সোমেই বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল! বহুবিবাহ বন্ধ-সহ রয়েছে আর কী সুবিধা?
অভিন্ন দেওয়ানি বিধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হল ভারতীয় সংবিধানের ৪৪ ধারা, যেখানে বলা হয়েছে দেশের সমস্ত নাগরিকের জন্য একই আইন থাকবে।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হল ভারতীয় সংবিধানের ৪৪ ধারা, যেখানে বলা হয়েছে দেশের সমস্ত নাগরিকের জন্য একই আইন থাকবে। সংবিধানের এই নির্দেশমূলক নীতিকে ভিত্তি করেই মূলত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান-সহ একাধিক ধর্মের নানা নিয়ম রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট, হিন্দু সাকসেশন অ্যাক্ট , পার্সি ম্যারেজ অ্যান্ড ডিভোর্স অ্যাক্ট।
আরও পড়ুন:
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হলে এই আইনগুলি বাতিল হবে। ধর্মীয় আদর্শের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া শরিয়া আইন (মুসলিম পার্সোনাল ল) বাতিল হবে। বিবাহ এবং বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে রাজ্যজুড়ে মানা হবে একটাই আইন। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আওতাতেই বিয়ে এবং ডিভোর্স হবে। ধর্ম নির্বিশেষে সকলের জন্য একই আইন থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিধির ফলে বিশেষত মহিলাদের স্বেচ্ছায় বিয়ে এবং ডিভোর্স করার ক্ষমতা বাড়তে চলেছে।
বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে বিবাহ সংক্রান্ত কী কী নিয়ম থাকতে পারে সেই নিয়ে চর্চা চলছে। উত্তরাখণ্ডের নিয়ম অনুযায়ী, বিয়ের ক্ষেত্রে সরকারি রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। রেজিস্ট্রেশন না থাকলে ওই বিয়ে আইনি স্বীকৃতি পাবে না। বিবাহিত অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবেন না কেউ। বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষদের ২১ এবং মহিলাদের বয়স ১৮ বছর হতেই হবে। সামাজিক বিয়ের পর ছ'মাস সময় দেওয়া হবে রেজিস্ট্রেশনের জন্য।
সম্পত্তির উত্তরাধিকারেও ধর্মীয় আইন একেবারে খারিজ হয়ে যাবে। বর্তমানে উত্তরাধিকার নির্ধারিত হয় ধর্মীয় আইনের ভিত্তিতে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হন মহিলারা। সেটা বন্ধ করতে পারে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। নতুন আইনে সম্পত্তির উত্তরাধিকারে বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী এবং সন্তানদের সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে। পুত্র এবং কন্যাকেও সম্পত্তির সমান ভাগ থাকবে। বিধবাদেরও স্বামীর সম্পত্তিতে সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সবচেয়ে বেশি আলোচিত লিভ ইন সম্পর্কের নিয়মাবলি। আইন অনুযায়ী, সরকারিভাবে নথিভুক্ত করাতে হবে লিভ ইন সম্পর্ক। বিয়ে এবং লিভ ইন রেজিস্ট্রি না করালে ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। লিভ ইন সঙ্গী প্রাপ্তবয়ষ্ক নাহলে তার অভিভাবকের সই থাকবে রেজিস্ট্রেশনে। এই কড়াকড়িতে বাল্যবিবাহ, প্রতারণা এড়ানো যাবে বলে বিজেপির যুক্তি। শুভেন্দুর সরকার লিভ ইন নিয়ে কী শাস্তির ব্যবস্থা করবে, চলছে চর্চা।
যদিও অসমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি থেকে বাইরে রাখা হয়েছে আদিবাসীদের। একই পথে হাঁটবে পশ্চিমবঙ্গও, এমনটাই জানিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। অর্থাৎ আদিবাসী-জনজাতির ঐতিহ্য এবং রীতিনীতি বজায় থাকবে। অন্যান্য নিয়মকানুন মোটামুটি দেশজুড়ে একইরকম থাকবে। মূলত বিয়ে, দত্তক এবং উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে নতুন আইন। যদিও ফৌজদারি আইন বরাবরই গোটা দেশে সমান। এবার দেওয়ানি বিধিও একই হতে চলেছে রাজ্যজুড়ে।
বাংলার পাশাপাশি বিজেপিশাসিত একাধিক রাজ্যে চলছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের প্রস্তুতি। মধ্যপ্রদেশে চলছে খসড়া তৈরির কাজ। ছত্তিশগড়, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশেও নতুন বিধি খতিয়ে দেখছে রাজ্য সরকারগুলি। বিরোধীদের প্রবল আপত্তি রয়েছে নতুন বিধি নিয়ে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধির ফলে নারীদের অবস্থার উন্নতি হতে পারে। তবে এই নীতি লঙ্ঘনের শাস্তি হিসাবে কী কী ব্যবস্থা আনছে শুভেন্দুর সরকার, সেদিকে নজর থাকবে।