১৫০ দিনেই ফুটো জেন জির ‘দুর্নীতিমুক্ত দেশে’র স্বপ্নের ফানুস, বলেন্দ্রর নেপাল থেকে শিখবে ভারত?
দেশজুড়ে বাড়ছে জেন জি আন্দোলনের মুখ ককরোচ জনতা পার্টির জনপ্রিয়তা। তাহলে কি আগামী দিনে ভারতও বলেন্দ্রর মতো কোনও ‘অযোগ্য’কে প্রধানমন্ত্রী পদে বসাবে?
মার্চ মাসে শপথ নেন বলেন্দ্র। নেপালের জেন জি ভেবেছিল, দেশের হাল ফেরাতে পারেন একমাত্র তিনিই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসাবে প্রথম পদক্ষেপেই দেশে ছাত্র রাজনীতিতে লাগাম পরান বলেন্দ্র। রাজনৈতিক দলগুলির ছাত্র ইউনিয়ন কার্যত নিষিদ্ধ করে দেন। জেন জি' আশাভঙ্গের সেই শুরু। হাজার হাজার শিক্ষার্থী ফের বিক্ষোভে নামেন বলেন্দ্রর বিরুদ্ধে। তারপর সময় যত গড়িয়েছে, বলেন্দ্র ক্রমেই জনপ্রিয়তা হারিয়ছেন।
আরও পড়ুন:
ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে শুল্ক চাপান বলেন্দ্র। ভারত থেকে আসা পণ্যের মূল্য একশো টাকার বেশি হলেই বাধ্যতামূলক শুল্ক দিতে হবে, জানিয়ে দেন তিনি। বিপাকে পড়ে নেপালের সীমান্তবর্তী আমজনতা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ে। ভারত থেকে পণ্য আমদানিতেও কড়াকড়ি শুরু করেন। সমস্যা শুরু হয় প্রশাসনিক ক্ষেত্র থেকেও। পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হন এক তরুণ। নেপালি জনতার অসন্তোষ বাড়ে।
দেশে একের পর এক সমস্যার মধ্যেই নেপালে মাথাচাড়া দেয় সাম্প্রদায়িক হিংসা। হিন্দু-মুসলিম সংঘাতের বলি হন তিনজন। এই ঘটনার আগে পর্যন্ত দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বার্তা দেওয়ার প্রয়োজনটুকু বোধ করেননি বলেন্দ্র। সাম্প্রদায়িক হিংসার পর অবশেষে তাঁর ঘুম ভাঙে। তার দিনকয়েক আগে নেপালের পার্লামেন্টে তিনি বলে বসেন, নেপাল ভারতের জমি দখল করেছে। এই মন্তব্যে নেপালের আমজনতার ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়ে।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও পদে পদে ব্যর্থ হয়েছেন বলেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তিনি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেননি, বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি এমনকী সংসদের অধিবেশনেও যোগ দেননি। সাফ জানিয়েছেন, মন্ত্রী ছাড়া কারোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না। নিজের দলের সঙ্গেও বলেন্দ্রর দূরত্ব বেড়েছে। আরএসপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না বলেন্দ্র। দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে না এসে ছুটি কাটাতে চলে গিয়েছেন, এমন অভিযোগও রয়েছে বলেন্দ্রর বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন:
এহেন পরিস্থিতিতে বলেন্দ্রর দলই মনে করছে, দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা নেই প্রাক্তন র্যাপারের। তিনি বিরোধী আসনে থেকে সরকারকে প্রশ্ন করতে পারতেন ভালোভাবে। কিন্তু দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাটা বলেন্দ্রর দ্বারা সম্ভব নয়। তাই প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলেন্দ্র, যা আখেরে আমজনতার স্বার্থের পরিপন্থী। আরএসপি আরও মনে করছে, যে দল বলেন্দ্রকে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসাল সেই দলকেই অবজ্ঞা করছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ১৫০ দিন পূর্ণ হতে না হতেই বলেন্দ্রর ইস্তফা চাইছে সেই জেন জি, যারা ক'দিন আগে ভোট দিয়ে তাঁকে ক্ষমতায় এনেছিল। সম্প্রতি ভারতও জেন জি প্রতিবাদের সাক্ষী থেকেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন সেই আন্দোলনের জেরে। দেশজুড়ে বাড়ছে জেন জি আন্দোলনের মুখ ককরোচ জনতা পার্টির জনপ্রিয়তা। তাহলে কি আগামী দিনে ভারতও বলেন্দ্রর মতো কোনও 'অযোগ্য'কে প্রধানমন্ত্রী পদে বসাবে? বাড়ছে চিন্তা।
ভারতীয় জেন জি অবশ্য নেপালের মতো সরকার উৎখাতের পথে হাঁটেনি। ভারতীয় গণতন্ত্র নেপালের মতো ঠুনকো নয়। এদেশের মানুষ জানেন, ভোটবাক্সের মাধ্যমে সরকার ভাঙাগড়ার ক্ষমতা এখনও রয়েছে তাঁদের হাতে। তাই বলেন্দ্রর মতো 'অযোগ্য' নয়, যোগ্য রাজনীতিবিদদের সমর্থন করবে ভারতের জেন জি, ধরে নেওয়া যেতে পারে। তবে নেপালকে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ভারতের জেন জির, বলাই বাহুল্য।