দিলজিতের বিতর্কিত ‘সতলুজ’ দেখে শিউরে উঠছেন? ‘পুলিশি বর্বরতা’র এই ৭ ছবিও নাড়িয়ে দেবে
দিলজিতের ‘সতলুজ’-এ নৃশংসতা দেখে থর থর করে কাঁপছেন? এসব সিনেমা দেখলে শিউড়ে উঠবেন!
২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'ভিসারানাই' পুলিশি নির্যাতনের এক ভয়ংকর ছবি তুলে ধরে। গুন্টুরে কর্মরত চার পরিযায়ী শ্রমিক হঠাৎ ডাকাতির মামলায় ফেঁসে যায়। এরপর পুলিশি হেফাজতে ১৩দিন ধরে তাদের লাঠি-বুট, বেত দিয়ে পেটানো হয়। ভেত্রিমারান পরিচালিত নির্যাতনের এই নির্মম দলিল বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হয়। তিনটি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিল 'ভিসারানাই'। সিস্টেমের সুপরিকল্পিত যাঁতাকলে কীভাবে সাধারণ মানুষ পিষে ফেলা হয়, এই ছবি সেকথাই বলে।
আরও পড়ুন:
বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত তামিল ছবি 'জয় ভীম' তালিকার অন্যতম। পুলিশি হেফাজতে মিথ্যে অভিযোগে এক আদিবাসী যুবককে কীরকম নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার ন্যায়বিচারের লড়াই নিয়েই তৈরি এই ছবি। সমাজের জাতিভেদ প্রথার নির্লজ্জ নিদর্শন তুলে ধরে 'জয় ভীম'। সূরিয়া অভিনীত ছবির সবথেকে অস্বস্তিকর দৃশ্য, যেখানে পুলিশি হেফাজতে জ্ঞানহারানো বন্দির চোখে লঙ্কাগুঁড়ো ছিটিয়ে পরীক্ষা করা হয়, সে বেঁচে আছে কিনা!
ধনুষের 'কর্ণন' ছবিটি এক 'অভিশপ্ত' দলিত গ্রামের গল্প। অচ্ছুত বলে তাদের বাসস্টপ পর্যন্ত যেতে দেওয়া হত না। প্রতিপদে সমাজের রক্তচক্ষু যাদের মনে করিয়ে দিত- নিচু জাত। প্রতিবাদী তেজস্বী কর্ণন (ধনুষ) রুখে দাঁড়ালে গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠদের থানায় ডেকে মারধর করা হয়। দলিতদের সঙ্গে সংঘাত চরমে উঠলে পুলিশ গোটা গ্রামে বুড়ো, কচিকাচা নির্বিশেষে নির্মম অত্যাচার চালায়। পুলিশি অত্যাচারে মৃত্যু হয় অনেকের। দেখলে শিউড়ে উঠবেন!
পুলিশি বর্বরতার প্রচলিত ধারণাকে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করে মালয়ালম ছবি 'নায়াত্তু'। এখানে সিস্টেমের ষড়যন্ত্রের শিকার তিনি নির্দোষ পুলিশই। নির্বাচনের প্রাক্কালে স্থানীয় নেতার মৃত্যুতে জড়িয়ে পড়া তিন পুলিশ কর্মীকে খুনের দায়ে ফাঁসানোর জন্য কীরকম রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকে? মন্ত্রী-আমলাদের কীর্তি নিয়ে ঘুণ ধরা সিস্টেমের এক নির্লজ্জ দলিল এই সিনেমা। মাস্ট ওয়াচের তালিকায় রাখতে পারেন।
আরও পড়ুন:
সন্ধ্যা সুরি পরিচালিত 'সন্তোষ' এমন এক ক্রাইম ড্রামা, যেখানে একজন বিধবা নারীকে কর্মক্ষেত্রে (শাহানা গোস্বামী) পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার শিকার হতে হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে উত্তরপ্রদেশের গ্রামাঞ্চলে পুলিশ কনস্টেবলের চাকরি পায় ওই মহিলা। পরবর্তীতে একটি দলিত কিশোরী খুনের তদন্তে নেমে পুলিশি সিস্টেমের দুর্নীতি এবং পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার রোষানলে পড়ে। 'সন্তোষ' বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বহুল প্রশংসিত হয়েছে।