দেশ ঘুরতে বেরিয়ে এই স্টেশনগুলিতে গেলে খেতেই হবে এই সব বিখ্যাত খাবার!
ভারতের বেশ কিছু স্টেশনের সঙ্গেই জুড়ে রয়েছে বিশেষ কয়েকটি খাবারের নাম। সেই খাবার হয়তো স্টেশন ছাড়াও অন্যত্র পাওয়া যাবে। তবু নির্দিষ্ট স্টেশনটিতে পৌঁছে সেই বিখ্যাত খাবার খাওয়ার আনন্দ আলাদাই।
বরেলি স্টেশনের ‘মুগ ডাল ভাজিয়া’- উত্তর প্রদেশের বরেলি স্টেশনে নামলেই চোখে পড়বে এই ভাজিয়া। আসলে তা বাঙালির ডালবড়ারই রকমফের। মুগ ডাল বেটে, সঙ্গে মেশানো হয় নুন, হলুদ, লঙ্কাগুঁড়ো ও অন্যান্য মশলা। তারপর ভাজা হয় ডুবো তেলে। ক্রেতাকে পরিবেশনের সময় সঙ্গে দেওয়া হয় পুদিনা সবুজ চাটনি ও তেঁতুলের লাল চাটনি। গরম মুগ ডাল ভাজিয়া মুখে দিলেই মুখময় ছড়িয়ে পড়ে তার সুস্বাদ।
আরও পড়ুন:
জয়পুর স্টেশনের পিঁয়াজের কচুরি- এক্কেবারেই বাঙালির খাস্তা কচুরির রাজস্থানি তুতো-ভাই! ছোট গোলাকার এই কচুরি পরিবেশন করা হয় শালপাতার ঠোঙায়। আঁটসাঁট ময়দার মুচমুচে খোলসে কামড় দিলেই পাওয়া যায় মশলাদার পুর, যার মুখ্য উপাদান স্রেফ পিঁয়াজ। পরিবেশনের সময় সঙ্গে দেওয়া হয় পুদিনার টক-মিষ্টি চাটনি। আর সঙ্গে যদি গেলাস-ভর্তি দুধ চা জুটে যায়, তবে আর কথাই নেই!
উদয়পুর স্টেশনের ঘেবর- এই ভাজা মিষ্টি এমনিতে রাজস্থানের নানা শহরেই দেখতে পাওয়া যায়। তবে তার প্রথম সুবাস নাকে আসবে উদয়পুর স্টেশনে পা রাখা মাত্রই! ময়দার তৈরি এই মিষ্টিতে ব্যবহৃত হয় প্রচুর পরিমাণে চিনি, এলাচ, জাফরান ও রুপোলি রাংতা। ভাজা হয় ডুবো ঘি-তে। অনেক সময় আবার পরিবেশনের সময় উপরে হাতা-ভর্তি রাবড়ি ঢেলে দেওয়া হয়। বাড়াবাড়ি রকমের মিষ্টি হলেও স্বাদ অতুলনীয়।
কোজিকোড়ে স্টেশনের কোজিকোড়ে হালুয়া- কেরালার এই স্টেশনে নামলে দেখতে পাওয়া যাবে বিক্রেতারা বসে রয়েছেন এই বিশেষ হালুয়া নিয়ে। আঠালো এই হালুয়ার রঙ কখনও গভীর খয়েরী, কখনও হলুদ, কমলা, লাল, সবুজের মতো অভিনব। বানাতে ব্যবহার হয় ময়দা, ঘি, নারকেলের তেল, বাদাম প্রভৃতি। বাঙালির পরিচিত হালুয়ার থেকে স্বাদ একেবারেই আলাদা। তবে নতুন জায়গায় যাওয়াই হয় যদি, নতুন স্বাদ চেখে দেখতে ক্ষতি কি?
আরও পড়ুন:
রতলাম স্টেশনের কান্দা পোহা- ‘জব উই মেট’ সিনেমাত মধ্যরাতে ভুলবশত এই স্টেশনে নেমে পড়েছিল গীত চরিত্রটি! অভিনয়ে, করিনা কাপুর। মধ্যপ্রদেশের রতলামের খ্যাতির অন্যতম কারণ এখানকার কান্দা পোহা। ঝুরঝুরে চিঁড়ের পোলাও, সঙ্গে ভাজা পিঁয়াজ, সরষে দানা, কাঁচা লঙ্কা ও বিভিন্ন মশলা। খেয়ে পেট একেবারেই ভারী লাগে না, অথচ খিটেও মেটায়, মনও ভরে। প্লেটভর্তি পোহার উপর ঝুরিভাজা ছড়িয়ে দেওয়া হয় পরিবেশনের সময়।
বর্ধমানের সীতাভোগ-মিহিদানা- বর্ধমান শহরের নামটির সঙ্গেই জুড়ে গিয়েছে এই দুই মিষ্টির নাম। তবে সবার প্রথমেই এদের দেখা মিলবে বর্ধমান স্টেশনে নেমে। খানিক দূরে দূরেই কাচের বাক্সে সীতাভোগ মিহিদানা বিক্রি করতে দেখা যায়। সীতাভোগ অনেকখানি যেন বাসমতী চালের ভাতের মতো দেখতে! অন্যদিকে মিহিদানা যেন বোঁদের দূরসম্পর্কের আত্মীয়। চাইলে আলাদা খাওয়াই যায়, তবে মিষ্টিপ্রেমীরা সাধারণত একই সঙ্গে খেয়ে থাকেন সীতাভোগ ও মিহিদানা।