নানা ধরনের সুরাহার খোঁজ করেন ইনভেস্টররা, বিশেষত যারা হেলথ ইনসিওরেন্সের ক্লেম নিয়ে খবরাখবর রাখতে চান। খুক স্বাভাবিকভাবেই এখানে বিভিন্ন সময় স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ জনসমক্ষে উঠে আসে। আমাদের কলমনিস্ট সুরজিৎ দাস এমনই একটি ইস্যুর ভিত্তিতে লিখলেন
অনেক বছর ধরে হেলথ ইনসিওরেন্স থাকলেই কি সব সময় ক্যাশলেস ক্লেম পাওয়া যায়? সম্প্রতি এই প্রশ্নটি একজন আমাকে করেছেন। বুঝলাম এই বিষয়টি ইদানিং নানা কারণে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমার নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আজকের লেখা, মনে হয় অনেকের প্রশ্নের জবাব দেবে।
আরও পড়ুন:
লেখার সূত্র আমার খুব পছন্দের মানুষ রাজর্ষি, যার সঙ্গে বারো বছরেরও বেশি সময় ধরে আমার পরিচয়। কয়েকদিন আগে এক সকালে হঠাৎ একটি ফোন এল, কল করেছিলেন রাজর্ষির এক বন্ধু। তিনি জানালেন আগের রাত থেকেই রাজর্ষির প্রচণ্ড পেটব্যথা শুরু হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে আবার ফোন। জানলাম রাজর্ষি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
রাজর্ষির হেলথ ইনসিওরেন্স পরিকল্পনা ও ক্লেম-সার্ভিসিংয়ের দায়িত্বে রয়েছে আমদের সংস্থা
বিবেক ফিনান্সিয়াল সার্ভিস। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমাদের প্রথম কাজ ছিল ক্যাশলেস সুবিধার জন্য আবেদন করা। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিমা কোম্পানি সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করল। কারণ হিসেবে জানানো হল, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার যে চিকিৎসাগত যৌক্তিকতা (medical necessity of hospitalization) হাসপাতালের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তা যথেষ্ট স্পষ্ট নয়। এরপর হাসপাতালের পক্ষ থেকে বিস্তারিত চিকিৎসার ইতিহাস যুক্ত করে ফের আবেদন করা হল। আমাদের পক্ষ থেকেও বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন জানানো হল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, দ্বিতীয়বারও ক্যাশলেস অনুমোদিত হল না। পরে হাসপাতালের পাঠানো সমস্ত নথি আমরা খুব খুঁটিয়ে দেখলাম। বুঝলাম যে হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল নোটে এমন ভাবে বিষয়টি এমনভাবে বোঝানো হয়নি, যাতে স্পষ্ট হয় কেন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো চিকিৎসাগতভাবে অপরিহার্য ছিল।
এখানেই আমার বক্তব্য–অনেক মানুষ একটি বড় ভুল ধারণায় আটকে রয়েছেন। তাঁদের ধারণা হেলথ ইনসিওরেন্স পলিসি থাকলে, হাসপাতালে ভর্তি হলেই ক্যাশলেস বা ক্লেম পাওয়া যাবে। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। বিমা সংস্থার কর্তৃপক্ষ মূলত একটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন। ‘‘রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো কি চিকিৎসাগতভাবে অপরিহার্য ছিল?’’ এবং ‘‘যে অ্যাক্টিভ লাইন অফ ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়েছে, সেটি কি শুধুমাত্র হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায়ই সম্ভব ছিল?’’
যদি এই বিষয়টি মেডিক্যাল রেকর্ডে যথেষ্ট জোরালোভাবে না পরিষ্কার হয়, তাহলে অনেক সময় প্রকৃত রোগীও ক্যাশলেস সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। শেষ পর্যন্ত রাজর্ষিকে নিজের টাকায় হাসপাতালের সমস্ত বিল মিটিয়ে ডিসচার্জ নিতে হয়। হ্যাঁ, তাঁর পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। কিন্তু আমরা ওকে একটিই কথা বলেছিলাম, বিষয়টি এখানেই শেষ হবে না। ক্যাশলেস না পাওয়া মানেই ক্লেমের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। গুছিয়ে বিশ্লেষণ করে একটি বিস্তারিত প্রফেশনাল ডিক্লেরাশন তৈরি করা হল। সেখানে রোগের প্রকৃতি, চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা এবং হাসপাতালে ভর্তির যৌক্তিকতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরলাম। সেই নথি (এবং প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল ডকুমেন্টের ভিত্তিতে) নিয়ে রিইম্বার্সমেন্ট ক্লেম দাখিল করা হল। এবার ক্লেমটির কোনও জটিলতা ছাড়াই সফলভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গেল।
সর্বশেষ খবর
-
আশঙ্কাজনক পর্দার ‘সাইবাবা’! চিকিৎসার খরচ জুগিয়ে সাহায্য অক্ষয়, রণবীর, কার্তিকদের
-
কলকাতায় ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের টিকিট বিক্রি শুরু, কত দাম, কোথায় পাবেন? জানুন খুঁটিনাটি
-
২০০ বছর পর পরিবারে কন্যা! রথে চেপে, ঢাকঢোল বাজিয়ে ‘লক্ষ্মী’ এল ঘরে, মুগ্ধ নেটপাড়া
-
মহালয়ায় ইডেনে মেগা শো, উমা আগমনীর অনুষ্ঠানে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী
-
ভুয়ো এসসি সার্টিফিকেট দেখিয়ে অধ্যাপনা! অধ্যাপককে সাসপেন্ড করল পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়