রাম মন্দিরে চুরি ঘিরে চাঞ্চল্য, জানেন হাজার বছর আগে চোল সাম্রাজ্যেও পুরোহিতরা লুট করেছিল দেবোত্তর সম্পত্তি!
জেনে নিন ত্রয়োদশ শতাব্দীতে থাঞ্জাভুরের নিকটবর্তী শিবপুরমে ঘটে যাওয়া কেলেঙ্কারির ইতিহাস।
তামিল উপকূলে অবস্থিত চোল মন্দিরের ঘটনাতেও রাতের গভীরে খুন হয় দু'জন। দেবতার জন্য উৎসর্গীকৃত গয়না বেমালুম গায়েব হয়ে গিয়েছিল। শেষে তদন্তে নেমে চোল রাজার আধিকারিকরা আঁতকে ওঠেন। দেখা যায়, গোটা অপরাধটার সঙ্গেই জড়িত পুরোহিতরা। এই বিপুল কেলেঙ্কারির কথাটা লেখা রয়েছে প্রস্তরলিপিতে। যা সাক্ষ্য বহন করছে হাজার বছর প্রাচীন এক অপরাধের।
আরও পড়ুন:
নীলকণ্ঠ শাস্ত্রী চোল এক খ্যাতনামা গবেষক। তাঁর লেখায় পাই, ত্রয়োদশ শতাব্দীতে থাঞ্জাভুরের নিকটবর্তী শিবপুরমে ঘটে যাওয়া কেলেঙ্কারির কথা লিখেছেন। দুই পুরোহিত মন্দির দখল করে নেন। তাঁরা কর্নাটক থেকে ভাড়াটে সৈন্য নিয়োগ করেন পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলি থেকে পঞ্চাশ হাজার স্বর্ণমুদ্রা আদায় করার জন্য। যা আজকের হিসেবে দাঁড়ায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা! পাশাপাশি তাঁরা মন্দির থেকে চুরিও করতেন, আবার রাজাকে করও দিতেন না।
জানা যায়, ওই পুরোহিতদের একজন দেবীর জন্য রাখা হার তাঁর উপপত্নীকে দিয়ে দেন। ক্রমশ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে থাকে। তদন্ত শুরু করতে সবটা স্পষ্ট হয়ে যায়। তবে তার আগে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা রাজার কাছে পুরোহিতদের বিরুদ্ধে শিব ও রাজার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ আনেন। এরপর অভিযুক্তদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নেওয়া হয়।
সমাপতন হল, গত শতকের সাতের দশকে শিবপুরমে আরেকটি মন্দির কেলেঙ্কারি ঘটেছিল। সেই সময় মাটি খুঁড়ে পাওয়া নটরাজের একটি ব্রোঞ্জ মূর্তি সরিয়ে সেখানে একটি নকল মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল। তবে নিঃসন্দেহে প্রাচীন সময়ের যে কেলেঙ্কারি, তা ধারে ও ভারে আরও অনেকটা এগিয়ে ছিল। রাম মন্দিরের চুরির ঘটনায় এই ইতিহাস নতুন করে ফুটে উঠল।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, সম্প্রতি অযোধ্যার রাম মন্দির ট্রাস্টের দানপত্র থেকে বিশাল অঙ্কের অর্থ চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। পুলিশ এই চুরির তদন্তে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, কর্মীরাই গোপনে টাকা চুরি করতেন এবং সেই সোনা গলিয়ে সোনার বিস্কুট বানিয়ে ফেলতেন। সেই বর্তমান ফিরিয়ে দিল ফেলে আসা অতীতকে। তুলে ধরল চোল সাম্রাজ্যের অতীত খুঁড়ে তুলে আনা ইতিহাস।