সুন্দর হয়ে উঠতে চেয়ে কী না করে মানুষ! কখনও আশ্চর্য কোনও প্রসাধনী আবিষ্কার করে বসে, কখনও আবার সৌন্দর্য বাড়াতে অদ্ভুত কোনও যন্ত্র উদ্ভাবন করে। এমনটা কিন্তু হাল আমলের ফ্যাশন নয়। বরং যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে। কিন্তু সৌন্দর্য বাড়াতে অন্যের ঘাম নিজের শরীরে মাখার কথা শুনেছেন কখনও? সাজগোজ নিয়ে বরাবরই পুরুষদের তুলনায় বেশি আগ্রহী নারীরা। তবে আজ রইল এমন এক ফ্যাশন ট্রেন্ডের কথা, যেখানে পুরুষদের ভূমিকাই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন:
ফিরে যাওয়া যাক প্রাচীন রোমে। যেখানে গ্ল্যাডিয়েটরদের রক্তক্ষয়ী লড়াই ছিল হাজারও মানুষের বিনোদনের উৎস। বধ্যভূমিতে একে অপরের সঙ্গে লড়ে চলেছে অসীম শক্তিধর গ্ল্যাডিয়েটররা। কখনও বেঁচে ফিরছে তারা, কখনও বা বধ্যভূমির ভিতরেই প্রাণ ত্যাগ করছে। জিতে ফিরলে স্বাভাবিকভাবেই সমাজে সেই গ্ল্যাডিয়েটরের দাম বেড়ে যাচ্ছে অনেকখানি। তার ব্যবহার্য জিনিস থেকে শুরু করে তার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকটি বস্তুই হয়ে উঠছে মহামূল্যবান। এমনকী তাদের শরীর বেয়ে গড়িয়ে পড়া ঘামের প্রতিটি বিন্দুও!
আজ্ঞে হ্যাঁ, ঘাম! যুদ্ধ শেষ হলে তাদের শরীরের ঘাম সংগ্রহ করে রাখা হত। সৌন্দর্যচর্চার উপাদান হিসেবে তুমুল চাহিদা ছিল এই ঘামের (gladiator sweat)! যদিও তা কিনতে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হত বলে কেবলমাত্র ধনী রোমান নারীরাই তা কিনতে পারত। যুদ্ধ শেষ হলে গ্ল্যাডিয়েটরদের শরীর থেকে ঘাম ও ধুলো স্ট্রিজিল নামের বিশেষ ধাতব যন্ত্র দিয়ে আলতো করে চেঁচে সংগ্রহ করা হত। এরপর সেই ঘাম ছোট ছোট কাচের শিশিতে ভরে বাজারে বিক্রি হত। কেউ সেই ঘাম প্রসাধনী তেল, কেউ বা সুগন্ধির সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করতেন।
গ্ল্যাডিয়েটররা ছিল শক্তি ও সাহসের প্রতীক। তাদের অনেকেই ছিল দাস বা অপরাধী, তবুও মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অসাধারণ বীরত্ব দেখিয়ে তারা হয়ে উঠত জনতার নায়ক। মানুষ বিশ্বাস করত, এই যোদ্ধাদের ঘাম বা রক্তে তাদের পৌরুষ ও জীবনীশক্তির একাংশ রয়েছে।

অনেকেই বিশ্বাস করতেন এটি ত্বককে আরও সুন্দর ও উজ্জ্বল করে তোলে। কেউ কেউ আবার মনে করতেন, এই ঘাম কামদ্দিপনা বাড়ায়! গ্ল্যাডিয়েটরের ঘাম প্রসাধনী হিসেবে ব্যবহার করলে, সেই নারী হয়ে উঠতে অন্যান্য নারীদের চোখে ঈর্ষনীয়। একই সঙ্গে আবার পুরুষদের কাছে অভীপ্সার কেন্দ্র হয়ে উঠত সে।
কেবল ঘাম নয়, একই রকম দামী ছিল গ্ল্যাডিয়েটরদের রক্তও। অনেকের ধারণা ছিল এতে রয়েছে অলৌকিক চিকিৎসাগুণ। আজকের বিজ্ঞান অবশ্য এমন দাবির সত্যতা খুঁজে পায়নি। গ্ল্যাডিয়েটরের ঘাম বা রক্ত অন্যান্য মানুষের মতোই। তাতে ত্বক সুন্দর করে তোলার মতো কোনও বিশেষ অলৌকিক শক্তির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘বিশ্বকর্মা পুজোয় নবান্নে আমার সঙ্গে অঞ্জলি দিন’, বামেদের চ্যালেঞ্জ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
-
জোর যার ‘আসন’ তার! ধরাবাঁধা নিয়ম ভেঙে শরিকদের বার্তা সিপিএমের
-
ইরানি হামলার মধ্যেই জর্ডনে অনুশীলন ইস্টবেঙ্গলের, ‘জয়মন্ত্র’ দিলেন প্রাক্তনী হিজাজি
-
ঠাকুরদালানে বেঁধে রাখা হয় দেবীকে, বাংলার ‘শিকল বাঁধা দুর্গা’র মাহাত্ম্য জানেন?
-
দাম্পত্য সমস্যা-অমঙ্গল দূর করার টোপ, মহিলার লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে পগারপার ‘তান্ত্রিক’