প্রকাশ্যে রোনাল্ডোর বিয়ের ছবি, বাড়ির ডাইনিং রুমই বিবাহ আসর! সন্তানদের বিশেষ বার্তা জর্জিনার
১১ আগস্ট ঘনিষ্ঠ পরিসরে বিয়ে সেরে ফেলেছেন রোনাল্ডো এবং জর্জিনা রদ্রিগেজ।
ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে জর্জিনার সঙ্গে হাত ধরে আংটি পরা ছবি পোস্ট করেছিলেন রোনাল্ডো। ক্যাপশনে লেখেন, ‘সি-জি’। মাঝে হার্ট ইমোজি। আর এবার রোনাল্ডো-জর্জিনার বিয়ের অনুষ্ঠানের কিছু ছবি প্রকাশ্যে এসেছে ‘ভগ’ ম্যাগাজিনের তরফে। এক ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন রোনাল্ডো-পত্নী। সেই ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “ভবিষ্যতে আমরা বড় করে বিয়ের অনুষ্ঠান করব। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সেই আনন্দ ভাগ করে নেব।”
আরও পড়ুন:
ছোটবেলায় জর্জিনার বিয়ের স্বপ্ন ছিল আলাদা। তাঁর কথায়, “স্বপ্ন দেখতাম সবচেয়ে বড় প্রাসাদ, সবচেয়ে বড় ঘোড়ার গাড়ি, সবচেয়ে লম্বা পোশাক আর হিরেতে মোড়া মুকুটের। এখন আমি চাই একেবারে ঘরোয়া কিছু। শুধু সঙ্গী আর সন্তানদের নিয়ে।” কেন এমন সিদ্ধান্ত? জর্জিনা বলছেন, “প্রাসাদ, দ্বীপ, ঘোড়ার গাড়ি– এখন সবই আমাদের হাতের নাগালে। কিন্তু এমন অন্তরঙ্গ মুহূর্ত আমাদের জীবনে বিরল এবং একই সঙ্গে স্পেশালও।”
আর সেই বিশেষ মুহূর্তের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে তাঁদের বাড়ির বসার ঘর। যেখানে প্রতিদিন পরিবারের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, গল্প আর সংসারের নানা মুহূর্ত কাটে। জর্জিনা বলেন, “আমরা আমাদের বাড়ির বসার ঘরেই বিয়ের শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এখানেই আমরা প্রাতরাশ করি। দুপুর বা রাতের খাবার খাই। এখানেই আমাদের জীবন কাটে।”
ভবিষ্যতের কথাও ভেবে রেখেছেন জর্জিনা। “৩০ বছর পর আমি চাই, আমাদের সন্তানরা এই জায়গাটার দিকে তাকিয়ে বলুক, এই টেবিলেই আমাদের বাবা-মায়ের বিয়ের শপথ হয়েছিল। এখানে একটা অসাধারণ ঘটনা ঘটেছিল।” জর্জিনা যখন এ কথা বলছেন, সঙ্গে সঙ্গে মজা করে রোনাল্ডোর মন্তব্য, “সম্ভবত টেবিলটা তখন আর থাকবে না। আমরা হয়তো বাড়ির সাজসজ্জাই বদলে ফেলব!”
আরও পড়ুন:
রোনাল্ডো-জর্জিনার প্রেমকাহিনিও কোনও সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়ে কম নয়। ২০১৬ সালের আগস্টে মাদ্রিদের একটি গুচির শোরুমে প্রথম দেখা তাঁদের। সেখানেই কাজ করতেন জর্জিনা। সম্পর্কটি এতটা শক্তিশালী হবে, জর্জিনার ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়বেন, আশা করেননি রোনাল্ডো নিজেও। জর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়াটাও ছিল অভিনব। যা দেখে জর্জিনাও অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পালা সাঙ্গ হয়। বন্ধনে আবদ্ধ হন ফুটবল জগতের মহাতারকা।
কেমন ছিল সেই প্রথম দেখা? জর্জিনা বলেন, “আমার পিঠ ওর দিকে ছিল। ঘুরে তাকাতেই ওকে দেখলাম। চোখে চোখ পড়ল। তার পর থেকেই… সবটা যেন স্বপ্নের মতো।” রোনাল্ডোও সায় দেন, “হ্যাঁ, স্বপ্নের মতোই।” তার পর কেটে গিয়েছে বহু বছর। সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে, পরিবার বড় হয়েছে। সেই সম্পর্কই পেয়েছে নতুন স্বীকৃতি। রোনাল্ডোর কথায়, “ও আমার জীবনের ভালোবাসা। আমিই ওর জীবনের ভালোবাসা।”
ভগ প্রকাশিত বিয়ের প্রথম ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, প্রচলিত সাদা গাউন বেছে নেননি জর্জিনা রদ্রিগেজ। তাঁর সাজে ছিল গুচির সম্পূর্ণ সাদা পোশাক। লম্বা হাতার স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট এবং ফিটেড মিডি স্কার্ট, দু’টিই তৈরি সিল্ক ফেইল কাপড়ে। সঙ্গে গুচির সিগনেচার ‘হর্সবিট’ নকশার সাদা সাটিন জুতো। খোলা চুল, ন্যুড টোনের মেকআপ এবং সাদা ম্যানিকিউরে জর্জিনার সাজে ফুটে উঠেছিল সরলতা ও আভিজাত্যের মেলবন্ধন।
বিয়েতে প্রচলিত কালো টাক্সিডো বা স্যুটের পথে হাঁটেননি ক্রিশ্চিয়ানোও। তাঁর পরনে ছিল গুচির তৈরি হালকা বেইজ রঙের স্যুট, সঙ্গে সাদা টি-শার্ট এবং কাস্টম গুচি লোফার। গলায় ব্যক্তিগত রোজারিওটিও ছিল। বাড়ির ডাইনিংরুমের এই বিবাহ আসরে পাঁচ সন্তান ছাড়াও ছিলেন মাত্র চারজন সাক্ষী। এর মধ্যে ছিলেন স্পোর্টিং লিসবনের সময়কার বন্ধু মিগুয়েল, জর্জিনার বোন ইভানারা।
শুধু বর-কনেই নন, দম্পতির পাঁচ সন্তান ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র, ইভা, মাতেও, আলানা মার্টিনা এবং বেলা এস্মেরালদাও সেজেছিল গুচির পোশাকে। তাদের পোশাকেও প্রাধান্য পেয়েছিল হালকা রং। জর্জিনা যখন গুচির স্টোরে কাজ করতেন, সেই সময়ই রোনাল্ডোর সঙ্গে তাঁর পরিচয়। ফলে জীবনের অন্যতম বিশেষ দিনে সেই ব্র্যান্ডকেই বেছে নেওয়া যেন ফিরে দেখা সম্পর্কের শুরুর দিনগুলিকে।