স্বদেশ তাঁকে ঠাঁই দেয়নি। ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছিল। এ জন্মে আবার বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন বলে আর বিশ্বাস রাখেন না বিশ্বখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। কিন্তু তাই বলে মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা, উদ্বেগ – এসব তো অনুভূতি উধাও হয়ে যায় না। যিনি যত সংবেদনশীল, তিনি তত বেশি যন্ত্রণাক্লিষ্ট। তসলিমা নাসরিনও তার ব্যতিক্রম নন। দূরে থেকেই প্রতি মুহূর্তে তাঁর চেতনায়, মনজুড়ে বসে আছে বাংলাদেশ। মৌলবাদের চাপে অন্ধকারাচ্ছন্ন স্বদেশ আজ কতটা এগোল? এই চিন্তা তাঁকে ঘিরে রাখে। তসলিমা এখন বসে তাঁর আরেক প্রিয় শহর কলকাতায়। রবিবার এখান থেকেই বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বললেন। হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভু দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দি। বিশ্বের সমস্ত প্রগতিশীল মানুষের হয়ে তাঁর আবেদন, ‘চিন্ময় প্রভুর মুক্তি চাই।’
চিন্ময় প্রভুকে নিয়ে আগেও তসলিমা মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন। আর কলকাতায় বসে বললেন, ‘‘ইউনুসের জমানা হোক বা আজকের তারেক রহমানের জমানা, অন্ধকার থেকে বাংলাদেশ বেরতে পারেনি। মৌলবাদীদের বাড়বাড়ন্ত এখনও আছে। এখনও নারীরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। বাবার সম্পত্তির উপর তাঁদের অধিকার নেই। সংখ্যালঘু হিন্দুরা নিপীড়িত হচ্ছেন, তাঁদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই। বাংলাদেশের বাইরে ভারত বা পৃথিবীর যে কোনও দেশে যে কোনও প্রগতিশীল বাংলাদেশিদের হয়ে আমার দাবি, হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভুর মুক্তি চাই। তাঁর সঙ্গে অন্যায় হয়েছে।”
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশে সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র তথা হিন্দু সমাজের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের জেলবন্দির বিষয়টি অন্যতম কলঙ্কিত অধ্যায়। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর সেখানে সংখ্যালঘুরা বিপন্ন হয়ে পড়েন। অন্তর্বর্তী মহম্মদ ইউনুসের আমলে নিরাপত্তা প্রায় শিকেয় ওঠে। এমনই পরিস্থিতিতে সে বছরের নভেম্বর মাসে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে হত্যামামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় চিন্ময় প্রভুকে। দীর্ঘদিন বিনা বিচারে তিনি জেলবন্দি থাকেন। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার জামিন খারিজ হয়। আরও মামলা চাপানো হয় তাঁর ঘাড়ে। বিচারের নামে প্রহসনের চূড়ান্ত নজির তৈরি হয় চিন্ময় প্রভুকে ঘিরে। এটি আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় পড়ে যায়।
সেই চিন্ময় প্রভুকে নিয়ে আগেও তসলিমা মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন। আর কলকাতায় বসে বললেন, ‘‘ইউনুসের জমানা হোক বা আজকের তারেক রহমানের জমানা, অন্ধকার থেকে বাংলাদেশ বেরতে পারেনি। মৌলবাদীদের বাড়বাড়ন্ত এখনও আছে। এখনও নারীরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। বাবার সম্পত্তির উপর তাঁদের অধিকার নেই। সংখ্যালঘু হিন্দুরা নিপীড়িত হচ্ছেন, তাঁদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই। বাংলাদেশের বাইরে ভারত বা পৃথিবীর যে কোনও দেশে যে কোনও প্রগতিশীল বাংলাদেশিদের হয়ে আমার দাবি, হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভুর মুক্তি চাই। তাঁর সঙ্গে অন্যায় হয়েছে।”
২০২৪ সালে যে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছিল, তাকে সাফল্য বলে বারবার মহিমান্বিত করা হলেও তসলিমা একমত নন। বাংলা অ্যাকাডেমির সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর মত, ‘‘আমার মনে হয়, ছাত্র সমাজ আমাদের বোকা বানিয়েছিল। ওরা চেয়েছিল, কোটা উঠে যাক। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তো দেখলাম, ওরা নিজেদের ঐক্য রাখতে পারেনি। এর নেপথ্যে জেহাদিরা ছিল। ছাত্ররা আন্দোলন করলে সবসময়ে পরিণতি ভালো হয়েছে, এমনটা নয়।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
দার্জিলিঙে রোপওয়ে, সুন্দরবনে প্রমোদতরী! পর্যটনকে ঢেলে সাজাতে মাস্টার প্ল্যান রাজ্যের
-
আচমকা মস্কোয় অবতরণ করল মার্কিন সেনার বিমান! ঘনাচ্ছে রহস্য, কী বলল ক্রেমলিন?
-
নজরে মহিলা ও যুবসমাজ, মোদির জন্মদিন উপলক্ষে একমাসের মেগা জনসংযোগ কর্মসূচি বঙ্গ বিজেপির
-
‘দুর্নীতিমুক্ত’ পুজোয় কোপ বাজেটে, উত্তর থেকে দক্ষিণ, ‘ছোট’ হচ্ছে কলকাতার কোন বড় পুজো?
-
এসআইআরে সেরা বিএলও, এবার ৭ দিনেই জনগণনার কাজ শেষ করলেন কালনার শিক্ষক