‘এরা জঙ্গি’, স্টেডিয়ামে বিক্ষোভ ইরানিদেরই! দেশের মৃত্যুমিছিল বুকে নিয়ে বিশ্বকাপে লড়াই তারেমিদের
দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে বিশ্বকাপে নামার সুযোগ হয়েছে ইরানের।
চলতি বিশ্বকাপ এখনও পর্যন্ত খুব একটা সুখকর হয়নি ইরানের জন্য। যোগ্যতা অর্জন করা সত্ত্বেও একটা সময়ে মনে করা হচ্ছিল, মেহদি তারেমিরা হয়তো খেলতেই পারবেন না বিশ্বকাপে। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে ইরান বিশ্বকাপে খেলছে। কিন্তু মার্কিন মুলুকে স্রেফ ম্যাচের সময়টুকু থাকার ভিসা পেয়েছে গোটা দল। ম্যাচ খেলেই ফের অন্য দেশে পাড়ি দিতে হবে।
আরও পড়ুন:
ইরানের 'ভূমিপুত্র'রাও ক্ষুব্ধ মেহদিদের উপর। টিম হোটেল থেকে শুরু করে স্টেডিয়াম, সর্বত্রই ইরানের জাতীয় দলকে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে 'জঙ্গি' বলে। মঙ্গলবার ম্যাচ খেলতে নামার কয়েকঘণ্টা আগেও ইরানের টিম হোটেলে আছড়ে পড়ে জনরোষ। অন্তত ২০০ জন বিক্ষোভ দেখান হোটেলের সামনে। তাঁদের একটাই মত, তারেমিরা নাকি ইরানের প্রতিনিধিই নন। তাঁরা আয়াতোল্লার 'জঙ্গি' শাসনের দল।
এখানেই শেষ নয়। আগে থেকেই জানা গিয়েছিল, বিশ্বকাপের ম্যাচকে কাজে লাগাতে চাইবে আমেরিকার ইরানি বংশোদ্ভূতরা। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামিক বিপ্লবের আগে-পরে বহু ইরানি পাড়ি দিয়েছিলেন মার্কিন মুলুকে। তাঁরা এদিন সোফি স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভে শামিল হন। তাঁদের হাতে ইরানের পুরনো পতাকা, যা এবারের বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। ইরানের বর্তমান দলকে নিষিদ্ধ করতে চেয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
তবে এদিন বিক্ষোভের আঁচ স্টেডিয়ামের ভিতর পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি। ইরানের পক্ষে জনসমর্থন ছিল চোখে পড়ার মতো। বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন হামলায় ১৬৮ শিশুর মৃত্যুকে স্মরণ করে গ্যালারি থেকে বিশেষ বার্তাও দিলেন সমর্থকরা। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মানুষের এই যন্ত্রণাই যেন লড়াইয়ের শক্তি জোগাল ইরানকে। তাই তো দু'বার পিছিয়ে পড়েও হার মানলেন না মোহাম্মেদ মোহেবিরা।
আরও পড়ুন:
এদিনের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড ধারেভারে ইরানের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে। কিন্তু তারেমিদের লড়াইটা তো স্রেফ মাঠের ১১ জনের বিরুদ্ধে ছিল না। ছিল নিজের দেশেরই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে, মার্কিন মুলুকের নির্দয় ভিসানীতির বিরুদ্ধে। বিশ্বকাপে নামার আগে ইরান প্রস্তুতি নিতে পারেনি বলাই যায়। তবু এদিন মাঠে নেমে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সংগ্রাম করলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের ফুটবলাররা।
মঙ্গলবার সকালের ম্যাচে চারটে গোল হল। ৭ মিনিটের মাথায় নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে দেন এলাইজা। যদিও তারপর থেকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে দুই দলের মধ্যে। বল দখল হোক বা গোলমুখী শট, এক ইঞ্চি জমি কেউ কাউকে ছাড়েনি। ৩২ মিনিটে গোল শোধ করেন ইরানের রামিন রেজাইয়িন। ১-১ ফলে শেষ হয় ম্যাচের প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধের ছবিটাও অনেকটা একইরকম।
এলাইজার দ্বিতীয় গোলে ৫৫ মিনিটে ফের এগিয়ে গিয়েছিল কিউয়িরা। ৯ মিনিটের মধ্যে দুরন্ত গোল ইরানের। মোহেবির মাথা ছুঁয়ে বল জড়িয়ে গেল গোলে। তবে গোটা ম্যাচজুড়ে দুই দলই একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। সবমিলিয়ে দর্শকদের জন্য টানটান ফুটবল উপহার দিল দুই দল। যেহেতু জি গ্রুপের চার দলের ঝুলিতেই এখন ১ পয়েন্ট করে রয়েছে, ফলে নকআউটে ওঠার লড়াইটাও বেশ জমে উঠবে।