প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ থেকে অনিল আম্বানি, সবচেয়ে বেশি অনাদায়ী ঋণ কাদের? তালিকা চমকে দেবে
সরকারি ব্যাঙ্কগুলির লক্ষ কোটি টাকার বকেয়া, রাজনৈতিক প্রভাবেই পার পেয়ে যান ধনকুবেররা?
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি অনাদায়ী ঋণ রয়েছে ল্যাঙ্কো গ্রুপের নামে। এই ল্যাঙ্কো গ্রুপ অন্ধ্রের সংস্থা। এদের মূল ব্যবসা ছিল রিয়েল এস্টেট এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ। ২০১৭ সালে সংস্থাটি দেউলিয়া হয়ে যায়। এই সংস্থার কর্ণধার ছিলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ এল রাজাগোপাল। পরে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। ল্যাঙ্কো গ্রুপের মোট অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ১ লক্ষ ২৭ হাজার কোটি।
আরও পড়ুন:
প্রকাশ্যে আসা অনাদায়ী ঋণের অঙ্কে দ্বিতীয় স্থানে অনিল আম্বানির সংস্থা রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস। মোট ১২টি ব্যাঙ্কের প্রায় ৭১ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা অনাদায়ী ঋণ রয়েছে আর-কমের নামের পাশে। ২০১২ সালের পর থেকে আম্বানির ব্যবসার অধঃপতন শুরু হয়। চমকপ্রদভাবে ল্যাঙ্কো গ্রুপের কর্ণধার রাজাগোপালের বিরুদ্ধে কোনও মামলা না হলেও অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে একাধিক ব্যাঙ্ক মামলা করেছেন।
সবচেয়ে বেশি অনাদায়ী ঋণের তালিকায় ৩ নম্বের ভিডিওকন গ্রুপ। সংস্থার কর্ণধার বেনুগোপাল দূতের ভাই প্রাক্তন শিব সেনা সাংসদ। মোট সাতটি ব্যাঙ্কের প্রায় ৭০ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে ভিডিওকনের নামের পাশে। ২০১৮ সালে বেনুগোপাল দূত আইসিআইসিআইয়ের ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান ছন্দা কোচরকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মুক্তিও পান তিনি।
এই তালিকায় চতুর্থ নাম গীতাঞ্জলী জেমসের। মালিক মেহুল চোকসি এবং তাঁর ভাইঝি নীরব মোদি। মোট ৯টি ব্যাঙ্কের প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে নীরব মোদি এবং মেহুল চোকসির। এঁরা দুজনেই পলাতক। মেহুল চোকসি গ্রেপ্তার হয়েছেন বিদেশের জেলে। নীরব মোদিকেও প্রত্যর্পণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলি। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে কিছু হয়নি।
আরও পড়ুন:
এর বাইরে হিমাচলের ইন্ডিয়ান টেকনোম্যাক (৩০,৬৬৬ হাজার কোটি), দিল্লির ভূষণ পাওয়ার ও স্টিল (৩০ হাজার ২৬০ কোটি) এবং হায়দরাবাদের IVRCL লিমিটেডের (২৭,৪১৮ কোটি) মতো সংস্থারও কোটি কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। মজার কথা হল এই ঋণগ্রহীতাদের অনেকেই এখনও হয় পলাতক, না হয় দেশের মাটিতেই বহাল তবিয়তে ঘুরছেন। কোনও না কোনওভাবে আইনের মারপ্যাঁচে বেঁচে গিয়েছেন।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই এই বিরাট ঋণ যায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির পকেট থেকে। সব মিলিয়ে তথ্য বলছে শুধু দেশের সবচেয়ে বড় ১২টি সংস্থার অনাদায়ী ঋণের পরিমাণই ৫ লক্ষ কোটি টাকা। বিরোধীরা অভিযোগ করেন, স্রেফ মোদি জমানায় ১৬ লক্ষ কোটি টাকার কর্পোরেট ঋণ মকুব হয়েছে। তবে তথ্য বলছে, শুধু এই সরকার নয়, সব সরকারের আমলেই এই ধরনের সমস্যা হয়।