৪ মাসে ২২ জনের ফাঁসির নির্দেশ, কড়া মেজাজের জন্য ‘শাস্তি’ পেলেন বিচারক, কে এই রবি কুমার?
২০২২ সালে জ্ঞানবাপী মন্দির চত্বরের ভিডিওগ্রাফি সার্ভের নির্দেশ দিয়ে প্রথমবার শিরোনামে আসেন রবি কুমার দিবাকর। কী শাস্তি পেলেন তিনি?
চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত এই চার মাসে ১০টি মামলায় ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বিচারক রবি কুমার দিবাকর। তাঁর রায়ের তালিকায় রয়েছে আইনজীবী খুন, হোমগার্ড খুনের মতো মামলা। আগস্টে ১২ বছরের পুরনো এক খুনের মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন তিনি। ওই মাসেই এক ২৭ বছরের পুরনো ব্যবসায়ী খুনের মামলায় এক আসামীকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
আরও পড়ুন:
জুলাই মাসে ৩ পৃথক মামলায় তিনি ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মে ও জুন মাসে আরও ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। এপ্রিল মাসেও ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরপর ১০টি মামলায় মোট ২২ জনকে ফাঁসির মঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ আসতেই তোলপাড় শুরু হয় আইনি মহলে। আইনজীবী মহলের ধারণা, যেভাবে তিনি সব মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছেন, সেসব রায় উচ্চ আদালতে বাতিল হয়ে যাবে।
সম্ভবত এই কড়া মেজাজের 'শাস্তি' দেওয়া হল ওই বিচারককে। পর পর তাঁর এই কড়া মানসিকতার রায়ে খানিকটা আতঙ্কিত ছিল আইনজীবী মহল এবং বিচারপ্রার্থীরা। সেই চরম আশঙ্কার মুখে দাঁড়িয়েই এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন, বিচারক দিবাকরের এজলাস থেকে সরিয়ে নেওয়া হল প্রায় ১০০টি খুনের মামলা। সেটাকে শাস্তি হিসাবেই দেখা হচ্ছে।
২০২২ সালে জ্ঞানবাপী মন্দির চত্বরের ভিডিওগ্রাফি সার্ভের নির্দেশ দিয়ে প্রথমবার শিরোনামে আসেন রবি কুমার দিবাকর। পরে উচ্চ আদালতে সেই রায় স্থগিত হয়ে। গত বছরের নভেম্বর থেকে তিনি মুজফফরনগরের অতিরিক্ত জেলা এবং দায়রা আদালতের বিচারক হিসেবে কর্মরত। রবি কুমার দিবাকরের নামের পাশে বি কম এবং এলএলএমের ডিগ্রি রয়েছে। রবি কুমারের পরিচিত তৈরি হয়েছে মূলত কড়া মনোভাবের জন্য।
আরও পড়ুন:
আদতে লখনউয়ের বাসিন্দা রবি কুমার দিবাকরের বিচারক হিসেবে কর্মজীবন শুরু ২০০৯ সালে। আজমগড়ে অতিরিক্ত দায়রা বিচারক হিসেবে। ২০১৫ সালে মে মাসে তিনি সুলতানপুরে দায়রা বিচারক হন। এর পাঁচ মাসের মাথায় উন্নীত হন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে মুজফফরনগরের অতিরিক্ত জেলা এবং দায়রা আদালতের বিচারক হিসেবে কর্মরত।