মেসির বিশ্বজয়ে বাধা স্বদেশিরাই! ৪ আর্জেন্টাইন মগজাস্ত্র ভাবাবে স্কালোনিকেও
কাদের ভয় পাচ্ছেন স্কালোনি?
আমেরিকার বিশ্বকাপ যদি ভালোভাবে খতিয়ে দেখেন, একটা বিষয়ে আপনাকে নজর কাড়বেই। ভীষণভাবেই আর্জেন্টিনার কোচেদের দাপট।তা শুধুই কোচের চেয়ারে বসে পড়ার জন্য নয়। ম্যাচের রেজাল্টেও। নামগুলো শুনলেই বুঝতে পারবেন। লিওনেস স্কালোনি-আর্জেন্টিনা। নেস্টর লরেঞ্জো-কলম্বিয়া। সেবাস্তিয়ান বেকাসেস-ইকুয়েডর। মার্সেলো বিয়েলসা-উরুগুয়ে। মরিসিও পোচেত্তিনো-আমেরিকা। গুস্তাভো আলফারো-প্যারাগুয়ে।
আরও পড়ুন:
কলম্বিয়ার আর্জেন্টাইন কোচ নেস্টর লরেঞ্জোকে নিয়ে বিশ্বকাপে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। কলম্বিয়াকে নিয়ে ইতিমধ্যেই গ্রুপের প্রথম দুটো ম্যাচ জিতে বসে আছেন। কাতার বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে না পেরে কলম্বিয়ার ফুটবল কর্তারা জাতীয় দলের দায়িত্ব দেন, একদা হোসে পেকারম্যানের কোচিং তত্বে নেড়া বাঁধা নেস্টর লরেঞ্জকে। তিনি শুধু দলকে বিশ্বকাপে আনলেনা না। গ্রুপের বেড়াও টপকে গিয়েছেন।
জার্মানিকে হারানোর পর ইকুয়েডরের আর্জেন্টাইন কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসেকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আর্জেন্টিনার যে পুণ্যভূমি থেকে উঠে এসেছেন লিওনেল মেসি, ডি মারিয়ার কিংবদন্তিরা। রোজারিওর সেই পূন্যভূমির সম্মান রাখার জন্যই যেন একের পর এক চালে প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করছেন ইকুয়েডরের আর্জেন্টাইন কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে। তাঁরও উঠে আসা এই রোজারিও থেকেই। জার্মানিকে ২-১ গোলে হারানোর পর, ইকুয়েডেরের কোচ এখন পূর্ণ তারকার সম্মান পাচ্ছেন।
আমেরিকার কোচ মরিসিও পোচেত্তিনো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর কোচকে বলা হয় মূলত মার্সেলো বিয়েলসার ভাবশিষ্য। যদিও ২০০২ বিশ্বকাপে খেলেছেন আর্জেন্টিনার জার্সিতে। ক্লাবে কোচ থাকাকালীনও সফল তিনি। ২০২৪ সালে আমেরিকার দায়িত্ব নিয়েছেন। সত্যি বলতে, পোচেত্তিনোর আমেরিকা এবারের বিশ্বকাপে যে ব্র্যান্ডের ফুটবল খেলেছে, সেটা আগের কোনও বিশ্বকাপে আমেরিকাকে অন্তত খেলতে দেখা যায়নি।
আরও পড়ুন:
গুস্তাভো আলফারো ফুটবলার হিসাবে বিশেষ সফল না হলেও কোচ হিসাবে বেশ নজর কেড়েছেন। আর্জেন্টিনা-সহ লাটিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশের ক্লাবে কোচিং করানোর পর তিনি ২০২০ সালে ইকুয়েডরের দায়িত্ব নেন। সেখান থেকে কোস্টারিকা থেকে প্যারাগুয়ের কোচিং করাচ্ছেন। প্যারাগুয়ের জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২২ ম্যাচের মধ্যে ১০টি জিতিয়েছেন। হেরেছেন মোটে পাঁচটি।
৭০ বছরের বিয়েলসাকে বলা হয় কোচেদের ‘গুরু’। রোজারিও যে পূন্যভূমি থেকে মেসির উত্থান, সেখানেই যে বেড়ে ওটা বিয়েলসারও। পেপ গুয়ার্দেওয়ালা থেকে এই বিশ্বকাপের মার্কিনি কোচ, মরিসিও পোচেত্তিনো। কত আগেই যে তাঁকে ‘গুরু’ মান্যতা দিয়ে হাতে নেড়া বেঁধেছেন। বিশ্বফুটবলে এই বর্ষীয়ান আর্জেন্টাইন কোচের রণনীতিকে বলা হয়, ‘বিয়েলসিস্তা।’ উরুগুয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েছেন সেটাও বিয়েসলার ভুলেই।
আর্জেন্টাইন কোচ স্কালোনির কথা ছেড়েই দিন। তার সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ এখন ক্লাস ফোরের বাচ্চাও গড় গড় করে বলে দেবে। আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নেওয়ার পর যেভাবে তিনি মেসির অধরা স্বপ্নপূরণ করেছেন। সেটা বোধ হয় নতুন করে বলার থাকে না। ২০১৮ থেকে তিনি আর্জেন্টিনার দায়িত্বে। ৯৮ ম্যাচে ৭১টাই জিতিয়েছেন দলকে। তবে আলোচনা তাঁকে নিয়ে নয়। আলোচনা বিয়েসলা বাদে বাকি চার আর্জেন্টাইন কোচকে নিয়ে, যারা স্কালোনিকে ভোগাতে পারেন।