বাড়ছে সমুদ্রতলের উচ্চতা, ২১০০ সালের মধ্যে তলিয়ে যাবে কলকাতা! তালিকায় আর কোন শহর?
জলস্তর বাড়ার পাশাপাশি সামগ্রিক ভাবেই গোটা বিশ্বের পরিবেশ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে চলেছে।
এই তালিকায় প্রথমেই এসে পড়ে মালদ্বীপের নাম। ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যানুসারে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা খুব দ্রুত বাড়ছে। আর তার ফলেই মালদ্বীপের রাজধানী মালে ডুবে যেতে পারে। আসলে মালদ্বীপ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮০ শতাংশ নিচে অবস্থান করছে এখনই। আর তাই আগামিদিনে এখানে বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে চলেছে মায়ামিতেও! আমেরিকার ফ্লোরিডার অন্যতম এই শহর তার সুনীল জলরাশি ও মনমাতানো আবহাওয়ার জন্য পর্যটকদের 'নয়নের মণি'। অনেকে একে 'ম্যাজিক সিটি' বলে। কিন্তু সেই শহরই 'ভ্যানিশ' হয়ে যেতে পারে! ২০৩০ থেকে ২০৪৫ সালের মধ্যে শহরটির একটি বড় অংশ জোয়ারের সময় তলিয়ে যেতে পারে সমুদ্রের অতলান্ত নীলে! আসলে নিচু শহর হওয়ার সমুদ্রের জলস্তর আরও একটু বেড়ে যাওয়ার ফলেই ঘটে যেতে পারে...
তালিকায় রয়েছে চিনও। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াল প্রভাব পড়তে পারে চিনের সামনের দিকে! সেখানে চিনের প্রায় ৪.৩ কোটি মানুষ বাস করেন। ওই অংশটি তলিয়ে গেলে এত মানুষ একসঙ্গে গৃহহীন হয়ে পড়বেন। কেবল জলবায়ু পরিবর্তন নয়, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন এবং বন্যাও বড় ফ্যাক্টর বলে মনে করা হচ্ছে। সাংহাইয়ের মতো বড় শহরগুলি দ্রুত বসে যাওয়ায় আশঙ্কার মেঘ আরও ঘন হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক-সহ দেশটির একটা বড় অংশও রয়েছে আশঙ্কার তালিকাতে। উষ্ণায়নের ধাক্কায় মাটির নিচে বসে যাচ্ছে এই শহরগুলি। যার ফলশ্রুতি ২১০০ সালের মধ্যে ওই সব জনপদ মুছে যেতে পারে। এমনিতেই ভৌগোলিক কারণে এই দেশের নদী উপত্যকাগুলি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। জলবায়ুর পরিবর্তন সেখানে আরও ভয়াল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আর এই সব তালিকায় কেবল ভারতের বাইরের দেশগুলিই রয়েছে এমন ভাবা কারণ নেই। এদেশের যে শহরগুলির উপরে ঘনাচ্ছে আশঙ্কার মেঘ, তার মধ্যে রয়েছে কলকাতাও! নাসা জানিয়ে দিয়েছে, যে বারোটি উপকূলীয় শহর নিয়ে ভয় তার মধ্যে রয়েছে তিলোত্তমার খিদিরপুর অঞ্চল। এছাড়াও ভারতের মুম্বই, কান্ডলা, ওখা, ভাবনগর, মার্মাগাঁও, ম্যাঙ্গালুরু, কোচিন, পারাদ্বীপ, বিশাখাপত্তনম, চেন্নাই, তুতিকোরিনও রয়েছে তালিকায়।
বলে রাখা যাক, জলবায়ুর পরিবর্তনের নানা প্রভাবই দেখা যাবে। অতিবৃষ্টির মতোই খরার প্রকোপও দেখা যেতে পারে। কোথাও কোথাও তুষারপাতের মাত্রায় বাড়বে। সব মিলিয়ে প্রতিকূলতা বাড়বে। জলস্তর বাড়ার পাশাপাশি সামগ্রিক ভাবেই গোটা বিশ্বের পরিবেশ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে চলেছে। কয়েক দশকের মধ্যেই পরিস্থিতি কার্যতই হাতের বাইরে চলে যেতে পারে।
এমতাবস্থায় বিশ্ব উষ্ণায়নের মোকাবিলা করা আশু কর্তব্য হয়ে উঠবে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে সৌর বা বায়ুশক্তির মতো শক্তির দিকে ঝুঁকতে বলছেন গবেষকরা। প্লাস্টিক বর্জনের মতো একাধিক পদক্ষেপেও সদর্থক ফলাফল মিলতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, গোটা পৃথিবীতেই এই সচেতনতার অভাব সামগ্রিক ভাবেই লক্ষ করা যাচ্ছে। ফলে 'সিঁদুরে মেঘ' দেখছেন গবেষকরা।