প্রবাদে নয়, সত্যিই ছিল সাপের পা! কীভাবে ওই অঙ্গ হারাল তারা?
সাপেরা তাদের নমনীয় শারীরিক গঠনকে কাজে লাগিয়ে দ্রুতগতিতে বৈচিত্রময় হয়ে উঠেছে গোড়া থেকেই।
সুদূর অতীতে, যখন ডাইনোসররা পৃথিবীতে দাপিয়ে বেড়াত তখনও ছিল সাপ। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বাসস্থানে ঢুকে তাদের অনায়াসে গিলে ফেলত আদিম সময়ের ভয়াল সরীসৃপরা। অন্তত তেমনই দাবি নর্দার্ন অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী মার্ক টলিসের। যদিও এটা একেবারে সঠিক করে আজও বলা যায়নি। কেননা অন্যান্য বহু প্রাণীদের মতোই সাপের জীবাশ্মের ধারাতেও বিস্তর ফাঁক থেকে গিয়েছে। তাই তাদের উৎপত্তি এবং নিকটতম আত্মীয়দের খোঁজ- কোনওটাই মেলেনি।
আরও পড়ুন:
তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন জীবাশ্মের খোঁজ মিলেছে। সাড়ে ১২ কোটি বছর আগে সাপেরা তাদের নমনীয় শারীরিক গঠনকে কাজে লাগিয়ে দ্রুতগতিতে বৈচিত্রময় হয়ে ওঠে। সব ক'টি মহাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে তারা। সাপের সর্বত্রগামী। মাটির গভীরে গর্ত খুঁড়ে ঢোকে, সাগরের জলে সাঁতার কাটে, গাছের ডালপালা- সব স্থানেই সাপেদের দৌরাত্ম্য।
অতি ক্ষুদ্র 'থ্রেডস্নেক' যেমন রয়েছে, তেমনই বিশ ফুটের অ্যানাকোন্ডাও এই পৃথিবীতেই রয়েছে। কোনও সাপ শিকারকে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মারে। আবার কোনওটি বিষ প্রয়োগে শিকারকে নিস্তেজ করে দেয়। এই বিপুল বৈচিত্র সত্যিই বিস্ময়কর। এমন সাপও আছে যারা ডিম পাড়ে, আবার সরাসরি জীবন্ত শাবকের জন্ম দেয় এমন সাপও রয়েছে। এমনকী এমন সাপও আছে যারা কোনো পুরুষ সাপের সহায়তা ছাড়াই প্রজনন ঘটাতে সক্ষম।
এমনই বৈচিত্রের পাশাপাশি সাপের বিবর্তনও কম হয়নি। মনে করা হয়, অন্তত ১০ কোটি বছর আগেও সাপেদের পা ছিল। সাপেদের চারটি পা থাকত, যা তারা চলাচলের পরিবর্তে শিকার ধরা কিংবা প্রজননের কাজে ব্যবহার করত। বিজ্ঞানীরা ব্রাজিলে Tetrapodophis amplectus নামক চার পায়ের সাপের জীবাশ্ম পেয়েছেন। পাইথন বা বোয়া সাপের শরীরে আজও ছোট পায়ের হাড়ের অবশিষ্টাংশ বা 'পেলভিক স্পার' দেখা যায়।
আরও পড়ুন:
এপ্রসঙ্গে বলা যায় Breugnathair elgolensis জুরাসিক যুগের একটি চারপেয়ে জীবাশ্মের কথা। যা স্কটল্যান্ডে আবিষ্কৃত হয়েছিল। ২০২৫ সালে ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল এই সংক্রান্ত গবেষণাপত্র। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের জীবাশ্মবিদ সুজান ই ইভান্স জানাচ্ছেন, “রাস্তায় চলার পথে আপনি যদি এটাকে দেখতে পেতেন, আপনার মনে হত হয়তো স্রেফ একটি ইগুয়ানা কিংবা সাধারণ কোনও টিকটিকি!”
নিউ ইয়র্কের আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রির জীববিজ্ঞানী ড্যানিয়েলা গার্সিয়া কোবোসের মতে, যে প্রাণীরা লাগাতার মাটির নিচে হামাগুড়ি দেবে বা ঘাসের মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলে, তাদের ক্ষেত্রে পা একটা 'বোঝা' হয়ে দাঁড়ায়। সাপের ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটেছিল। ঠিক কোন সময়ে এমনটা ঘটেছিল তা অবশ্য নিশ্চিত করে বলা যায়নি।
কেবল পা নয়, সাপের মাথাও অনেক বদলেছে। আদিম যুগের পরে যত সময় এগিয়েছে, ততই মাথাটি অত্যন্ত নমনীয় ও শিকার ধরার উপযোগী হয়ে ওঠে। পাশাপাশি মুখ অস্বাভাবিক বড় করে খোলা ও বড় শিকার গিলে খাওয়ার ক্ষমতাও পায় তারা। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সাপেদের পায়ের ব্যবহার কমে গেলে ক্রমেই তাদের মাথার খুলিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছিল।