ম্যাচের আগে উদ্দাম যৌনতা! মহিলা ডাক্তারের টোটকাতেই বিশ্বকাপে ছুটছে ‘পুঁচকে’ দেশ
পুরো খরচ বহন করছে সেই দেশের ফুটবল ফেডারেশন।
আরও পড়ুন:
কোচ ডিক অ্যাডভোকেট এই বিষয়ে দিলদরাজ। হুরমানের পরামর্শ অনুয়াযী অ্যাডভোকেটই প্লেয়ারদের সঙ্গে তাঁর বান্ধবী বা স্ত্রীদের থাকার স্বাধীনতা দিয়েছেন। বিশ্বকাপের আগে অনেক দলই স্ত্রী বা বান্ধবীদের সঙ্গে সময় কাটানো নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করে। ২০১০-এ ইটালি কোচ ফাবিও কাপেলো প্লেয়ারদের উপর রীতিমতো কারফিউ জারি করেছিলেন। আবার অনেক দল ভারসাম্য রাখায় বিশ্বাসী।
কিন্তু কুরাসাওয়ের দর্শন আলাদা। হুরমানও চান, ম্যাচের আগে ফুটবলাররা সঙ্গিনীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত কাটান। তাতে দলের পরিবেশ অনেক ফুরফুরে থাকবে। হুরমান বলেন, "প্লেয়াররা তাঁদের স্ত্রী, বান্ধবী ও তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে থাকতে পারেন। যাঁদের পরিবার আছে, সেই ফুটবলারদের বাড়তি ঘর দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত বিশ্বকাপে কোনও দল এরকম পদক্ষেপ নেয় না।"
তাঁর বক্তব্য, "আমি মনে করি, যৌনতা সাহায্য করেছে। শারীরিক প্রভাবের থেকেও এর মানসিক প্রভাব বেশি। এত বড় টুর্নামেন্টে পরিবারের সঙ্গ পাওয়া খুব দরকার। তাতে মনখারাপের জায়গা থাকে না। কুরাসাও ছোট দেশ হতে পারে, কিন্তু তাঁরা খুব প্রাণোচ্ছ্বল। আনন্দ-ফুর্তি করতে ভালোবাসে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চায়। ওদের দেখে আমার নিজের দেশ ব্রাজিলের কথা মনে পড়ে।"
আরও পড়ুন:
তবে আরেকটা কারণও আছে। কুরাসাওয়ের জনসংখ্যা মাত্র দেড় লক্ষ। সব প্লেয়ারই বিদেশি বংশোদ্ভূত। অনেক প্লেয়ারই বড় ক্লাবে খেলেন না। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নন। তাই নিজেদের টাকায় পরিবারকে আমেরিকায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় এগিয়ে এসেছে কুরাসাওয়ের ফুটবল ফেডারেশন। পরিবারকে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে পুরো টাকা দিচ্ছে সেই দেশের ফেডারেশনই।
হুরমান বলেন, "আমাদের প্লেয়ারদের খুব বেশি টাকা নেই। আমেরিকায় সপ্তাহের পর সপ্তাহ পরিবারকে রাখা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই ফেডারেশন সেই খরচ বহন করছে। যেখানে প্লেয়ারদের সঙ্গী-সন্তানরা থাকতে পারবে। তাঁদের কোনও দুশিন্তা থাকবে না।" হুরমানের জন্ম ব্রাজিলে। এই বিশ্বকাপের একমাত্র মহিলা মেডিক্যাল স্টাফ। এর আগে রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসভি আইন্দোভেন, নেদারল্যান্ডস অনূর্ধ্ব-১৬ দলের সঙ্গে কাজ করেছেন।
বিশ্বকাপে 'ই' গ্রুপে আছে কুরাসাও। এই মুহূর্তে ২ ম্যাচে এক পয়েন্ট তাদের। শেষ ম্যাচ আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচ জিতলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় স্থানে শেষ করতে পারবে আফ্রিকার দেশ। সেক্ষেত্রে তৃতীয় সর্বোচ্চ পয়েন্ট হিসেবে রাউন্ড অফ ১৬-এ যাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে গোলপার্থক্যে অনেকটা পিছিয়ে থাকায় তাকিয়ে থাকতে হবে বাকি গ্রুপগুলোর দিকে।