দিনে ২২ মিনিট চুমু খেলেই আয়ু বাড়বে ৭ বছর! দাবি জার্মানির বিজ্ঞানীদের
ঠিক কী বলেছিলেন মনোবিজ্ঞানী আর্থার জাবো?
মনোবিদ আর্থার জাবোর নাম এক্ষেত্রে করাই যায়। তবে তিনি যা বলেছিলেন, তা পালটে গিয়েছে কালে কালে। গত শতকের আটের দশকে জার্মানির এই মনোবিদ এক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, যেসব পুরুষ কাজে যাওয়ার আগে স্ত্রীকে সকালে চুমু খান, তাঁরা চুমু না খাওয়া পুরুষদের তুলনায় গড়ে ৫ বছর বেশি সময় বেঁচে থাকতেন।
আরও পড়ুন:
কালক্রমে সোশাল মিডিয়ায় সেই ৫ বছর থেকে বেড়ে ৭ বছরে পরিণত হয়েছে। সকালের চটজলদি বিদায়ী চুমু রূপান্তরিত হয়েছে ২২ মিনিটের চুম্বনে। অর্থাৎ বিষয়টি যে অতিরঞ্জিত তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু চুম্বনের সঙ্গে আয়ুর বিষয়টিকে অস্বীকার করা যাবে না। জাবো সেদিকেই আলো ফেলেছেন। নিয়মিত চুম্বনে ‘ফিল গুড’ হরমোন নিঃসৃত হয়। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। সামগ্রিক ভাবে শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
গবেষকরা বলছেন, এই ধরনের ঘনিষ্ঠতা প্রায়শই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে এবং দীর্ঘ ও সুখী জীবনযাপনে সহায়তা করে। বিষয়টা স্টপওয়াচ ধরে সময় মাপার নয়। এক্ষেত্রে মূল বিষয় হল পারস্পরিক বন্ধন। সেই বন্ধনের প্রেমস্পর্শই শরীরে যোগ করে আয়ু। সুতরাং ৫ বা ৭ বছর কিংবা ২২ মিনিটের কথা না ভেবে দিনে নির্দিষ্ট সময়ে কাছাকাছি থাকুন ভালোবাসার মানুষের।
এপ্রসঙ্গে বলা যায়, চুম্বনের বিবিধ উপকারিতার কথা বলে থাকেন বিজ্ঞানীরা। যেমন চুমু খেলে রক্তচাপ কমে। কমে ব্যথা। এমনকী, চুম্বনে লালারসের বিনিময়ের ফলে মুখের স্বাস্থ্য, সোজা কথায় দাঁত সুস্থ থাকবে। ফলে খাবারের টুকরো দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকে না। লালা বিনিময়ের ফলে নতুন সব অণুজীবের সংস্পর্শে আসে মানুষ। যাকে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য এক ধরনের প্রাকৃতিক 'ক্রস-ট্রেনিং' হিসেবে ধরা হয়।
আরও পড়ুন:
লালারসের বিনিময় ছোঁয়াচে অসুখও ডেকে আনতে পারে। তবে সঙ্গী বা সঙ্গিনী বহুদিনের হলে এই বিপদ অনেকটাই কেটে যায়। সুতরাং স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে চুম্বন করলে তার ফল যে সদর্থক হতে পারে সেই সম্ভাবনাই বেশি। তাছাড়া ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে পারলেই যে জীবনীশক্তি মেলে সেকথা নতুন কিছু নয়। বিখ্যাত ব্যান্ড 'ঈগল'-এর সেই লাইনটা মনে করুন- হোয়েন উই আর হাংরি/ লাভ উইল কিপ আস অ্যালাইভ।