এই ৫ ধরনের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করলেই বিপদ! আজই শেখান সন্তানকে
ছোটরা মাটির তালের মতো, বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা নতুন অভিজ্ঞতায় মত বদলাবে তার, জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে। এই লেখার অর্থ এমন নয় যে নিজের সন্তান বাদে অন্য সকল শিশুকে জটিল বিচারের দৃষ্টিতে দেখতে হবে আপনাকে। তবে বন্ধু চেনার ক্ষেত্রে এই সাধারণ কয়েকটি বিষয় মনে রাখলে, তা আপনার সন্তানের কাজে লাগবে আজীবন।
যে ধরনের শিশু সারাক্ষণ প্রতিযোগিতা করতে চাইছে, তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে শেখান নিজের সন্তানকে। হয়তো কথায় কথায় দু'জনের কাছে থাকা জিনিসের মধ্যে তুলনা করে অন্য শিশুটি। তার কাছে থাকা জিনিসটি ভালো হলে, আপনার সন্তানকে ছোট করে সে, একইভাবে তার কাছে থাকা জিনিসটি খারাপ হলে, আপনার সন্তানকে আঘাত করে, কেড়ে নেয়! এমন বন্ধু আপনার সন্তানের না থাকাই ভালো।
আরও পড়ুন:
যে শিশু অন্যকে ছোট করে, তার সঙ্গে বন্ধুত্ব না করাই ভালো। নিঃসন্দেহে এমনটা সেই শিশুর পারিবারিক শিক্ষারই প্রতিফলন। এমন মানুষরা ছোটবেলায় অন্যদের রূপ, গুণ নিয়ে ঠাট্টা করে। বড় হলে ঠাট্টার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় উলটোদিকের মানুষের আর্থিক সামর্থ্য। আজ হয়তো সে আপনার শিশুর সঙ্গে মিলে অন্যকে হেয় করছে। কিন্তু কাল ঝগড়া হলেই আপনার সন্তানও হয়ে উঠবে তার ঠাট্টার পাত্র।
যে শিশু বিপদের মুহূর্তে ফেলে পালায়, সে বন্ধু হতে পারে না— এ কথা জানা দরকার আপনার সন্তানের। হয়তো প্রাথমিকভাবে এমনটা ভীষণ সাধারণ ঘটনা বলে মনে হবে। ছোটরা তো ভয় পায়ই। বিপদের মুখে ফেলে পালানো আর এমন কি ব্যাপার? কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে, এমনটা সে শিশুর স্বভাবজাত কি-না। তা যদি হয়, তবে সে স্বভাব রয়ে যাবে বড় বয়সেও।
সে শিশু সব সময় আগ বাড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেয়, তার থেকে সাবধান! প্রথম প্রথম খারাপ না লাগলেও, এমন মানুষের সংস্পর্শে এক সময় দমবন্ধ অনুভব হয় মানুষের। সে হয়তো আপনার সন্তানকে মতামত প্রকাশ করতে দেবে না কোনও ক্ষেত্রেই। এমন মানুষের সংস্পর্শে দীর্ঘ সময় থাকলে, আপনার সন্তানের মধ্যেও দেখা দেবে হীনম্মন্যতা।
আরও পড়ুন:
যে শিশু কোনও কথা গোপন রাখতে পারে না, তার থেকে সাধু সাবধান! এর অর্থ বাবা-মায়ের থেকে বড় ঘটনা লুকিয়ে যাওয়া নয়। বরং ‘সিক্রেট কিপিং’। প্রিয় বন্ধু, সে ছোট হোক বা বড়, মানুষের গোপন কথা গোপনে রাখবে, এমনটাই দস্তুর। কিন্তু এই ধরনের মানুষ আপনার সন্তানের গোপন কথা অন্যকে বলে বেড়ায়, অথবা অন্যের গোপন খবরের হদিশ এনে দেয় আপনার সন্তানকে।
ছোটরা মাটির তালের মতো, বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা নতুন অভিজ্ঞতায় মত বদলাবে তার, জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে। এই লেখার অর্থ এমন নয় যে নিজের সন্তান বাদে অন্য সকল শিশুকে জটিল বিচারের দৃষ্টিতে দেখতে হবে আপনাকে। তবে বন্ধু চেনার ক্ষেত্রে এই সাধারণ কয়েকটি বিষয় মনে রাখলে, তা আপনার সন্তানের কাজে লাগবে আজীবন।