রাজ্যজুড়ে ধোঁয়া উড়িয়ে ‘দিদি’ মমতার কুইন্টাল কুইন্টাল প্রশংসা, নিজের ‘দাম’ বোঝাতে কোন কোন বিতর্কে জড়ান রচনা?
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকে বেসুরো রচনা।
আরও পড়ুন:
কাট টু ২০২৬। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকে বেসুরো রচনা। 'বিদ্রোহী' সাংসদদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। লোকসভার সচিব উৎপলকুমার সিংহের সঙ্গে দেখা করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। যে রচনা একসময় মমতাকে প্রশংসায় ভরিয়েছেন, সে-ই কিনা আজ বদলে গিয়েছেন। 'দিদি'র দুঃসময়ে সুর চড়িয়েছেন টলিউডের 'দিদি'। আর তা নিয়ে চলছে জোর কাটাছেঁড়া।
দাবি করেন, তাঁর সেলিব্রিটি ইমেজকেই নাকি কাজে লাগিয়েছেন মমতা। দাবি করেন, "সেলিব্রিটি ইমেজ কাজে না লাগলে গড়িয়াহাট কিংবা ফুটপাথ থেকে কাউকে তুলে এনে প্রার্থী করতে পারতেন। তা তো করেননি।" বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তোপ দাগেন। তিনি ভাষা ব্যবহার এবং রচনার সংসদীয় এলাকায় 'নাক গলানো' নিয়ে আপত্তি তোলেন। তা শুনে অবশ্য অনেকেই বলছেন, কেন এসব বলতে এতদিন সময় লেগে গেল রচনার?
মাত্র বছর দুয়েকের রাজনৈতিক জীবনে অবশ্য আগেও নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন সাংসদ। খাতা খুলেছিলেন 'ধোঁয়াই ধোঁয়া' মন্তব্যে। চব্বিশের মার্চে হুগলি শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। রচনা বলেন, "হুগলিতে কী কাজ হয়েছে? আমি তো চারিদিকে শুধু ধোঁয়াই ধোঁয়া দেখছি।" তা নিয়ে বিস্তর সমালোচনার শিকার হন। যদিও পরে সাফাই দেন রচনা। দাবি করেন তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সাংসদ হওয়ার পর হুগলির বন্যা পরিস্থিতির সময়েও বেশ স্বমেজাজেই দেখা গিয়েছিল রচনাকে। ডিভিসিকে তোপ দেগে সাংসদ হিসাবে কার্যত দায় ঝাড়েন অভিনেত্রী। বলেন, "ডিভিসির কুইন্টাল কুইন্টাল জলে মানুষের বাড়িঘর কিছু নেই। সবাই রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছেন আর ডিভিসি বলছে, জানিয়ে পাঠিয়েছে।" জলছাড়া নিয়ে রচনার মন্তব্যে ওঠে হাসির রোল। বন্যা পরিস্থিতি দেখে ওল কিনে বাড়ি ফিরতেও দেখা যায় তারকা সাংসদকে।
সম্প্রতি জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো 'দিদি নম্বর ওয়ান'-এ সঞ্চালিকা বদল নিয়েও রচনার প্রতিক্রিয়া নেটদুনিয়ার হাসির খোরাক হয়েছে। রীতিমতো কাঁদতে কাঁদতে সংবাদমাধ্যমের সামনে মন্তব্য করতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। যা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় মিমের বন্যা। এর আগে অবশ্য আর জি কর কাণ্ডের সময়ও কাঁদতে দেখা গিয়েছিল অভিনেত্রী-সাংসদকে। তাঁর কান্নাকে 'কুম্ভীরাশ্রু' বলেও সেই সময় তোপ দেগেছিলেন অনেকে।
এর আগে ২০২৩ সালে ‘গভমেন্ট অফ ইন্ডিয়া’র স্টিকার লাগানো গাড়িতে চড়ে কালীপুজোর অনুষ্ঠানে গিয়ে বিতর্কে জড়ান। কোনওরকম সরকারি পদে না থেকেও কীভাবে এই গাড়ি ব্যবহার, স্বাভাবিকভাবে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গোটা ঘটনার দায় উদ্যোক্তাদের কাঁধেই অবশ্য চাপান রচনা। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, 'নিজের দাম' বোঝাতেই কি এভাবে ক্ষণে ক্ষণে বিতর্কিত কাজকর্ম অভিনেত্রীর? উত্তর অবশ্য অধরা।