রিয় সন্তান, উঠছে প্রশ্ন।
বেঙ্গালুরুর ওই ডে কেয়ারে থাকা শিশুদের উপর রীতিমতো নির্যাতন চলত। বাচ্চাদের কান্না বন্ধ রাখার জন্য ওয়াশিং মেশিনে ঢুকিয়ে দেওয়া হত। তারপর মুখে জল স্প্রে করত দায়িত্বে থাকা কর্মীরা। এমনকী বাথরুমেও ঢুকিয়ে দেওয়া হত কাঁদতে থাকা শিশুদের। এমন ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কারোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হয়নি। আপাতত পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে এফআইআর। নির্যাতনের ভিডিও জমা দেওয়া হয় কমিশনের কাছে।
আরও পড়ুন:
এই ঘটনা দেখার পর অনেকেই বলছেন, ডে কেয়ার সেন্টার বাছাইয়ের আগে কিছুটা সাবধান হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। পরখ না করে নিজের প্রাণের চেয়ে প্রিয় সন্তানকে না রাখাই ভালো। প্রথমেই দেখে নিন, ডে কেয়ার সেন্টারে থাকা খুদেদের সামলানোর মতো আয়া রয়েছেন কিনা। প্রতি ৫ জন বাচ্চা পিছু একজন পরিচারিকা থাকা আবশ্যক। নইলে খুদের পরিচর্যার অভাব এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
ডে কেয়ার সেন্টারের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দিন। প্রতিটি ঘর এবং যেখানে আপনার সন্তান খেলা করবে, ঘুমোবে - সেই জায়গাগুলি পরিষ্কার কিনা দেখে নিন। খেয়াল রাখুন আয়া কিংবা পরিচারিকারা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কিনা। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন, কীভাবে ডে কেয়ার সেন্টার পরিষ্কার রাখেন সে বিষয়ে। পরিষ্কার না থাকলে আপনার খুদেই অসুস্থ হয়ে পড়বে। তাই ডে কেয়ার সেন্টার বাছাইয়ের আগে সতর্ক হোন।
শিশুর নিরাপত্তার সবার আগে। তাই ডে কেয়ার সেন্টারে খুদেকে পাঠানোর আগে নিজে সরেজমিনে খতিয়ে দেখুন। সমস্ত সুইচবোর্ড, দরজা বন্ধের ব্যবস্থাপনা দেখে নিন। অবশ্যই দেখুন সেখানকার পরিবেশ কেমন। মনে রাখবেন শিশুরা যা দেখে তাই শেখে। তাই খারাপ পরিবেশে রাখলে নানা বদভ্যাস তৈরি হতে পারে। প্রয়োজনে ডে কেয়ার সেন্টার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন। আপনার সমস্ত চাহিদায় সবুজ সংকেত পেলে তবেই রাখুন খুদেকে।
আরও পড়ুন:
ডে কেয়ার সেন্টারে সিসি ক্যামেরার বন্দোবস্ত না থাকলে বাদ দিন। যদি থাকে সেক্ষেত্রে ক্যামেরার সঙ্গে নিজের মোবাইলের সংযোগ করুন। খুদে ঢোকামাত্র ভালো করে দেখুন সে সেখানে ঠিকঠাক আছে কিনা। অতিরিক্ত কান্নাকাটি করলে জানবেন মানিয়ে নিতে পারছে না। সেক্ষেত্রে জোর না করাই ভালো। দিনের বেশিরভাগ সময় সঠিকভাবে থাকতে না পারলে হিতে বিপরীত হতে পারে। শারীরিক ও মানসিক সমস্যা তৈরি হতে পারে।
শৈশবই শিশুর ভবিষ্যতের ভিত। তাই তা একবার নষ্ট হয়ে গেলে বিপদ। নিজের কাজের ব্যস্ততা সামাল দিতে গিয়ে তাই খুদেকে এমন কোনও জায়গায় রাখবেন না, যাতে তার ক্ষতি হয়। তাই সমস্ত শর্তপূরণ হলে তবে সেই ডে কেয়ার সেন্টারকে বেছে নিন। আর খুদেকে রাখুন। দূরে থাকলেও সবসময় খুদের ডে কেয়ার সেন্টার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন।