আজ একাধিক স্টক, যেগুলি প্রায় ‘লেজেন্ড’ পর্যায় পৌঁছে গিয়েছে- একদিন ‘ইমারজিং ট্যালেন্ট’ হিসাবে গণ্য হত, বললেন প্রসন্ন পাঠক, দ্য ওয়েলথ কোম্পানি মিউচুয়াল ফান্ডের ডেপুটি সিইও। নতুন মিডক্যাপ প্রকল্প উপলক্ষ্যে তাঁর সঙ্গে প্রশ্নোত্তরে নীলাঞ্জন দে
এই মুহূর্তে মিডক্যাপ স্টকের পরিস্থিতি কেমন, আপনি কীভাবে দেখছেন এই সেগমেন্টটি?
আরও পড়ুন:
দেখুন, আমরা সকলেই গত কয়েক কোয়ার্টার ধরে সংশোধন বা কারেকশন হতে দেখেছি। মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ, এই দুই সেগমেন্টে এর অভিঘাত সবাই বুঝতে পেরেছি। তবে এখন, এই অবস্থা থেকে, মিডক্যাপ আবার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আমরা মনে করি। আমাদের বিশ্বাস, মিডক্যাপে আবার নতুন ভাবে বিনিয়োগ করার সময় এসেছে। বেশ কিছু সুযোগ আসবে, এবং নানা ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে ইনভেস্টরদের সামনে নতুন দরজা খুলবে।
খেয়াল করে দেখবেন, মিডক্যাপ স্টকের ক্ষেত্রে ওঠানামা প্রায় সব সময়ই বেশ বড় মাপের হয়। তার মানে সোজা-বাজার যখন দ্রুত বাড়ে, তখন এই শ্রেণির স্টক অনেক ক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি এগিয়ে যায়। আবার কারেকশনের সময় পতনও তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
আজকের পরিস্থিতিতে বোঝা যাচ্ছে যে, বিভিন্ন ভাল মানের মিডক্যাপের ভ্যালুয়েশন আগের তুলনায় আকর্ষণীয় হয়েছে। নানা আঙ্গিক থেকে দেখলে ভারতের অর্থনীতি এখন শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আছে। উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের উদাহরণ দিতে পারি। কিছু বিশেষ ধরনের ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ ভাল, এমনই মনে করা হচ্ছে।
সরকারি পলিসি খতিয়ে দেখুন। পরিকাঠামো ও পরিষেবা, দুই খাতে খরচ করা হচ্ছে। দেশের ভিতরে চাহিদা বৃদ্ধির ফলে নানা মাঝারি আকারের সংস্থার ব্যবসা বাড়ার সুযোগ রয়েছে। তাই মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদের দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ বাড়ানো যেতে পারে। তবে একবারে খুব বড় অঙ্ক না লাগিয়ে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ বা সিপ করা বুদ্ধিমানের কাজ।
আজকের অবস্থার কথা ভাবুন। মিডক্যাপে ঝুঁকিও তো আছে, অন্তত সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তেমনই চিন্তা করছেন। তাঁরা কীভাবে এগোবেন?
ঠিক, তাঁরা জানেন যে মিডক্যাপে গ্রোথের সম্ভাবনা যেমন বেশি, রিস্ক তেমনই লার্জক্যাপের তুলনায় বেশি। তবে এ-ও সত্যি যে মিডক্যাপ শ্রেণীর সংস্থায় এখনও বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। তাই সব রকম ফ্যাক্টরের উপর নজর রাখছি আমরা। ব্যবসায়িক পরিবেশ, সুদের হার, কনজিউমারের চাহিদা বা কমপিটিশনের প্রভাব কেমন, তা বুঝে এগোতে হবে।
এর সঙ্গে আর একটা কথা বলি। শুধুমাত্র অতীতের রিটার্ন দেখে মিডক্যাপে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। নিজের আর্থিক লক্ষ্য বুঝে পা ফেলুন। যাঁদের পাঁচ থেকে সাত বছরের বেশি সময় হাতে আছে, তাঁদের বিনিয়োগের পরিকল্পনায় মিডক্যাপ থাকা উচিত। আমাদের মতে, এই সব ক্ষেত্রে (সব ইক্যুইটির মধ্যে) মিডক্যাপ (Midcap Fund) অবশ্যই একটি ভাল সম্পদ-শ্রেণি হতে পারে। এও বলে রাখি যে, ইনভেস্টরদের জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল বৈচিত্র্য বজায় রাখা। এখানে ডাইভারসিফিকেশনের কথা বলছি। পুরো মিডক্যাপ পোর্টফোলিও কেবল দু-চারটি সেক্টরে রাখবেন না। ছড়িয়ে দিন নিজের হোল্ডিংস, তাতে বাজারের অস্থিরতার প্রভাব অনেকটাই কমে যাবে।
এবার শেষ প্রশ্ন। আগামী কয়েক বছরে মিডক্যাপ নিয়ে ইনভেস্টরদের প্রত্যাশা কেমন থাকা উচিত?
ভারতের অর্থনীতির বৃদ্ধি দেখুন, অনেক পরিবর্তন এসেছে। নীতি-নিয়মে যে সব বদল এসেছে, তা নিয়ে আলাদাভাবে কিছু বলছি না। তবে ভবিষ্যতে আরও পরিবর্তন আসবে। বেশ কিছু মাঝারি-মাপের সংস্থা আগামী কয়েক বছরে বড় ব্যবসায় পরিণত হতে পারে। অতীতে এমন বহুবার দেখা গেছে। আমাদের মতে যথেষ্ট সময় নিয়ে যদি আপনারা ইনভেস্ট করেন, আর ধৈর্য্য ধরে থাকেন, তাহলে ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পাবেন। লগ্নিকারীরা এই শ্রেণির স্টক থেকে উল্লেখযোগ্য সম্পদ তৈরি করতে পারবেন বলে আমাদের ধারণা।
সর্বশেষ খবর
-
‘আমরা আসছি’, ভারত সফরের আগে সোশাল মিডিয়ায় বিশেষ বার্তা ব্রাজিল দলের
-
প্রোমোটারের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা ঘুষ! কনস্টেবলকে হাতেনাতে ধরল দুর্নীতি দমন শাখা
-
বাংলার পর অসমের মামলাতেও জামিন, ১৩ বছর পর বিরাট স্বস্তিতে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন
-
পুকুরে ভেসেই কাটছিল জীবন! অনন্ত আম্বানির হস্তক্ষেপে মুম্বইয়ে চিকিৎসা পাচ্ছে মুর্শিদাবাদের সেই ইকবাল
-
এবার রাজ্য ও জাতীয় টেবিল টেনিস দলকে স্পনসর করবে রাজ্যের পর্যটন দপ্তর! বড়সড় ইঙ্গিত মন্ত্রীর