ঝাল ঝাল খাবার পছন্দ! কাঁচালঙ্কায় ঠাসা ভারতের এই ৮ অভিনব ডিশ চেখে দেখেছেন?
রইল ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত তথা পড়শি দেশেরও এমন ৮ খাবারের হদিশ, যেখানে মুখ্য ভূমিকাতেই রয়েছে কাঁচা লঙ্কা!
মহারাষ্ট্রের থেচা – যে খেয়েছে, সেই জানে এর স্বাদ। থেচা এক বিশেষ ধরনের শুখা চাটনি, যা বানাতে হামানদিস্তা অথবা শিলনোড়ায় কাঁচা লঙ্কা পেষাই করা হয়। সঙ্গে দেওয়া হয় রসুনের কোয়া, শুকনো খোলায় ভেজে রাখা চিনেবাদাম, এক চিমটি নুন আর এক খণ্ড গুড়। উনুনের আঁচে সেঁকা হাতরুটির সঙ্গে এই চাটনি থাকলে আর কোনও তরকারির প্রয়োজনই পড়ে না!
আরও পড়ুন:
রাজস্থানের মির্চ পকোড়া – ইয়াব্বড় কাঁচা লঙ্কার পেট চিড়ে, দানা ফেলে দেওয়া হয়। বদলে ভরে দেওয়া হয় জোয়ান ও অন্যান্য মশলার ঘন পুর। তারপর সব সমেত বেসনের ব্যাটারে চুবিয়ে নিয়ে ডুবো তেলে ভাজা হয়। তেঁতুল অথবা পুদিনার সঙ্গে অসামান্য লাগে এই পকোড়া। রাজস্থানে কেবল বিকেলের চায়ের আসর নয়, মির্চ পকোড়ার দেখা মিলে যায় জলখাবারের টেবিলেও!
দক্ষিণ ভারতের পাচা মিলাগু রসম – এই বিশেষ সবুজ রসম তৈরি হয় কাঁচা লঙ্কাকে তেঁতুল, গোলমরিচ, জিরে, সরষেদানা ও কারিপাতার সঙ্গে ফুটিয়ে। মুখে দিলে স্বাদগ্রন্থিতে টক-ঝালের এক ধাক্কা লাগে যেন! রোজের খাবারের পাতে রাখা যায় এই রসম। ইডলি-ধোসার সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। কেবল স্বাদ নয়, এই রসম হজম ত্বরান্বিত করে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
রাজস্থানের দহি মির্চ – টক দইয়ের সঙ্গে কাঁচালঙ্কা ও অন্যান্য মশলা মিশিয়ে তৈরি হয় অভিনব স্বাদের এই খাবার। অনেক সময় আবার লাল লঙ্কার গুঁড়োও মেশান হয় এতে। তারপর শুকানো হয় খটখটে রোদে। নেহাত ঝাল খাওয়ার অভ্যাস না থাকলে এই খাবার গলাধঃকরণ করা বেশ ঝক্কির কাজ। গরম ভাতের পাতে, অথবা হাতরুটির সঙ্গে খেলে পেট ও মন দুইই ভরে।
আরও পড়ুন:
ভুটানের এমা দাৎসি – ভুটানি রেস্তরাঁয় গেলে এই খাবার খেতেই হয়। ঘন চিজ ও মাখনের সসের সঙ্গে কাঁচা লঙ্কাই এই খাবারের প্রধান উপাদান। দেখতে উজ্জ্বল হলুদ হলেও ঝালে কান মাথা ঝাঁ-ঝাঁ করে উঠবে এই ঝাল খেলে! লঙ্কা ছাড়া অন্যান্য সবজি দিয়েও ‘দাৎসি’ তৈরি করে থাকে ভুটানিরা। তবে আপনি যদি ঝালপ্রেমী হন, তবে এমা দাৎসি রাখতেই হয় উইশলিস্টে।
তেলেঙ্গানার হরি মির্চ কা সালান – শুকনো খোলায় ভাজা চিনেবাদাম, সাদা তিল, নারকেল কুড়ানো, তেঁতুলের নির্যাস ও আরও একরাশ মশলার ঝোলে ফোটানো হয় আগে থেকে ভেজে রাখা অতিকায় কাঁচা লঙ্কাগুলো। আর তারপর পরিবেশন করা হয় হায়দরাবাদি বিরিয়ানির পাশে, সঙ্গত হিসেবে। মনে করা হয়, একসঙ্গে খেলে নাকি দুইয়ের স্বাদই বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
গোয়ার কোশিমবির মির্চ চাটনি – এই স্বাদু চাটনির মুখ্য উপাদান কাঁচা লঙ্কাই। ভিনিগার, কুড়ানো নারকেল ও রসুনের সঙ্গে কাঁচা লঙ্কা মিশিয়ে তৈরি হয় এই ঘন ‘গোয়ান-স্টাইল’ চাটনি। সাধারণত হাতেই বেটে তৈরি করা হয় তা। ভাতের কোনও পদ হোক বা ভাজাভুজি, অথবা মাছ-কাঁকড়া-চিংড়ি দিয়ে তৈরি কোনও সিফুড কারি, কাঁচা লঙ্কার এই চাটনি পরিবেশন করা যেতে পারে সবের সঙ্গেই।
বাঙালির সরষে-পোস্ত কাঁচা লঙ্কা বাটা – পোস্ত ও সরষে ভিজিয়ে রেখে একসঙ্গে বাটার সময় যোগ করতে হবে একমুঠো কাঁচা লঙ্কা। তারপর একে একে সরষের তেল, নুন, লঙ্কা দিলেই তৈরি! উপরে ছড়িয়ে দিন কাঁচা তেল, পিঁয়াজকুচি। গরম ভাতের পাতে এই বাটা যে কি উপাদেয় লাগে, তা কেবল ঝালপ্রেমীরাই বুঝতে পারবে। কতখানি ঝাল চাই, সেই বুঝে কমানো-বাড়ানো যায় কাঁচা লঙ্কার সংখ্যা।