গত দু’বছর ধরে ভুগছিলেন বুক জ্বালায়। যাই খেতেন হজম হত না। অ্যাসিড উঠে আসত গলা পর্যন্ত। গণ্ডা গণ্ডা অ্যাসিডিটির ওষুধ খেয়েও কাজ হয়নি। আটান্ন বছরের প্রৌঢ়া নমিতা হালদারের (নাম পরিবর্তিত) স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখা গেল বুকের মধ্যে পাকস্থলী!
এম আর বাঙুর হাসপাতালে বিশিষ্ট সার্জন ডা. মাখনলাল সাহা জানিয়েছেন, হাইয়াটাস হার্নিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন প্রৌঢ়া। এই অসুখে পাকস্থলীর উপরের অংশ ডায়াফ্রামের স্বাভাবিক ছিদ্র দিয়ে বুকের মধ্যে উঠে আসে। আপার জিআই এন্ডোস্কোপিতে ধরা পড়ে অসুখ। দেখা যায়, পেল্লায় আকারের একটা হাইয়াটাস হার্নিয়া। রোগীর পিএইচ মনিটরিং, ইসোফেগাল ম্যানোমেট্রি করে দেখা যায়, ডায়াফ্রামের ছিদ্র দিয়ে পাকস্থলী উঠে এসেছে বুকের মধ্যে। যার জেরে কোনও খাবার খেয়ে তিষ্ঠোতে পারছেন না। অ্যাসিডিটির কারণ? স্বাভাবিকভাবে খাদ্যনালি এবং পাকস্থলীর সংযোগস্থলে একটি ভালভের মতো অংশ থাকে। যা অ্যাসিডকে উপরে উঠতে বাধা দেয়। হাইয়াটাস হার্নিয়ায় এই ভালভের কার্যকারিতা বিঘ্নিত হয়। ফলে পাকস্থলীর অ্যাসিড উঠে আসে খাদ্যনালিতে।
তিনটে ধাপে হয়েছে রোগীর অস্ত্রোপচার। প্রথম ধাপে ‘ল্যাপরোস্কোপিক রিডাকশন অফ স্লাইডিং হাইয়াটাস’। অর্থাৎ বুকে উঠে যাওয়া পাকস্থলীকে পেটের স্বাভাবিক জায়গায় নামিয়ে আনা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ডায়াফ্রামের বড় হয়ে যাওয়া ছিদ্রটি সেলাই করে ছোট করা হয়েছে। তৃতীয় এবং শেষ ধাপে একটি ভালভ তৈরি করা হয়েছে যাতে অ্যাসিড আর ভবিষ্যতে উপরে আঠে আসতে না পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতিকে বলা হয় নিসেন ফান্ডোপ্লিকেশন। যেখানে খাদ্যনালির নিচের অংশের চারপাশে ৩৬০ ডিগ্রি পেঁচিয়ে একটি ভালভ তৈরি করা হয়। সমগ্র অস্ত্রোপচারে ডা. মাখনলাল সাহার সঙ্গে ছিলেন ডা. ঋষি শ্রীবাস্তব, ডা. সোহম। অ্যানাস্থেশিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. বি এন দাস।
সর্বশেষ খবর
-
চুরির ‘অপবাদে’ বালককে হাত-পা বেঁধে মার, বস্তায় ভরে নদীতে ফেলার চেষ্টা!
-
সেবাশ্রয়ের ‘ভুলে’ পা হারানো মহিলাকে ডেকে পাঠাল স্বাস্থ্যভবন, অভিষেক ও পিএ সুমিতের বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর!
-
টিম ইন্ডিয়ায় টালমাটাল পরিস্থিতি, গম্ভীরের কোচিং স্টাফ ছাড়ছেন দুই সহযোগী!
-
মাত্র ১৭-তেই নিখোঁজ, এক যুগ পর সোনার পদক নিয়ে ঘরে ফিরল কোচবিহারের মূক ও বধির মেয়ে
-
চললে শীত, বন্ধ হলেই গুমোট! বর্ষাকালে কীভাবে চালালে আরামদায়ক হবে এসি? বাঁচবে বিলও