Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
RBI

সোনা বিক্রি করে ডলার কেন? আরবিআইয়ের পদক্ষেপ কতটা স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয়

এটি এমন একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ, যা দেখাচ্ছে যে আরবিআই শুধু সম্পদের পরিমাণ নয়, সম্পদের কার্যকারিতাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।

Advertisement
দেবাশিস কর্মকার
দেবাশিস কর্মকার

শেষ আপডেট: জুন ৪, ২০২৬, ২১:২৯

link
দেবাশিস কর্মকার
দেবাশিস কর্মকার

শেষ আপডেট: জুন ৪, ২০২৬, ২১:২৯

options
link
সোনা বিক্রি করে ডলার কেন? আরবিআইয়ের পদক্ষেপ কতটা স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় zoom
প্রতীকী ছবি।

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ সোনা বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার বাড়িয়েছে বলে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হতে পারে। কারণ, গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে সোনা কেনার প্রবণতা বেড়েছে এবং ভারতও তার ব্যতিক্রম ছিল না। সেইসঙ্গে, আরবিআই সম্প্রতি বিদেশে গচ্ছিত সোনার ভাণ্ডারের একটি বড় অংশ দেশে ফিরিয়েও এনেছে। এই পরিস্থিতিতে শীর্ষ ব‌্যাঙ্কের সোনা বিক্রির সিদ্ধান্ত আগের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস‌্যপূর্ণ নয় বলেই মনে করছেন অনেকে। কিন্তু, মনে রাখতে হবে অর্থনীতি এমন একটি বিষয়, সেখানে অনেক সময়ই প্রতীকী নিরাপত্তার চেয়ে কার্যকর নিরাপত্তা বেশি গুরুত্ব পেয়ে থাকে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে আরবিআইয়ের পদক্ষেপ অস্বাভাবিক নয়, বরং পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে যথেষ্ট বাস্তবসম্মত। এটি এমন একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ, যা দেখাচ্ছে যে আরবিআই শুধু সম্পদের পরিমাণ নয়, সম্পদের কার্যকারিতাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।

সোনা একটি নিরাপদ সম্পদ। দীর্ঘমেয়াদে এর মূল্য সংরক্ষিত থাকে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক অনিশ্চয়তার সময় এটি আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করে। তবে, সোনার একটি মৌলিক সীমাবদ্ধতা রয়েছেও। এটি সচরাচর ‘নগদ’ সম্পদ নয়। অর্থাৎ কোনও দেশের পণ‌্য আমদানির দাম মেটানো, বৈদেশিক ঋণ শোধ বা মুদ্রাবাজারে তাত্ক্ষণিক হস্তক্ষেপ করার জন্য সরাসরি সোনা ব্যবহার করা যায় না। সেই ক্ষেত্রে ডলার বা অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রাই সবচেয়ে কার্যকর মাধ‌্যম। ভারতের ক্ষেত্রে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এই নগদ অর্থ বা লিক্যুইড মানির গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করেছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারী দেশ। সে কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদার উপরও পড়ে। একই সঙ্গে যদি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে অর্থ তুলে নিতে শুরু করেন, তখন ডলারের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পায় এবং টাকার উপর চাপ সৃষ্টি হয়। এমন অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কাছে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা না থাকলে মুদ্রার অবমূল্যায়ন আরও দ্রুত ঘটতে পারে।

Advertisement

এখানেই সোনা ও ডলারের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়। সোনা দেশের সম্পদকে নিরাপদ রাখে, কিন্তু ডলার দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে সচল রাখে। ফলে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য শুধু সম্পদ সঞ্চয় নয়, প্রয়োজনে তা ব্যবহার করার সক্ষমতাও নিশ্চিত করা। আরবিআই সম্ভবত সেই কারণেই সোনার একটি অংশ নগদিকরণ করে বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার শক্তিশালী করার পথ বেছে নিয়েছে। এই পদক্ষেপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সময় নির্বাচনও। গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যদি সত্যিই সোনা বিক্রি করে থাকে, তাহলে তা এমন একটি সময়ে করেছে যখন সোনার মূল্য অত্যন্ত লোভনীয়। বিনিয়োগের ভাষায় একে বলা যায় ‘প্রফিট বুকিং’ বা লাভ তুলে নেওয়া। দীর্ঘদিন ধরে সোনা কিনে মজুত বাড়ানোর পর মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে তার একটি অংশ বিক্রি করে আরও প্রয়োজনীয় সম্পদে রূপান্তর করা অকটি স্বাভাবিক কৌশল। যদিও আরবিআই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।

আসলে আরবিআইয়ের সাম্প্রতিক পদক্ষেপটিকে নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে না দেখে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার নমনীয়তা হিসেবে দেখা দরকার। একদিকে যেমন সোনার সংরক্ষণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে, তেমনই ডলারের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা হচ্ছে। আধুনিক কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার মূল দর্শনও এটাই– সব সম্পদ এক ঝুড়িতে না রেখে পরিস্থিতি অনুযায়ী ভারসাম্য রক্ষা করা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.