কত বছর বয়স থেকে সন্তানকে মাখাবেন সানস্ক্রিন? কেনার আগে নজরে রাখুন এই বিষয়গুলি
রোদ হোক বা মেঘলা আকাশ, ত্বকের বিশেষ যত্নে সানস্ক্রিন গুরুত্বপূর্ণ। অনেক অভিভাবকই মনে করেন সানস্ক্রিন কেবল বড়দের প্রসাধনী। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে অন্য কথা। শিশুদের ত্বক পরিচর্যায় সঠিক বয়সে সানস্ক্রিন শুরু করা অত্যন্ত জরুরি। নাহলে নানারকম ত্বকের সমস্যায় ভোগার সম্ভাবনা থাকে। ঠিক কোন বয়স থেকে শিশুদেরকে সানস্ক্রিন মাখাবেন? নিয়মই বা কী? মা-বাবারা জেনে রাখুন।
শিশুদের সানস্ক্রিন মাখানোর সঠিক বয়স নিয়ে অনেক মা-বাবার মনেই সংশয় থাকে। ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স জানাচ্ছে, শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলেই তাকে সানস্ক্রিন মাখানো শুরু করা যেতে পারে। তবে ৬ মাসের কম বয়সি শিশুদের ক্ষেত্রে সরাসরি কড়া রোদ এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এই বয়সে সরাসরি সানস্ক্রিনের চেয়ে ঢিলেঢালা পোশাক বা ছাতা ব্যবহার করা বেশি নিরাপদ।
আরও পড়ুন:
শিশুদের জন্য সবসময় 'ফিজিক্যাল' বা 'মিনারেল' সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া উচিত। এই ধরনের সানস্ক্রিনে জিঙ্ক অক্সাইড বা টাইটানিয়াম ডাইঅক্সাইড থাকে, যা ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষাকবচ তৈরি করে। অন্য দিকে, কেমিক্যাল সানস্ক্রিন ত্বকের গভীরে শোষিত হয়, যা শিশুদের সংবেদনশীল ত্বকে অ্যালার্জি বা র্যাশের সৃষ্টি করতে পারে। কেনার সময় লেবেলটি ভালো করে দেখে নিন।
শিশুদের সানস্ক্রিন কেনার আগে উপাদানের তালিকায় নজর দিন। এতে যেন প্যারা-অ্যামাইনোবেঞ্জোয়িক অ্যাসিড, সিনামেট বা অক্সিবেঞ্জোনের মতো রাসায়নিক না থাকে। এ ছাড়া প্যারাবেন বা অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত সানস্ক্রিন এড়িয়ে চলাই ভালো। অ্যালকোহল মিশ্রিত স্প্রে সানস্ক্রিন ব্যবহার করবেন না। কারণ এতে শিশুর শ্বাসকষ্ট হতে পারে এবং ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।
আরও পড়ুন:
সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর বা এসপিএফ (SPF) নির্ধারণ করে একটি সানস্ক্রিন কতক্ষণ সুরক্ষা দেবে। শিশুদের জন্য অন্তত এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার সানস্ক্রিন বেছে নেওয়া জরুরি। এসপিএফ ৩০ সূর্যের ইউভিবি রশ্মির প্রায় ৯৭ শতাংশ রুখে দিতে সক্ষম। তবে এসপিএফ-এর মাত্রা যাই হোক না কেন, নির্দিষ্ট সময় অন্তর তা পুনরায় মাখানো প্রয়োজন।
সারা দিন সানস্ক্রিন মেখে থাকার পর রাতে বাড়ি ফিরে তা পরিষ্কার করাও সমান জরুরি। শিশুদের ক্ষেত্রে কোমল ফেসওয়াশ বা বেবি সোপ ব্যবহার করে ত্বক ভালো করে ধুয়ে দিতে হবে। এরপর একটি হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে দিলে ত্বক আর্দ্র থাকবে। ত্বক পরিষ্কার না করলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ বা অন্যান্য চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।