এক ছাদের তলায় চিনাপাড়ার গোটা ইতিহাস! টেরিটি বাজারে ‘হেরিটেজ গ্যালারি’তে অতীত দর্শন
INTACH এবং The CHA Project-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই গ্যালারি কলকাতার চিনা সম্প্রদায়ের ইতিহাসকে নতুন করে জানার সুযোগ করে দেবে।
কলকাতায় চিনা সম্প্রদায়ের উপস্থিতি দুই শতাব্দীরও বেশি পুরনো। ব্যবসা-বাণিজ্য, কারুশিল্প, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং নিজস্ব সামাজিক পরিকাঠামোর মাধ্যমে এই সম্প্রদায় শহরের সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ছাপ ফেলেছে। কিন্তু এত দীর্ঘ ইতিহাস সত্ত্বেও কলকাতার চিনা সমাজের ঐতিহ্য নিয়ে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের উদ্যোগ ছিল সীমিত। নতুন এই গ্যালারি সেই শূন্যতা পূরণের উদ্দেশে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ছবি: অমিত মৌলিক
আরও পড়ুন:
গ্যালারির মূল আকর্ষণ টেরিটি বাজার— কলকাতায় চিনা বসতির প্রাচীনতম কেন্দ্রগুলির অন্যতম এটি। উনিশ শতকের মাঝামাঝি এই এলাকায় গড়ে উঠেছিল মন্দির, স্কুল, হুইগুয়ান বা নেটিভ প্লেস অ্যাসোসিয়েশন, কার্পেন্টার ওয়ার্কশপ এবং বসতবাড়ি নিয়ে এক সমৃদ্ধ সামাজিক পরিসর। এই পাড়া কেবলমাত্র সাধারণ মানুষের বসতি ছিল না, কলকাতায় চিনা সম্প্রদায়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। ছবি: অমিত মৌলিক
পুরনো ছবি ও ঐতিহাসিক নথির পাশাপাশি এই গ্যালারিতে রয়েছে নানা ধর্মীয় সামগ্রী এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বস্তু। প্রতিটি নিদর্শন তুলে ধরে কলকাতার চিনা সমাজের আলাদা একটি গল্প—তাঁদের বিশ্বাস, পেশা, জীবনযাপন ও সামাজিক সম্পর্কের ছবি। ব্যক্তিগত ও সম্প্রদায়ের স্মৃতিকে এইভাবে সাম্প্রতিককালের আগ্রহী দর্শকদের সামনে দৃশ্যমান করে তোলাই গ্যালারিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। ছবি: অমিত মৌলিক
চিনাপাড়া হেরিটেজ গ্যালারি অতীতের গল্প বলবে তো বটেই, পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য সেই ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও মনে করিয়ে দেবে। টেরিটি বাজার আজও কলকাতার বহু-সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুরনো স্থাপত্য, স্মৃতি, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত ঐতিহ্যকে নথিভুক্ত করে তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। ছবি: অমিত মৌলিক
আরও পড়ুন:
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ব্ল্যাক বার্ন লেনে উদ্বোধন হতে চলেছে চিনাপাড়া হেরিটেজ গ্যালারির। INTACH এবং The CHA Project-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই গ্যালারি কলকাতার চিনা সম্প্রদায়ের ইতিহাসকে নতুন করে জানার সুযোগ করে দেবে। আড়াইশো বছরেরও বেশি সময় ধরে শহরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই সম্প্রদায়ের স্মৃতি, সংস্কৃতি ও উত্তরাধিকারকে সামনে এনে গ্যালারিটি কলকাতার সমৃদ্ধ ইতিহাসেরই আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরবে।