অগ্নিপরীক্ষার মুখে তৃণমূল কংগ্রেস! দলের প্রতীক থেকে তহবিল, পার্টি অফিস – কার দখলে থাকবে, তা জানতে আর মাত্র কিছুক্ষণের অপেক্ষা। সোমবার বিকেলে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে নিজেদের নথি পেশ করবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালীঘাট তৃণমূল’ ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ‘আসল’ তৃণমূল। দলের রাশ কাদের হাতে? প্রতীক ধরে রাখতে পারবে কারা? এমনই নানা টেনশন নিয়ে নিজেদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সারছে দুই শিবির। তবে বেশি চাপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের হাতেই এখন তৃণমূলের ভবিষ্যৎ।
সূত্রের খবর, কালীঘাট শিবিরের তরফে আজই দিল্লি রওনা হয়েছেন ডেরেক ও ব্রায়েন। ঋতব্রত শিবিরও নথি নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারছে। প্রতীক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আর আত্মবিশ্বাসী নন। জ্ঞানেশ কুমার মমতার হাত থেকে প্রতীক কেড়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা। অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবির প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জ্ঞানেশ কুমারের উপরই ছেড়েছে। তাঁরা যাবতীয় প্রমাণ সংগ্রহ করে কমিশনে পাঠাতে প্রস্তুত। এরপর প্রমাণ দেখে সিদ্ধান্ত যা নেওয়ার, কমিশন নেবে বলে তাঁদের মত।
আরও পড়ুন:
ছাব্বিশের ভোটে ভরাডুবির পর ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। পরিষদীয় ও সংসদীয় দলে চরম ‘বিদ্রোহ’! সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২১ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে চলে গিয়েছেন। লোকসভায় তাঁরা আলাদা আসন চান। অন্যদিকে, পরিষদীয় দলেও ভাঙন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৫ জন বিধায়কই আর কালীঘাটের নেতৃত্ব মেনে নেননি। তাঁরা নিজেদের মতো জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করেছেন। দুই শিবিরই নিজেদের রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণ হাতে রাখতে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল। তার ভিত্তিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার দু’পক্ষের কাছে নিজেদের দাবির পক্ষে বিশেষত সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ চান। তৃণমূলের দুই শিবিরকে একই বয়ানে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সোমবার বিকেলে তার জবাব দেওয়ার শেষ সময়সীমা।
সূত্রের খবর, কালীঘাট শিবিরের তরফে আজই দিল্লি রওনা হয়েছেন ডেরেক ও ব্রায়েন। ঋতব্রত শিবিরও নথি নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারছে। প্রতীক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে আর আত্মবিশ্বাসী নন। জ্ঞানেশ কুমার মমতার হাত থেকে প্রতীক কেড়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা। শনিবার ফেসবুক লাইভে সেই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করে মমতা বলেছিলেন, ”প্রতীক কেড়ে নিয়েও কিছু করতে পারবে না। আমি যদি ঘাসফুল প্রতীক গলায় ঝুলিয়ে রাস্তায় বেরই, আটকাতে পারবে? প্রতীক সেটাই হয়, যেটা সাধারণ মানুষের মনে থেকে যায়।” তাই প্রতীক না থাকলে কালীঘাট নেতৃত্বের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবির প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জ্ঞানেশ কুমারের উপরই ছেড়েছে। তাঁরা যাবতীয় প্রমাণ সংগ্রহ করে কমিশনে পাঠাতে প্রস্তুত। এরপর প্রমাণ দেখে সিদ্ধান্ত যা নেওয়ার, কমিশন নেবে বলে তাঁদের মত। একইসঙ্গে পার্টি অফিস নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে ‘আসল’ তৃণমূলের। শুক্রবার তৃণমূল ভবন দখলের পর সেই বাড়ির চুক্তিপত্র খতিয়ে দেখছে ঋতব্রত শিবির। এই চুক্তিপত্র ফিরহাদ হাকিমের নামে ছিল। যেহেতু তিনি এখন ঋতব্রত শিবিরের, তাই চুক্তিপত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে তাঁরা আলোচনা করবেন। যদি মালিকপক্ষ চায় তাহলে নবীকরণ হবে, না হলে আইনি চুক্তি ছাড়া বাড়ি দখল তারা করে রাখবে না বলে দাবি। আপাতত সেই বাড়িতে হলুদ রং করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
টোটোতে অ্যাম্বুল্যান্সের ধাক্কা, চালকের হাত কেটে পড়ে গেল রাস্তায়! ভয়ংকর কাণ্ড দুর্গাপুরে
-
বদ্রীনাথে অনুদান চুরির তদন্তে চার সদস্যের কমিটি, সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব
-
বাথরুমে লুকিয়ে দাড়ি কাটছেন স্ত্রী! ৩ বছর সংসারের পর এ দৃশ্যে স্তম্ভিত স্বামী, তারপর…
-
বারুইপুরের নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা মমতার, বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন নিয়ে ক্ষোভ
-
কেন বাতিল হল অন্নপূর্ণার আবেদন? খতিয়ে দেখতে বাড়ি বাড়ি যাবেন সরকারি কর্মীরা, আশ্বাস মন্ত্রীর