মেয়ের বিয়েকে স্মরণীয় করে রাখতে কোনও খামতি রাখলেন না জয়পুরের ব্যবসায়ী শিব জোহরি। স্রেফ নিমন্ত্রণপত্র বানাতেই খরচ করে ফেললেন ২৫ লক্ষ টাকা। তবে এটি কোনও সাধারণ কাগজ বা কার্ড নয়। প্রায় তিন কেজি ওজনের খাঁটি রুপো দিয়ে তৈরি একটি বিশালাকার বাক্স। যার ছত্রে ছত্রে খোদাই করা রয়েছে দেব-দেবীর মূর্তিও।

আরও পড়ুন:
জয়পুরের এই ব্যবসায়ী আদতে চেয়েছিলেন মেয়ের বিদায়বেলার মুহূর্তকে চিরস্মরণীয় করে তুলতে। তাঁর কথায়, “আমি চেয়েছিলাম স্রেফ আত্মীয়স্বজন নয়, স্বয়ং দেবতারাও যেন আমার মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত থাকেন।” সেই ভাবনা থেকেই তৈরি এই ৮ x ৬.৫ ইঞ্চির রুপোর বাক্স। এর বিশেষত্ব হল, আস্ত বাক্সটি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে ১২৮টি ছোট ছোট রুপোর টুকরো। আশ্চর্যের বিষয়, পুরো কাঠামোটি জুড়তে একটিও পেরেক বা স্ক্রু ব্যবহার করা হয়নি।

বাক্সের গায়ে নিপুণ কারুকার্যে খোদাই করা হয়েছে ৬৫ জন দেব-দেবীর অবয়ব। ওপরের দিকে রয়েছেন গণেশ, শিব ও পার্বতী। নিচে বিষ্ণু এবং লক্ষ্মীর অবস্থান। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ ভারতীয় স্থাপত্যের অনুকরণে এখানে স্থান পেয়েছেন তিরুপতি বালাজিও। এমনকী কৃষ্ণের বাল্যলীলার নানা দৃশ্যও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই রুপোর পাতায়। বাক্সের ঠিক মাঝখানে হাতিদের পুষ্পবৃষ্টির আবহে খোদাই করা হয়েছে পাত্র-পাত্রীর নাম।

ব্যবসা ও ভক্তি— দুইয়ের মেলবন্ধনে তৈরি এই আমন্ত্রণপত্রটি ডিজাইন করতে শিব জোহরির সময় লেগেছে প্রায় এক বছর। পাত্রপক্ষকে যখন এই উপহারসম নিমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়, তখন রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। নেটনাগরিকদের একাংশ একে ‘বাবার ভালোবাসার রুপোলি রূপ’ বলে বর্ণনা করেছেন। ভারতের রাজকীয় বিয়ের ইতিহাসে এই ‘সিলভার ইনভিটেশন’ যে এক নয়া নজির গড়ল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কেন ছাড়লেন তৃণমূল? ‘স্বপ্ন ভাঙা’র গল্প শোনালেন ‘শুভেন্দুদার সাপোর্টার’ রচনা
-
‘বেইমানদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী, যারা যাওয়ার যাক’, ফের ‘শূন্য’ থেকে শুরুর অঙ্গীকার মমতার
-
ঝটকা মাংসের দোকান খুললেই ১০ হাজার টাকা অনুদান! বড় ঘোষণা বীজপুরের বিধায়কের
-
নাবালিকাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি, খুনের চেষ্টা! প্রধানকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে চড়-থাপ্পড় জনতার
-
‘মনে ভক্তি নেই, তাই বলছেন চুরি হয়েছে’, রামমন্দিরে দান লোপাটে বিস্ফোরক উত্তরপ্রদেশের স্পিকার