সম্প্রতি অর্থমন্ত্রকের নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে চর্চা বিস্তর। ‘ফ্রি লুক পিরিয়ড’। অর্থাৎ বিমা নেওয়ার এক বছরের মধ্যে তা ফের ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা। এই উদ্যোগ কতটা গ্রহণযোগ্য? আলোচনায় বিমা বিশেষজ্ঞ শঙ্খদীপ দাস
কে জিতেছে কোন কালে, আইনের যাঁতাকলে? এমন যদি হত… বছর ঘুরে ভোট ফিরিয়ে আবার ভোট হত। ঘটনাটা খুবই অবাস্তব, তাই না? কিন্তু সম্প্রতি অর্থমন্ত্রক বিমা সংক্রান্ত বিষয়ে এরকমই এক সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন। জানা গেল, বিমা নেওয়ার এক বছরের মধ্যে সেটা আবার ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। যাকে বলা হয় ‘ফ্রি-লুক পিরিয়ড’। আগে অবশ্য একমাসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল, যা এখন এক বছর পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হবে।
এখন প্রশ্ন হল, সেটা কতটা বাস্তবসম্মত?
যদি গ্রাহকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা হয়, তাহলে আপাতদৃষ্টিতে এটা খুব প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত মনে হতে পারে। গ্রাহক তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে সময় পান এক বছর। প্রতি বছর যদি গ্রাহক ৩৬৫ দিন একটি বিমা সংস্থার সুযোগ সুবিধা গ্রহণের পরে সেই পলিসি ফেরত দিয়ে টাকা নিয়ে আবার অন্য সংস্থার বিমা গ্রহণ করেন,সেটা কোনও সঠিক সিদ্ধান্তের বার্তাবাহক কি?
অপরদিকে, অন্য কোনও সংস্থা বা বিমা পরামর্শদাতা অথবা অপেশাদার শুভাকাঙ্খী পরামর্শ দেন যে, এই পলিসিটা লাভজনক নয় বা পুরোনো ধাঁচের। কিংবা এখন অনেক নতুনত্ব এসেছে তাই এটা বদলে নেওয়া জরুরি। সেক্ষেত্রে গ্রাহক সম্পূর্ণ বিচলিত ও বিভ্রান্ত হয়ে যাবেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁর অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়া অবশ্যম্ভাবী। এটা সুস্থ অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর পরিপন্থী নয় কি?
এবার আসা যাক বিমা সংস্থাগুলির দৃষ্টিভঙ্গির দিকে।
যেহেতু প্রথম বছরের যে কোনও সময় গ্রাহক টাকা ফেরত চাইতে পারেন সেহেতু প্রথম বছর বিনিয়োগের কোন সুযোগ থাকছে না। প্রথম বছরের প্রিমিয়াম থেকে কোনও আয় সম্ভব নয়, এতে অর্থলাভের পরিমাণ কমবে। মেয়াদপূর্তিতে গ্রাহকের প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণও কমবে, সঙ্গে বিমাসংস্থার আয়ও কমবে। এক্ষেত্রে বিমার আগ্রহ বাড়বে কি?অন্যদিকে, গ্রাহক এক বছরের মধ্যে যদি কোনও দাবি করেন, সেটা সংস্থাকে মেটাতে হবে। সেক্ষেত্রে সংস্থা একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাবে। ঝুঁকিও বাড়বে। ফলে গ্রাহকের প্রদেয় প্রিমিয়ামও বাড়বে। সাধারণ মানুষ এই ব্যায়ভার বহন করতে সক্ষম কি? গ্রাহক ও বিমা সংস্থা, কেউই এই নিয়মে লাভবান হবেন না।
কয়েকমাস আগে চালু হওয়া প্রথম বছর থেকেই ‘সারেন্ডার’ করার সুবিধা সংক্রান্ত নিয়মটির প্রাসঙ্গিকতা থাকবে কি?
সরকার ভীষণভাবে চিন্তিত ব্যাঙ্কের দ্বারা বিক্রি হওয়া পলিসিতে সাধারণ মানুষ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত–এই নিয়ে। সেক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের উপর কোনও নতুন শর্ত আরোপ করা কি অসম্ভব? অনেক প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।
সর্বশেষ খবর
-
অনলাইন গেম থেকে সমাজ মাধ্যমের কু’প্রভাব, খাকি উর্দিতে শিক্ষকের ভূমিকায় পুরুলিয়া পুলিশ
-
গোল করে নায়ক সেই এমবাপেই, প্যারাগুয়ের কঠিন পরীক্ষায় পাস করে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স
-
আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অটুট বন্ধুত্বের বার্তা মোদির
-
কানাডার স্বপ্নের সফর শেষ, আজেদিনের জোড়া গোলে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো
-
‘বাংলায় সব সম্পদ আছে’, শিল্পপতিদের বিনিয়োগের আহ্বান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর