লিভার কাজ করে মাত্র ২৫ শতাংশ! একটা ভুলের খেসারত আজও দিতে হয় অমিতাভ বচ্চনকে
লিভারের ওই অবস্থায় অমিতাভ কী করে দীর্ঘ শুটিংয়ের ধকল সামলান তা এক বিস্ময়। কেবিসির নতুন সিজন শুরুর আগে বিগ বি তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন।
অমিতাভের ওই চোটের নেপথ্যে রয়েছে সাড়ে চার দশক আগের এক ঘটনা। যে ঘটনায় গোটা দেশ প্রার্থনায় বসেছিল। 'কুলি' ছবির শুটিং করতে গিয়ে চোট পান তিনি। হাসপাতালে লড়তে হয়েছিল মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা। কতটা গভীর ছিল সেই চোট? কেনই বা পেয়েছিলেন চোট? কোন ভুলের জন্য এমন গুরুতর অসুস্থ হতে হয়েছিল তাঁকে? ১৯৮২ সাল থেকে এই দুর্ঘটনার কথা বারবার ফিরে ফিরে এসেছে।
আরও পড়ুন:
সেদিন পুনীত ইশারের সঙ্গে একটি অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন অমিতাভ। সেই সময় পুনীতের একটি ঘুসি এসে লাগে বিগ বি-র পেটে। সেই ঘুসিটা এমন বেকায়দায় লাগে যে, তিনি দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জানা যায়, অতি সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছেন তিনি। দ্রুত একটি অস্ত্রোপচার করতে হয়। এতেই বিপদ কাটে। কিন্তু হয়ে যায় একটি ভুল!
সেই ভুলটা করেছিলেন শল্য চিকিৎকসরাই। আসলে অমিতাভকে প্রচুর রক্ত দিতে হয়েছিল। আর সেই সময় 'গুরু'র জন্য লাইন দিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন অনুরাগীরা। তাঁদেরই একজন ছিলেন হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত। কিন্তু তাড়াহুড়োয় সেটা আর পরীক্ষা করা হয়ে ওঠেনি। ফলে সেই দূষিত রক্তই প্রবেশ করে বিগ বি-র শরীরে। ১৮ বছর পরে অমিতাভ জানতে পারেন তিনি কোনও অসুখে আক্রান্ত!
২০১৮ সালে প্রচণ্ড পেটব্যথা হচ্ছিল অমিতাভের। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করার পর ধরতে পারেন সমস্যা রয়েছে নায়কের অন্ত্রে। ক্ষুদ্রান্ত্রের 'ডাইভার্টিকুলাইটিস' রোগের জন্য অস্ত্রোপচার করা হয় তাঁর। আর সেই সময়ই ধরা পড়ে তিনি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। 'হেপাটাইটিস বি'-র কারণেই এই অসুখে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। এই অসুখ দুরারোগ্য। এতে লিভার ধীরে ধীরে অকেজো হতে শুরু করে এবং লিভারের কলাকোষ কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
আরও পড়ুন:
হেপাটাইটিসের কারণে অমিতাভ বচ্চনের যকৃৎ বা লিভারের ৭৫ শতাংশই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ তিনি বর্তমানে তাঁর যকৃৎ-এর মাত্র ২৫ শতাংশ নিয়ে বেঁচে আছেন মেগাস্টার। ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ অনুষ্ঠানেও ‘বিগ বি’ এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। অনুষ্ঠান চলাকালীনই তিনি এই পুরো ঘটনাটির উল্লেখ করেন। জানান, কীভাবে বহু বছর আগে একটি সামান্য ভুলের কারণে তাঁর যকৃৎ প্রায় পুরোটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
লিভারের ওই অবস্থায় অমিতাভ কী করে দীর্ঘ শুটিংয়ের ধকল সামলান তা এক বিস্ময়। কেবিসির নতুন সিজন শুরুর আগে বিগ বি তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন। বলেন, “আগে যেসব রুটিন বা অভ্যাস ছিল—তা দেখে এমনটা মনে হওয়া স্বাভাবিক যে, যেহেতু কয়েক বছর আগেও সেগুলো নিয়মিত করতাম, তাই এখন আবার সেগুলো শুরু করাটা ‘জলভাত’। কিন্তু একদমই তা নয়।''
অমিতাভ জানিয়েছিলেন, মাত্র একদিনের বিরতিতেই তাঁর শরীরের ব্যথা-বেদনা আর চলাফেরার সক্ষমতা যেন বহু দূরে হারিয়ে যায়। তাঁর কথায়, ''এ এক অদ্ভুত ব্যাপার। যেসব সাধারণ কাজ আগে আমরা অবলীলায় করতাম, এখন সেগুলো করার আগে মনকে আগেভাগে ভাবতে হয়।'' তিনি জানান, সামান্য প্যান্ট পরতে গেলেও তাঁকে সতর্ক থাকতে হয়। ডাক্তাররা নাকি তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি যেন দাঁড়িয়ে প্যান্ট পরার চেষ্টা না করেন।
বচ্চন অকপটে উল্লেখ করেন যে, বয়সজনিত এমন সব সমস্যা নিয়ে লেখা পড়তে পাঠকদের কাছে হয়তো এখন বেশ কৌতুকপূর্ণ মনে হতে পারে। কিন্তু শেষমেশ, বয়সের ছাপ সবার উপরই এসে পড়ে। তাঁর সরস উক্তি, ''যেদিন আমরা এই পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হই, সেদিন থেকেই আমাদের অধঃগতি বা পতন শুরু হয়ে যায়। বিষয়টি দুঃখজনক বটে, তবে এটাই হল জীবনের অমোঘ বাস্তবতা।''