Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Kidney Transplant

শূকরের কিডনিতেই ডায়ালিসিস ছাড়া ৯ মাস বেঁচে বৃদ্ধ, তারপরই গন্ডগোল! কোন পথে হল চিকিৎসা?

চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ শুধু দীর্ঘ সময় কিডনি কাজ করার জন্য নয়, বরং প্রথম বার দেখাল জিন-পরিবর্তিত শূকরের কিডনি ভবিষ্যতে মানব-কিডনি পাওয়ার আগ পর্যন্ত ‘অপেক্ষার সেতু’ হিসেবে কাজ করতে পারে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ২০:১৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ২০:১৯

options
link
শূকরের কিডনিতেই ডায়ালিসিস ছাড়া ৯ মাস বেঁচে বৃদ্ধ, তারপরই গন্ডগোল! কোন পথে হল চিকিৎসা? zoom
মানব শরীরে শূকরের কিডনি! ছবি: এআই
Advertisement

কিডনি বিকল। সামনে অনিশ্চিত অপেক্ষা। কবে মিলবে উপযুক্ত কিডনিদাতা? তার আগে পর্যন্ত ভরসা ডায়ালিসিস। কিন্তু সেই অপেক্ষার সময়টুকু যদি কোনও ‘অন্য’ কিডনি সামলে দেয়? অসম্ভব মনে হলেও এমনই নজির তৈরি করেছেন আমেরিকার ৬৬ বছরের প্রবীণ টিম অ্যান্ড্রুজ।

তাঁর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল জিন-পরিবর্তিত শূকরের কিডনি। সেই কিডনি তাঁকে ২৭১ দিন ডায়ালিসিস ছাড়াই রেখেছিল। এরপর শূকরের কিডনি সরিয়ে শরীরে সফল ভাবে প্রতিস্থাপন করা হয় মানব-কিডনি।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ঘটনাটি সামনে এসেছে ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল ও গবেষকদের একটি রিপোর্টে, যা প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য ল্য়ানসেট’-এ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ শুধু দীর্ঘ সময় কিডনি কাজ করার জন্য নয়, বরং প্রথম বার দেখাল— জিন-পরিবর্তিত শূকরের কিডনি ভবিষ্যতে মানব-কিডনি পাওয়ার আগ পর্যন্ত ‘অপেক্ষার সেতু’ হিসেবে কাজ করতে পারে।

pig kidney 9 months human kidney transplant
চিকিৎসায় নতুন অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত

কী হয়েছিল এই প্রবীণের ক্ষেত্রে?
কিডনির কার্যকারিতা প্রায় নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, অর্থাৎ, এন্ড-স্টেজ কিডনি ডিজিজে আক্রান্ত অ্যান্ড্রুজের জন্য উপযুক্ত মানব-কিডনির অপেক্ষা ছিল কঠিন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন চিকিৎসকেরা তাঁর শরীরে জিন-পরিবর্তন করা ইউকাটান মিনিয়েচার পিগের কিডনি প্রতিস্থাপন করেন। পরীক্ষামূলক এই চিকিৎসার অনুমোদন মিলেছিল এফডিএ-এর এক্সপ্যান্ডেড এক্সেস ইনভেস্টিগেশনাল নিউ ড্রাগ ব্যবস্থায়।

অস্ত্রোপচারের পর কিডনিটি দ্রুত কাজ শুরু করে। ফলে প্রায় ন’মাস ওই প্রবীণের ডায়ালিসিসের প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে কিডনিটির কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করে। পরীক্ষায় কিডনির রক্তনালিতে ক্ষত ও প্রদাহের চিহ্ন পাওয়া যায়। এর মধ্যে সংক্রমণের কারণে প্রায় ছ’মাস পর তাঁর ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধও কমিয়ে দিতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত শূকরের কিডনিটি সরিয়ে তাঁকে ফের ডায়ালিসিসে ফিরতে হয়।

এরপর আসে আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মৃতদাতার একটি মানব-কিডনি তাঁর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। নতুন কিডনি সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু করে। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয়, আগের শূকরের কিডনি তাঁর শরীরে এমন কোনও প্রতিরোধ তৈরি করেনি, যার কারণে মানব-কিডনিটি প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। শূকর থেকে মানুষের শরীরে কোনও ক্ষতিকর জীবাণু সংক্রমণের প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

pig kidney 9 months human kidney transplant
মানব-কিডনি। প্রতিস্থাপনের আগে। ছবি: সংগৃহীত

সাধারণ শূকরের কিডনি নয়
এখানে ‘শূকরের কিডনি’ বললে ভুল হবে। মানুষের শরীরে ব্যবহৃত কিডনিটি ছিল বিশেষ ভাবে জিন-পরিবর্তিত করা। শূকরের অঙ্গ মানুষের শরীরে বসালে সবচেয়ে বড় বাধা তৈরি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। মানবদেহ শূকরের অঙ্গকে ‘ফরেন বডি’ হিসেবে শনাক্ত করে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। সেই সমস্যা কমাতেই বিজ্ঞানীরা শূকরের জিনে একাধিক পরিবর্তন করেন।

অ্যান্ড্রুজের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কিডনিতে মোট ৬৯টি জিনগত পরিবর্তন ছিল। মানুষের শরীরে তীব্র প্রতিরোধ তৈরি করতে পারে এমন তিন ধরনের অ্যান্টিজেন বাদ দেওয়া হয়। মানবদেহের সঙ্গে অঙ্গটির সামঞ্জস্য বাড়াতে সাতটি মানব জিন যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি শূকর থেকে মানুষের শরীরে ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা কমাতে কিছু ভাইরাস-সম্পর্কিত জিন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল।

২৭১ দিনের সাফল্য কেন বড় খবর?
মানুষের শরীরে শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপনের গবেষণা নতুন নয়। ২০২৪ সালে প্রথম জীবিত মানুষের শরীরে জিন-পরিবর্তিত করা শূকরের কিডনি প্রতিস্থাপন করেছিল ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল। সেই রোগী ৫২ দিন বেঁচেছিলেন; মৃত্যুর সময় কিডনিটি কাজ করছিল।অ্যান্ড্রুজের ক্ষেত্রে ২৭১ দিন ডায়ালিসিস ছাড়া থাকা তাই বড় অগ্রগতি। 

pig kidney 9 months human kidney transplant
প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া। ছবি: সংগৃহীত

এখনও অনেক পথ বাকি
এর অর্থ এই নয় যে শূকরের কিডনি এখনই মানব-কিডনির বিকল্প হয়ে গেল। বরং এই ঘটনা গবেষণার সামনে নতুন প্রশ্নও তুলে দিয়েছে। কীভাবে তার কার্যক্ষমতা আরও দীর্ঘ করা যায়? কতটা ইমিউনোসাপ্রেশন প্রয়োজন? সংক্রমণের ঝুঁকি কীভাবে আরও কমানো সম্ভব?সবকিছুর উত্তর পেতে আরও বড় গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন।

তবে অ্যান্ড্রুজের ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা দেখিয়েছে, মানব-কিডনির অপেক্ষায় থাকা রোগীর কাছে ভবিষ্যতে জিন-এডিট করা শূকরের কিডনি হয়তো চূড়ান্ত গন্তব্য নয়, কিন্তু হতে পারে সেই অপেক্ষার সেতু। আর কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সেই ‘অপেক্ষার সময়’টুকুই একদিন হয়তো জীবন বদলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.