৬টা বাজলেই ঘরবন্দি! কষ্ট ভুলতে রোজ মদ্যপান, মৃত্যুর আগে প্রাক্তনের কাছে ফেরেন এই অভিনেত্রী
অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা তাঁকে খ্যাতির শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল। সাফল্যের আড়ালে ব্যক্তিগত জীবন ছিল একাকীত্ব ও সংগ্রামে ভরপুর। প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেত্রীর কষ্টির কাহিনি শুনলে চোখে জল আসবে।
১৯৭২ সালে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে তিনি মারা যান। রেখে গিয়েছেন এক অমলিন উত্তরাধিকার, যা আজও ক্লাসিক হিন্দি সিনেমাকে সমৃদ্ধ করে। মাত্র কুড়ি বছর বয়সেই তাঁর সাবলীল অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করত। ৯০টি ছবিতে ওঅভিনয় করেছিলেন। ঝুলিতে রয়েছে চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। প্রত্যেকটি সফল নায়কই তাঁর বিপরীতে কাজ করার ইচ্ছপ্রকাশ করতেন।
আরও পড়ুন:
নতুন ছবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে বাধা দিতেন। মেকআপ রুমে কাউকে ঢুকতে দিতেন না এবং সন্ধ্যা ছ'টার মধ্যে বাড়ি ফেরার কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি তখন বলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রী, তবুও সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে যাওয়ার স্বাধীনতা ছিল না। তবুও ভালোবাসার টানে স্বামীর সব কথা শুনে সংসার করতেন মীনা।
আরও পড়ুন:
অবশেষে ভেঙে যায় তাঁদের দাম্পত্য। বিচ্ছেদের পর রাতে অনিদ্রার জন্য অল্প পরিমাণ ব্র্যান্ডি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসক। অল্প সময়ের মধ্যেই লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হন। সেই সময় চিকিৎসক তাঁকে মদ ছুঁতে বারণ করেছিলেন। কারণ একফোঁটা মদও প্রাণঘাতী হতে পারে। কিন্তু তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ না মেনে নিয়মিত মদ্যপান করতেন।
তাঁর মৃত্যু ছিল ভীষণই বেদনাদায়ক। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে মীনা কুমারী মারা যান। জীবনের শেষ দিনগুলিতে আর্থিকভাবে লড়াই করছিলেন এবং আপনি জেনে অবাক হবেন যে তাঁর মৃত্যুর পরে পরিবার হাসপাতালে ৩৫০০ টাকাও দিতে পারেনি। পরিচালক বিমল রায়ের মেয়ে রিঙ্কি রায় ভট্টাচার্য, একবার একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘অভিনেত্রীর মৃত্যুর দিন লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৩৫০০ টাকা ছিল না।’