ফিরহাদ থেকে চন্দ্রিমা, প্রিয়জনরাই ক্রমশ নিঃস্ব করছে মমতাকে! দুঃসময়ে নেত্রীর সঙ্গ ছাড়লেন কারা?
হাতে গোনা কয়েকজনই রয়েছেন মমতার সঙ্গে।
একটা সময় ইন্দিরা গান্ধীর আদর্শ ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল ফিরহাদ হাকিমকে। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাজনীতিতে প্রবেশ। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল তৈরি হওয়ার পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গী ফিরহাদ। তাঁকে তৃণমূল সুপ্রিমোর একদা ডান হাত বললে অত্যুক্তি হবে না। মমতা সরকারের একাধিকবারের বিধায়ক, মন্ত্রী তিনি। কিন্তু পালাবদল হতেই সুকৌশলে মমতাকে ছেড়ে ঋতশিবিরে হাত মিলিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গী অরূপ বিশ্বাস। তিনি দলনেত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেনও বটে। সেই কারণেই তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষের পদ পেয়েছিলেন। কিন্তু ভাঙনের মরশুমে দেখা গেল তিনিও কালীঘাট তৃণমূলের পাশে নেই। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরই মেসি কাণ্ডে বেশ চাপে পড়েছিলেন অরূপ। তারপর দীর্ঘদিন বেপাত্তা ছিলেন। পরবর্তীতে আচমকাই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের তরফে আয়োজন করা জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে দেখা যায় তাঁকে।
মালা রায়ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে অত্যন্ত বিশ্বস্ত সৈনিকদের একজন। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে দলের সঙ্গেই তিনি। 'আসল তৃণমূল' কারা তা নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হতেই দলের কমিটি ভেঙে মমতা যে নতুন কমিটি গঠন করেছিলেন তাতেও জায়গা পেয়েছিলেন মালা। কিন্তু তারপর আর সক্রিয়ভাবে দলের কাজে দেখা যায়নি। কালীঘাটের বৈঠকেও গরহাজির ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে দিল্লি গিয়ে যোগ দেন বিদ্রোহী শিবিরে।
একাধিকবারের বিধায়ক, তৃণমূলে সরকারের একাধিক দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। কালীঘাট তৃণমূলের নতুন কমিটিতে রাজ্য সভাপতির পদে ছিলেন তিনি। গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার পর্যন্ত মমতার সঙ্গেই ছিলেন চন্দ্রিমা। কিন্তু মেট্রোপলিটনের তৃণমূল কার্যকালয়ের দখলকে কেন্দ্র করে দলনেত্রীর কথায় অভিমান হয়েছে তাঁর। যার জেরে রাতারাতি দলের সব পদ ছেড়েছেন চন্দ্রিমা।
আরও পড়ুন:
তৃণমূলের দীর্ঘদিনের সঙ্গী দেবাশিস কুমার। একসময় দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন। একাধিকবার বিধায়ক হয়েছেন তৃণমূলের টিকিটে। রাজ্যে পালাবদলের পর আর সেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা যায়নি তাঁকে। এই মুহূর্তে তিনি বিদ্রোহী শিবিরে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে হাত রেখে মমতার হাত থেকে তৃণমূলকে কেড়ে নেওয়ার খেলায় মেতেছেন সেই দেবাশিস।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার দশকের সঙ্গী ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। লোকসভার মুখ্যসচেতক পদ নিয়ে অশান্তির জেরে মমতার সঙ্গে দূরত্ব বাড়ান কাকলি। প্রকাশ্যে মমতা-অভিষেককে আক্রমণ করেন তিনি। ক্ষোভের জেরে কাকলিপুত্র তাঁর বিয়েতে দেওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপহার ফেরানোর সিদ্ধান্তও নেন। এই মুহূর্তে কাকলির নেতৃত্বে বিদ্রোহী ২০ তৃণমূল সাংসদ যোগ দিয়েছেন এনসিপিআই নামে একটি দলে।
১৯৯৮ সালে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা থেকেই দলের সঙ্গে ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু। নেত্রীও তাঁকে ভরসা করেছেন।বিধায়ক-মন্ত্রিত্ব সবই পেয়েছেন। পরবর্তীতে রেশন দুর্নীতি মামলায় জেলযাত্রা হওয়ার পরও সেই ভরসা অটুটই ছিল। বারবার মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘বালুকে ফাঁসানো হয়েছে।’ দলের নতুন জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্য করা হয়েছিল তাঁকে। তারপরই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান বালু। শিবির বদল করেননি তিনি তবে মমতার সঙ্গেও নেই বালু।