৩ হাজার ৬৩৮ টাকার বদলে ২৩ হাজার ৬৩০ টাকা। ২ হাজার ৭২৩ টাকার বিলের জায়গায় ১২ হাজার ৭২০ টাকা। এমনকী, যেখানে মাইনাস এসেছে, সেখানে বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৮ হাজার ৩৫০ টাকা! বাড়ি থেকে বের হতে পারতেন না বৃদ্ধ ব্যবসায়ী। তাই বিদ্যুতের বিল জমা দেওয়ার ভার দিয়েছিলেন এলাকার এক যুবকের উপর। কিন্তু রীতিমতো বিদ্যুতের জাল বিল তৈরি করে আট বছরে প্রায় ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন যুবক। যদিও তার আগেই পূর্ব কলকাতার নারকেলডাঙা (Narkeldanga) থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হল মহম্মদ আরশাদ।
পুলিশ জানিয়েছে, ক্যানাল ইস্ট রোডে থাকেন বৃদ্ধ মহম্মদ নাসিম আনসারি। সেখানেই তাঁর ব্যবসা রয়েছে। কিন্তু বয়সের কারণে ভাল করে চলাফেরা করতে পারেন না। অভিযুক্ত আরশাদের একটি এসটিডি বুথ ছিল। কিন্তু এখন সেই বুথ বিশেষ কার্যকর না হওয়ায় সে বিল জমা দেওয়া-সহ বিভিন্ন কাজ করত। সেই সূত্র ধরেই আরশাদ ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি ও সংস্থার পাঁচটি মিটারের বিল জমা দিত। ব্যবসায়ীর ঠিকানায় যে বিল আসত, তা তাঁর ম্যানেজার আরশাদের একটি বাক্সে জমা করতেন। আরশাদ সেই টাকার বিল বিদ্যুৎ সংস্থায় গিয়ে জমা করত। তার পর বৃদ্ধার কাছে বিল নিয়ে গিয়ে সেই টাকা নগদে নিত আরশাদ। অভিযোগ, ওই যুবক সেই সুযোগই নিতে শুরু করে। নিজের ছোট দোকানেই তৈরি করে নেয় বিদ্যুতের বিল তৈরির ‘কারখানা’। কম্পিউটারে বৃদ্ধের বিদ্যুতের বিল স্ক্যান করে সে সফটওয়্যারের মাধ্যমে সেই টাকার পরিমাণ পালটে দিতে শুরু করে। এভাবেই ৩ হাজার ৬৩৮ টাকার বদলে ২৩ হাজার ৬৩০ টাকা, ২ হাজার ৭২৩ টাকার বিলের জায়গায় ১২ হাজার ৭২০ টাকা, ৫ হাজার ৬৯৩ টাকা পাল্টে ২৫ হাজার ৬৩০ টাকা বসিয়ে দেয়। এর পর সে বের করত রঙিন প্রিন্ট আউট।
আরও পড়ুন:
এত সূক্ষ্মভাবে সেই বিল পালটানো হত যে, কেউ বুঝতেও পারতেন না সেগুলি জাল বিদ্যুতের বিল। এদিকে, বৃদ্ধ আরশাদকে এতটাই বিশ্বাস করতেন যে, বিলের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি থাকা সত্ত্বেও তিনি খোঁজখবর করেননি। বরং বিদ্যুতের বেশি বিল আসা নিয়ে কখনও অভিযুক্ত যুবক বৃদ্ধের সামনে দুঃখপ্রকাশ, আবার কখনও বা বিদ্যুৎ সংস্থার মুণ্ডপাত করত। সম্প্রতি কয়েকটি বিল নিয়ে বৃদ্ধের পরিবারের লোকেদের সন্দেহ হয়। তাঁরা সেগুলি নিয়ে বিদ্যুৎ সংস্থার দপ্তরে গিয়ে কর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। কেন এত বেশি বিদ্যুতের বিল আসছে, সেই সম্পর্কে তাঁদের প্রশ্ন করতে পুরনো বিল খতিয়ে দেখা হয়। আসল বিলে টাকার পরিমাণ দেখেই পরিবারের লোকেরা হতবাক। তাঁদের দাবি, ভুয়ো বিদ্যুতের বিলে আট বছরে ১৮ লাখ টাকা হাতিয়েছে অভিযুক্ত। এর পরই বৃদ্ধ নারকেলডাঙা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ আধিকারিকরা তদন্ত শুরু করার পর আরশাদ কলকাতা থেকে পালানোর চেষ্টা করে। যদিও তার আগেই সে ধরা পড়ে পুলিশের হাতে। সে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য বিল জমা দেওয়ার পরিষেবার নাম করে কতজনের টাকা হাতিয়েছে, তা জানার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সর্বশেষ খবর
-
মানতের মেহেন্দি পরলেই বিয়ে! জয়পুরের মন্দিরে উপচে পড়ল ভিড়, তিন ঘণ্টায় শেষ ৩৫০০ কেজি
-
বিসিসিআই সুপারিশ মনে করিয়ে ফের সিএবিতে চিঠি জেলাশাসকদের, পিছিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন?
-
ক্রিমের পরেও শুষ্ক ত্বক? পুজোর আগেই কাজে লাগান কাপুরকন্যার ঘরোয়া টোটকা
-
এখনই জেলায় মিড ডে মিলের দায়িত্বে নয় ইসকন! আগের ব্যবস্থাতেই খাবার পাবে পড়ুয়ারা
-
টিম ইন্ডিয়ায় ফের চোটের ধাক্কা! আফগান সিরিজ থেকে বাদ তারকা ক্রিকেটার, সংশয়ে এশিয়াডও