৩ দিনে ৭০ হাজার সদস্য! ব্যঙ্গের আড়ালে বড় রাজনৈতিক বার্তা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র, নয়া দলের আদর্শ কী?
যুবসমাজের এই উদ্যোগ অতি ক্ষুদ্র হলেও তুচ্ছ নয়। বর্তমান সরকারের জন্য এটা মোটেই স্বস্তির বার্তা নয়।
কীভাবে গঠিত হল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’? আসলে গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আদালতের শুনানির সময় তিনি বলেন, “বেকার তরুণ-তরুণীদের একাংশ আরশোলার মতো আচরণ করেন।” তাঁর কথায়, “ওই তরুণ-তরুণীরা কোনও পেশায় স্থান না পেয়ে সাংবাদিক, সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী বা তথ্যের অধিকার কর্মী হিসাবে কাজ শুরু করেন এবং সকলকে আক্রমণ করেন।”
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
এক সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ বলেছেন, "সম্মানীয় প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের বিরুদ্ধে অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের প্রতিবাদী স্বর তুলে ধরে আরশোলা জনতা পার্টি। প্রধান বিচারপতি সংবিধান, বাক স্বাধীনতার রক্ষক। তাঁর কাছ থেকে এমন মন্তব্য কাম্য নয়।" দীপকের সাফ কথা, অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা সিস্টেমের সমালোচনা করলে তাঁদের ভাবে ছোট করা যায় না।
মজার কথা হল, এই দল একটি ইস্তেহারও প্রকাশ করেছে। তাতে আসনসংখ্যা না বাড়িয়ে মহিলাদের ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ, দলবদলুদের ভোটে লড়তে না দেওয়া, অবসরের পর বিচারপতিদের রাজ্যসভায় জায়গা না দেওয়া, বৈধ ভোটার বাদ পড়লে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে গ্রেপ্তার করা, ‘গোদি মিডিয়া’র অ্যাঙ্করদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে তদন্তের আওতায় আনার মতো প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
আপাত দৃষ্টিতে এই দল বানানো বা সোশাল মিডিয়ায় আরশোলার নামে অ্যাকাউন্ট তৈরি, পুরোটা নির্ভেজাল মজা বলে মনে হলেও এর নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে। রয়েছে প্রতিবাদের ভাষা। যে প্রতিবাদ হয়তো দেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম ব রাজনৈতিক দলগুলির করার কথা ছিল, সেটাই করছে যুবসমাজের তৈরি ওই ব্যাঙ্গাত্মক রাজনৈতিক মঞ্চ।
তাছাড়া দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে যেসব ইস্যু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেই সব ইস্যুতেই মজার ছলে প্রতিবাদ করছেন ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যরা। ধর্ম, জাতপাতের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের ইস্যু নিয়ে কথা বলছে। যুবসমাজের এই উদ্যোগ অতি ক্ষুদ্র হলেও তুচ্ছ নয়। বর্তমান সরকারের জন্য এটা মোটেই স্বস্তির বার্তা নয়।