বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। সেই দ্বন্দ্বের জল গড়াল রাজ্য বিধানসভায়। সোমবার গুন্ডাদমন বিল নিয়ে কোন পক্ষ বলবে, তা নিয়ে বাক্ তরজায় জড়াল দুই পক্ষ। আর তা নিয়ে খোঁচা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “সিপিএমের আমলে রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের আমদানি। তৃণমূলের সময় তা আরও বেড়েছেন। আর সে কারণেই আপনার হেরেছেন। শুধু হারা নয়, আপনাদের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাই আপনারা আজ বিরোধী আসনে। আপনারা শক্তপোক্ত অপোজিশনও নন। কেউ বেরোচ্ছেন, কেউ জামা ধরে টানছেন। কেউ বলছেন আমি তৃণমূল। আরেকজন বলছেন ওরা তো ল্যাম্পপোস্ট। তাই আপনাদের এই দশা।”
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, বিধানসভার অধিবেশনে বিল নিয়ে আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করা হয়। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোন কোন বিধায়ক বলবেন, তার তালিকা বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে পাঠানো হয়। বিরোধী দলের মুখ্য সচেতকের সচিবালয় থেকে তা জমা দেওয়া হয়। ঋতব্রত শিবিরের ওই তালিকায় ‘কালীঘাটপন্থী’ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম রাখা হয়। সূচি অনুযায়ী বলতে ওঠেন তিনি। সেই সময় নিজের দলের পরিচয় দিতে গিয়ে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ বলেন। আর তারপরই শাসক শিবিরের বিধায়করা হই হট্টগোল শুরু করেন। তারপরই এক মন্ত্রী বলেন, “নিজেদের ঘরের ঝামেলা আগে নিজেদের ঘরে গিয়ে মেটান, বিধানসভার সময় নষ্ট করবেন না।” কেউ কেউ হইহই করে ওঠেন, “ওটা আর সর্বভারতীয় দল নেই, ওটার নাম এখন কালীঘাট তৃণমূল।”
এরপর পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেন, “আপনি এই সদনে দীর্ঘদিনের এবং প্রবীণ সদস্য। বিধানসভার সমস্ত নিয়মকানুন আপনার নখদর্পণে। আপনি নিশ্চয়ই জানেন বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান যে তালিকা জমা দেন, সেই অনুযায়ী স্পিকারের দপ্তর থেকে বক্তাদের নাম ঘোষণা করা হয়। এখানে শাসকদলের বা সরকারের কিছু করার বা হস্তক্ষেপ করার এক্তিয়ার নেই। আপনার যদি দলের নাম বা তালিকা নিয়ে কোনও আপত্তি থাকে, তবে আপনি বরং এই বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলের মুখ্য সচেতকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন।” এরপর বিধানসভার স্পিকার শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বক্তব্য রাখতে বলেন। তবে রাজি হননি বর্ষীয়ান নেতা। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ শোভনদেবকে তাঁর বক্তব্য রাখতে অনুরোধ করেন। যদিও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি বক্তব্য রাখতে অস্বীকার করেন। এরপর বিধায়ক তথা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বক্তব্য রাখেন। পরে নিজের বক্তব্যে তৃণমূলের দুই পক্ষের দড়ি টানাটানি নিয়ে খোঁচা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সামুরাই সূর্যাস্ত, শিষ্য জাপানকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় গুরু ব্রাজিল
-
‘তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি নেই’, বঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক কংগ্রেস নেতা বেনুগোপালের
-
এবছরই দেশে ফেরার ঘোষণা হাসিনার, কী বলল ঢাকা?
-
‘বিয়ে করতে জেলে যাচ্ছি’, টোপর পরিয়ে ‘জামাই আদর’, তৃণমূল কাউন্সিলরকে ঘিরে জনরোষ!
-
বাড়বে স্ক্রিনের সংখ্যা! ভারতীয় সিনে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতিতে একগুচ্ছ ঘোষণা কেন্দ্রের