এসআইআর যেন বঙ্গ বিজেপির শাঁখের করাত। নিজেরাই জোরালোভাবে SIR সমর্থন করার পর এখন নিজেরাই সেই প্রক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ। রাজ্যের ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ফের সরব হল রাজ্য বিজেপি। নির্বাচন কমিশনকে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর হুঁশিয়ারি, এভাবে এসআইআর হলে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হতে দেওয়া যাবে না। এসআইআর প্রক্রিয়াকে কার্যত ‘অর্থহীন’ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।
শমীকের অভিযোগ, “কমিশনের দায়িত্ব ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা দেওয়ার। যখন এই পদ্ধতি চলছে দেখা যাচ্ছে ফর্ম ৭ অর্থাৎ ভোটারের নামে কোনও অভিযোগ থাকলে সব রাজনৈতিক দল বিরোধিতা করতে পারে। আমরাও করছি। বিএলও-সহ বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরা বিজেপির বিএলএ-দের কাছ থেকে ফর্ম-৭ জমা নিতে অস্বীকার করছেন। বিএলও-রা বলছে উপর থেকে নির্দেশ নেই। উপরটা কে?’’ শমীকের কথায়, এটা দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সব কেন্দ্রে একই ঘটনা। বহু জায়গায় আমাদের কর্মীরা ধরনা দিচ্ছে। স্ক্রুটিনির পর অবজেকশন দিতে যাচ্ছে নিচ্ছে না। এভাবে চললে আমরা নির্বাচন হতে দেব না। কমিশনের কাছে দাবি এই প্রক্রিয়া আরও সরল করুন।’’
কমিশনকে তোপ দেগে শমীক বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা। পশ্চিমবঙ্গবাসীকে একটি বিশুদ্ধ, ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা উপহার দেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।’’ তাঁর দাবি, ‘‘মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বলছি, দিল্লিতে বসে থেকে হবে না। আপনি পশ্চিমবঙ্গে আসুন। এখানে থেকে এসআইআর প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ভাবে শেষ হওয়া নিশ্চিত করুন।’’
শমীকের বক্তব্য, ‘‘মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বলছি, দিল্লিতে বসে থেকে হবে না। আপনি পশ্চিমবঙ্গে আসুন।”
এসআইআর আবহে এবার কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। অভিযোগের কেন্দ্রে, রাজ্যের ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রে আদৌ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর সংশয়। সেই কারণে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে নতুন করে সমীক্ষা করানোর আর্জি জানিয়েছে বিজেপি। মঙ্গলবার হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির শুরুতেই আদালতের প্রশ্নে নতুন মাত্রা যোগ হয়। বিচারপতিরা জানতে চান, রাজ্যের সব বুথে ১০০ শতাংশ নিরাপত্তা চাওয়ার কারণ কী? আদতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা নেই বিজেপির? আদালতের এই প্রশ্নেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, মামলার মূলে রয়েছে কমিশনের ভূমিকা নিয়েই পরোক্ষ সন্দেহ।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব সিপিএমও। এসআইআর’র শুনানি পর্বে নোটিশ দেওয়ার মাপকাঠি কী? কিসের ভিত্তিতে বলা হচ্ছে ‘আনম্যাপড’ বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি’? মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রশ্ন তুলেছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। যে যে যুক্তিতে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে তার প্রতিটির স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি কমিশনের কাছে তুলেছেন তিনি। এসআইআর প্রক্রিয়ায় বেনিয়ম ও শুনানির নামে মানুষকে হেনস্তার প্রতিবাদে প্রতিটি ব্লকে বিক্ষোভ সভার ডাক দিয়েছে সিপিএম। বিডিও অফিস ঘেরাও অভিযান হবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট, হরমুজ হাহাকার কাটিয়ে মিলবে জ্বালানি সমাধান?
-
প্রয়াত পদ্মশ্রী সাহিত্যিক রবিলাল টুডু, রোগভোগের পর না ফেরার দেশে ‘বীর বীরসা’র স্রষ্টা
-
বিশ্বকাপের আগে ‘অমানবিক’ ফিফা! দর্শকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে এই সিদ্ধান্তে
-
দাউদ ইব্রাহিমের হাড়হিম হুমকি, ‘তোর খেলা শেষ’, আইপিএলের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শোনালেন ললিত
-
ভেঙে খানখান সাধের দল! ‘বিদ্রোহী’দের ফেরাতে জনে জনে ফোন করছেন মমতা